কখনো কি ভেবে দেখেছেন, একটি কথা বলার আগে আল্লাহ তাআলা কেন পরপর সাতবার শপথ করেছেন? কী এমন গুরুত্বপূর্ণ সেই কথা, যার গুরুত্ব বোঝাতে সূর্য, চাঁদ, দিন, রাত, আসমান, জমিন ও মানুষের আত্মার শপথ করেছেন মহান আল্লাহ? অবাক করার বিষয় হলো, সেই কথাটি জড়িয়ে আছে আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় এক সত্যের সঙ্গে, সফলতা ও ব্যর্থতার সঙ্গে! কী সেই বার্তা, যা জানিয়ে দেয় মানুষের প্রকৃত সফলতা কোথায়?
কথাটি রয়েছে পবিত্র কোরআনের ৩০তম পারার সূরা শামসে। এই সূরার শুরুতে আল্লাহ তাআলা সূর্য, চন্দ্র, দিন, রাত, আসমান, জমিন এবং মানবাত্মার কথা উল্লেখ করে ধারাবাহিকভাবে শপথ করেছেন। এরপর তুলে ধরেছেন মানুষের জীবনের সফলতা ও ব্যর্থতার একটি গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড।
আল্লাহ তাআলা সূরা শামসের শুরুতে ইরশাদ করেন, শপথ সূর্যের ও তার কিরণের। শপথ চাঁদের, যখন তা সূর্যের পর আসে। শপথ দিনের, যখন তা সূর্যকে প্রকাশ করে। শপথ রাতের, যখন তা সূর্যকে ঢেকে দেয়। শপথ আসমানের এবং যিনি তা নির্মাণ করেছেন, তার। শপথ জমিনের এবং যিনি তা বিস্তৃত করেছেন, তার। আর শপথ নফসের এবং যিনি তাকে সুবিন্যস্ত করেছেন, তার। এরপরই এসেছে সেই গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।
আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই সে সফলকাম হয়েছে, যে নিজেকে পবিত্র করেছে। আর সে ব্যর্থ হয়েছে, যে নিজেকে কলুষিত করেছে।’ [সূরা আশ-শামস, আয়াত: ৯-১০]
অর্থাৎ মানুষের প্রকৃত সফলতা শুধু অর্থ-সম্পদ, ক্ষমতা কিংবা দুনিয়াবি অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং নিজের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করা, অন্যায় থেকে ফিরে আসা এবং আল্লাহর নির্দেশনা অনুযায়ী জীবন গড়াই প্রকৃত সফলতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অন্যদিকে পাপ ও অন্যায়ের মধ্যে ডুবে থেকে আত্মশুদ্ধির চেষ্টা না করা মানুষকে ক্ষতির দিকে নিয়ে যায়।
কথাটি শুনতে সহজ মনে হলেও এর তাৎপর্য অনেক গভীর। কারণ একজন মানুষের জীবনে নিজের ভুল বুঝতে পারা, ভুল থেকে ফিরে আসা এবং চরিত্রকে সুন্দর করে তোলার গুরুত্ব অপরিসীম। আর সূরা শামসের এই আয়াতগুলো সেই আত্মশুদ্ধির কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়।
তাই একজন মুমিনের উচিত নিয়মিত নিজের কাজের হিসাব নেওয়া। কোথায় ভুল হচ্ছে, কারও অধিকার নষ্ট হচ্ছে কি না, আল্লাহর নির্দেশনা থেকে দূরে সরে যাচ্ছি কি না, এসব বিষয়ে সচেতন থাকা। কারণ আত্মসংশোধনের চেষ্টা শুধু ব্যক্তিজীবনকেই সুন্দর করে না, বরং পরকালীন সফলতার পথেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সূরা শামসের এই আয়াতগুলো আমাদের শেখায়, প্রকৃত সফলতা অর্জনের জন্য নিজের ভেতরটাকেও সুন্দর করতে হবে। তাই আসুন, অন্যের ভুল খোঁজার আগে নিজের ভুলগুলো চিহ্নিত করি এবং আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করি।
