ছবি: খবরের কাগজ
-->চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের ওপর হামলা, গাড়ি ভাঙচুর ও অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তারদের নাম জানা যায়নি।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে উপজেলার কালিয়াইশ ইউনিয়নের মীরনগর ও রসূলাবাদ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে শনিবার সকালে সড়ক পরিবহন আইনের পাশাপাশি নাশকতা, সরকারি কাজে বাধা ও সরকারি সম্পদ ক্ষতিসাধনসহ বিভিন্ন অভিযোগে দুটি মামলা করা হয়েছে।
এর আগে, শুক্রবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের কালিয়াইশ ইউনিয়নের নয়াখালের উত্তর পাশে ডিবিএম ইটভাটা এলাকায় বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে বাবা দেলোয়ার হোসেন (৩২) ও তার দুই বছর বয়সি মেয়ে ওয়াসিফার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় একই পরিবারের আরও চারজন আহত হন।
দুর্ঘটনার পর উত্তেজিত লোকজন ঘাতক বাসটিতে আগুন দিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে প্রায় দুই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। সড়কের উভয় পাশে প্রায় ১০ কিলোমিটারজুড়ে যানজট সৃষ্টি হয়, দুর্ভোগে পড়েন হাজারো যাত্রী।
এ সময় ঘটনাস্থলে যাওয়া হাইওয়ে পুলিশ বাধার মুখে পড়ে। পরে সাতকানিয়া থানা পুলিশের উপ পরিদর্শক (এসআই) জাহেদের নেতৃত্বে একটি টহল দল ঘটনাস্থলে গেলে তাদের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর এবং অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এমনকি আগুন নেভাতে যাওয়া ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদেরও বাধা দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। এতে এক পুলিশ সদস্য আহত হন বলে জানা গেছে।
পরে সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকীর নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এরপর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
শুক্রবার রাতে থানা পুলিশের দায়িত্বে থাকা এসআই জাহেদ বলেন, ‘দুর্ঘটনার খবর পেয়ে হতাহতদের উদ্ধারের জন্য আমরা তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে যাই। পথিমধ্যে দুষ্কৃতিকারী আমাদের ওপর হামলার পাশাপাশি গাড়ি ভাঙচুর করে। এতে আমাদের গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’
এদিকে, দোহাজারী হাইওয়ে থানা পুলিশের বিরুদ্ধে মহাসড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে টোকেন বাণিজ্যের অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী জানান, এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েকজন আসামিকে আমরা গ্রেপ্তার করেছি। পরবর্তীতে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হবে।
আরিফুল ইসলাম/তামান্না রুপা/
