একটির পর একটি চাকরির পরীক্ষায় ব্যর্থ হচ্ছিলেন পিংকি রানী মজুমদার। ৩৬টি চাকরির পরীক্ষায় প্রিলিমিনারিতে উত্তীর্ণ হতে পারেননি। তবে হাল ছাড়েননি তিনি। তাঁর কাছে ‘NO’ মানেই ছিল ‘Next Opportunity’। অবশেষে ৩৭তম চাকরির পরীক্ষায় প্রথমবার প্রিলিমিনারি পাস করেন। এরপর একে একে বিভিন্ন পরীক্ষায় সফল হতে থাকেন।
কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার জাগুরিয়া গ্রামের পিংকি ৪১তম বিসিএসে বন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। তাঁর বাবা দুলাল চন্দ্র মজুমদার দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন এবং মা মমতা রানী মজুমদার গৃহিণী। বরুড়ায় বেড়ে ওঠা পিংকি গালিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা শেষে বরুড়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০০৬ সালে এসএসসি এবং বরুড়া শহীদ স্মৃতি সরকারি কলেজ থেকে ২০০৮ সালে এইচএসসি পাস করেন।
পরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ থেকে ২০১৫ সালে স্নাতকে প্রথম শ্রেণিতে তৃতীয় এবং ২০১৬ সালে স্নাতকোত্তরে প্রথম শ্রেণিতে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে চট্টগ্রাম, জাহাঙ্গীরনগর, জগন্নাথ ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক পদে ভাইভা দিলেও চাকরি হয়নি। এরপর বিসিএস ক্যাডার হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
৩৮তম বিসিএসে প্রিলিমিনারি পাস করে নন-ক্যাডার তালিকায় জায়গা পান পিংকি। তবে ক্যাডার হতে না পারায় চেষ্টা চালিয়ে যান। শেষ পর্যন্ত ৪১তম বিসিএসে তাঁর স্বপ্ন পূরণ হয়। চাকরির প্রস্তুতির পাশাপাশি বিকল্প পথ হিসেবে কুমিল্লা ল’ কলেজ থেকে এলএলবিও সম্পন্ন করেন।
পিংকি মনে করেন, বিসিএস মূলত ধৈর্যের পরীক্ষা। তাঁর পরামর্শ, শুধু বিসিএসকে লক্ষ্য না রেখে বিকল্প পথও রাখা উচিত। নিয়মিত পড়াশোনা ও ধারাবাহিক প্রস্তুতির ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। নিজের বিসিএস প্রস্তুতিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইতিবাচক ব্যবহারের কথাও জানিয়েছেন।
বন ক্যাডারে যোগ দিয়ে দেশের বনজ সম্পদ রক্ষা ও উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়ন রোধে অবদান রাখতে চান পিংকি রানী মজুমদার।
