জামালপুরের মেলান্দহে চার বছরের প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অনশনে বসেছেন দুই সন্তানের জননী এক নারী। সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর থেকে উপজেলার ৪ নম্বর নাংলা ইউনিয়নের রূপসীহাঁটা গ্রামে প্রেমিক আলী হোসেনের বাড়িতে অবস্থান নেন ওই নারী। আলী হোসেন ওই গ্রামের সুরুজ্জামান শুটকুর ছেলে। এ ঘটনার পর গা-ঢাকা দিয়েছেন তিনি।
ওই নারীর অভিযোগ, বিয়ের আশ্বাসে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলার পাশাপাশি তার কাছ থেকে নিয়মিত টাকা নিতেন প্রেমিক আলী হোসেন। একপর্যায়ে অন্তঃসত্ত্বা হলে প্রেমিকের কথায় গর্ভপাত করান বলেও দাবি করেন তিনি।
ওই নারীর দাবি, গতকাল রোববার (১১ অক্টোবর) একসঙ্গে অবস্থানের পর মায়ের অসুস্থতার কথা বলে চলে যান আলী হোসেন। পরে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে বিয়ের দাবিতে তার বাড়িতে এসে অবস্থান নেন তিনি।
ওই নারীর নাম নুরজাহান। তিনি নারায়ণগঞ্জের একটি পোশাক কারখানায় সুইং অপারেটর হিসেবে কাজ করেন। বাড়ি মেলান্দহ উপজেলার কুলিয়া ইউনিয়নের ভালুকা এলাকায়। বর্তমানে তিনি নানির বাড়ি টুপকার চরে থাকেন। এর আগে মাদারীপুরে তার বিয়ে হয়েছিল। ওই সংসারে তার ১৩ ও ১২ বছর বয়সী দুটি মেয়ে রয়েছে।
নুরজাহান বলেন, প্রায় চার বছর আগে ফেসবুকের মাধ্যমে ২২ বছর বয়সী আলী হোসেনের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পরে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সম্পর্ক চলাকালে পোশাক কারখানায় কাজ করে উপার্জিত টাকা থেকে প্রতি মাসে আলী হোসেনকে তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা করে দিতেন তিনি।
নুরজাহানের দাবি, গত শুক্রবার থেকে রোববার পর্যন্ত তারা মেলান্দহের ডেফলা এলাকায় তার এক ফুফাতো বোনজামাইয়ের বাড়িতে স্বামী-স্ত্রীর মতো একসঙ্গে ছিলেন। এরপর দুপুরে মেলান্দহ উপজেলা পরিষদ এলাকায় এসে মায়ের অসুস্থতার কথা জানান। একপর্যায়ে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়ার কথা বলে সেখান থেকে চলে যান তিনি। এরপর দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে এবং বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন তিনি। এরপর সেখানে রেখে যাওয়া ব্যাগ নেওয়ার জন্য আবার যোগাযোগ হয় তাদের। রাত ১০টা দিকে উপজেলার জিন্নাহ মার্কেটে ব্যাগ নিতে এলে আলী হোসেনকে দেখতে পেয়ে ডাক দেন তিনি। এ সময় স্থানীয় লোকজন তাদের মিটমাটের কথা বলে কৌশলে তাকে সেখান থেকে সরিয়ে দেয়।
নুরজাহান বলেন, ‘সবকিছু জেনেই আমার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছে সে। নিজের উপার্জনের টাকা তাকে দিয়েছি। এখন আমি স্ত্রীর মর্যাদা চাই। আমার মান-সম্মান সব শেষ হয়ে গেছে। আমি তাকে চাই, তাকে ছাড়া যাব না।’
এদিকে নুরজাহান আলী হোসেনের বাড়িতে অবস্থান নেওয়ার পর তার পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বাড়ির আশপাশে উৎসুক লোকজন ভিড় করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা নূর ইসলাম মোজা বলেন, দুপুর থেকে ওই নারী বিয়ের দাবিতে অবস্থান করছেন। একটি ভুল শুধু এক পক্ষ থেকে হয় না, দোষ দুজনেরই থাকতে পারে। মেয়েটির অভিযোগগুলো সত্য হলে ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। বিষয়টি দ্রুত সমাধান হওয়া উচিত।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে আলী হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। তার পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে না থাকায় তাদেরও বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ টি এম মাহমুদুল হক বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ কোনো অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
