ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলায় বিশখালী নদীতে অভিযান চালিয়ে প্রায় ১০ হাজার মিটার অবৈধ ইলিশ ধরার জাল ও কারেন্ট জাল জব্দ করেছে প্রশাসন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের উপস্থিতিতে জব্দ করা এসব জাল উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে প্রকাশ্যে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দিনভর কাঁঠালিয়া উপজেলার বিশখালী নদী ও আশপাশের বিভিন্ন স্থানে উপজেলা মৎস্য দপ্তর এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করেন।
উপজেলা মৎস্য দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, মা ইলিশের প্রজনন সুরক্ষা এবং দেশীয় প্রজাতির মাছের সম্পদ সংরক্ষণে সরকার ঘোষিত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে এ অভিযান চালানো হয়। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে নদীর বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালিয়ে অবৈধ জালগুলো উদ্ধার করা হয়।
পরে বিকেলে উপজেলা পরিষদ চত্বরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মকবুল হোসেন। তাঁর উপস্থিতিতে জব্দ করা জালগুলো আগুনে পুড়িয়ে নষ্ট করা হয়।
মৎস্য সম্পদ রক্ষায় সরকারের ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী, গত ৮ অক্টোবর থেকে মা ইলিশ সংরক্ষণে বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা ও তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
অভিযান প্রসঙ্গে কাঁঠালিয়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাহিদা আক্তার বলেন, দেশীয় মৎস্য সম্পদ রক্ষায় প্রশাসনের অবস্থান শূন্য সহনশীলতার। নিষিদ্ধ কারেন্ট জালসহ অবৈধ জালের ব্যবহার বন্ধে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। মা ইলিশের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পুরো অভিযান চলাকালে এ ধরনের কঠোর নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।
জব্দ করা জাল প্রকাশ্যে ধ্বংসের সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মৎস্য কর্মকর্তা ছাড়াও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আখতার হোসেন নিজাম মিরবহর, দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. জাকির হোসেন কবির হাওলাদার, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শাহিন হোসেন, উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মো. কিশোর মাহমুদ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক মো. হাছিব ভুট্টো আকন, মরিচবুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. লিয়াকত আলী জমাদ্দার এবং ১ নম্বর চেঁচরী রামপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো. রাজিব খান।
অভিযান পরিচালনা ও জাল ধ্বংসের পুরো কার্যক্রমে স্থানীয় মৎস্য দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
এই বাংলা/এমএস
