দুর্গাপুজোই বলুন বা শারদোৎসব – আসলে এসময়ে তো স্বর্গ থেকে মর্তে আসে বাড়ির মেয়েই। তার আদর-আপ্যায়ণে কোনও ত্রুটি নৈব নৈব চ! সকাল থেকে রাত, ঠিক যা যা আমাদের নিত্যনৈমিত্তিক কাজ, এই কটাদিন উমাও তার শরিক হন। তার অংশ হিসেবে প্রতি সকালে মা দুর্গাকে বেলগাছের ডাল ও মাটির ভাঁড় ভর্তি জল দেওয়া হয় মুখ ধোয়ার জন্য। হাওড়ার আন্দুলের ভট্টাচার্য বাড়ির পুজোর বয়স ৪২২ বছর। আজও ঐতিহ্য আর রীতিনীতি মেনে দুর্গাপুজো হয়। সেই রীতি মেনে ষষ্ঠীতে নয়, পঞ্চমীতেই হয়ে গেল দেবীর বোধন।
রীতি মেনে দেবী দুর্গাকে রোজ সকালে ব্রাশ করে মুখ ধোয়ার জন্য দেওয়া হয় বেলগাছের ডাল ও মাটির ভাঁড়ে জল। সপ্তমী ও অষ্টমীতে ভোগে ১৪ রকম ভাজা, খিচুড়ির সঙ্গে দেওয়া হয় মাছ। নবমীর ভোগ মাংস। আর দশমীতে পান্তাভাত খাইয়ে মা দুর্গাকে বিদায় জানান পরিবারের সদস্যরা। হাওড়ার আন্দুলের দুইল্যা গ্রামের ভট্টাচার্য বাড়ির দুর্গাপুজো এ বছর ৪২২ বছরে পদার্পণ করেছে। জন্মাষ্টমীর দিন দুর্গা ঠাকুরের কাঠামোতে মাটি লেপে পুজো শুরু হয়। পুজো হয় পুরোনো বাড়ির ঠাকুর দালানে। অষ্টমীতে সন্ধিপুজোর সময় ও নবমীতে দেওয়া হয় আখ ও চাল কুমড়ো বলি। ‘বড় ব্রাহ্মণদের পুজো’ নামে খ্যাত এই বাড়ির পুজোতে গ্রামের সব মানুষ অংশ নেন।
পরিবারের সদস্যরা জানালেন, তাঁদের মা খুব জাগ্রত। মায়ের কাছে কোনও মনোবাঞ্ছা নিয়ে এলে তা পূরণ করেন। সেজন্য পাড়া বা গ্রামের প্রচুর লোকেরা তাঁদের পুজোতে এসে অংশ নেন। দশমীতে পান্তাভাত খাইয়ে মাকে বিদায় জানানোর পাশাপাশি সিঁদুর খেলার রীতিও রয়েছে আন্দুলের এই ভট্টাচার্য পরিবারে। পরিবারের সদস্য দুর্গাপ্রসন্ন ভট্টাচার্য জানালেন, তাঁদের পূর্বপুরুষেরা বর্ধমানের রাজাদের পুরোহিত ছিলেন। বর্ধমানের রাজারা তাঁদের পূর্বপুরুষদের এই আন্দুলে থাকার জমি দিয়েছিলেন। সেই সূত্রেই তাঁদের পূর্বপুরুষদের এই গ্রামে আগমন। শুধু তাই নয়, ভট্টাচার্য বাড়ির পূর্বপুরুষদের উপাধি ছিল চক্রবর্তী। সেই চক্রবর্তী উপাধি পালটে পরবর্তীকালে তাঁরা ভট্টাচার্য হন।

তারপর থেকেই শুরু হয় ভট্টাচার্য বাড়ির দুর্গাপুজো। এই পুজোর অন্যতম বিশেষত্ব, সপ্তমী থেকে প্রতি সকালে দেবীকে দাঁত মাজার জন্য বেলগাছের ডাল ও একটি ভাঁড়ে জল দেওয়া হয়। পুজোর ক’টা দিন প্রতিদিনই দেবীকে পায়েস রান্না করে দেওয়া হয়। প্রাচীন রীতি মেনে আজও এই ভট্টাচার্য বাড়ির পুজো করে চলেছেন পরিবারের সদস্যরা।
