উপমহাদেশের প্রখ্যাত বাউলসম্রাট লালন শাহের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে আগামী ১৭ অক্টোবর থেকে ছেঁউড়িয়ার লালন ধামে (আখড়াবাড়ি) তিন দিনব্যাপী স্মরণোৎসব শুরু হতে যাচ্ছে। এ উপলক্ষে মূল মঞ্চের সামনে বাঁশের খুঁটি দিয়ে প্যান্ডেল তৈরি করা হচ্ছে। উৎসবের প্রস্তুতি হিসেবে মাজার প্রাঙ্গণ ও আখড়াবাড়িতে চলছে ঘষামাজা, রংতুলি ও সাজসজ্জার কাজ।
ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সাধু-ভক্তরা আসতে শুরু করেছেন আখড়াবাড়িতে। লালন মেলায় বসতে শুরু করেছে বিভিন্ন ধরনের দোকান।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই লালনধাম উৎসবের আমেজে রূপ ধারণ করবে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাধু, বাউল ও লালনভক্তরা আসতে শুরু করায় প্রতিদিনই ভিড় বাড়ছে। এবার লক্ষাধিক দেশি-বিদেশি ভক্তের আগমন ঘটবে সাঁইজির ধামে— এমনটি আশা করছেন আয়োজকরা।
লালন একাডেমির সভাপতি, কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন হাসান আমাদের সময়কে জানান, লালন তিরোধান দিবসে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাধু, ভক্ত ও দর্শনার্থীরা লালনধামে সমবেত হন। এটি শুধু কুষ্টিয়ার নয়, বাংলাদেশের লোকসংস্কৃতি, মানবিকতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত একটি আয়োজন। তিনি বলেন, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং উৎসবকে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, লালনমাজার এলাকা মাদকমুক্ত করতে গত রবিবার কুষ্টিয়া পুলিশ সুপারের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় অভিযান চালানো হয়। কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিনের তত্ত্বাবধানে পুলিশের একটি দল মেলা চত্বর ও এর আশপাশের সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে ব্যাপক তল্লাশি ও টহল পরিচালনা করা হয়। অভিযানে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের দেহ ও সঙ্গে থাকা ব্যাগ তল্লাশি করা হয়। মেলা ও আখড়া চত্বরে যেন যে কোনো মাদকদ্রব্যের সেবন, কেনাবেচা বা বিস্তার না ঘটে— সে বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করা হয়।
ওসি জামাল উদ্দিন জানান, বাউল সম্রাটের এই আন্তর্জাতিক মানের মিলনমেলা যেন সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত এবং উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে।
আয়োজক কমিটির সদস্য আব্দুর রাজ্জাক বলেন, তিরোধান দিবসের আয়োজনের প্রস্তুতি এখন শেষ পর্যায়ে।
