গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার দারিয়াপুর হাজী ওসমান গনি ডিগ্রি কলেজে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগে আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। কোটি টাকার বাণিজ্যের মাধ্যমে মেধা ও দীর্ঘদিনের বঞ্চনাকে উপেক্ষা করে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
রোববার দুপুরে ‘সচেতন দারিয়াপুরবাসী’র ব্যানারে দারিয়াপুরের তেঁতুলতলা এলাকায় এ কর্মসূচি পালিত হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন ভুক্তভোগী লিলি রানী, ফরিদুল ইসলাম, আপন কুমার, শীতল, মমিন, ওয়াহেদুন্নবী, তহিদুল ইসলাম, সজীব সরকার ও দিলীপ কুমারসহ অনেকে।
বক্তারা অভিযোগ করেন, কলেজটিতে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মেধাবী ও প্রকৃত দাবিদারদের বাদ দিয়ে পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়ে নিয়োগ কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তাঁরা। অবিলম্বে বিতর্কিত নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করা না হলে পুরো জেলায় কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা। মানববন্ধন শেষে আন্দোলনকারীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে স্মারকলিপি জমা দেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৯ অক্টোবর কলেজটিতে বিভিন্ন পদে স্থায়ী নিয়োগের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ওই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় হরিজন সম্প্রদায়ের লিলি রানী নামে এক নারী বাদ পড়েন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি প্রায় ১৫ বছর ধরে কলেজটিতে বিনা বেতনে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করছেন। দীর্ঘদিন কাজ করার পরও তাঁকে স্থায়ী নিয়োগ না দিয়ে অর্থের বিনিময়ে অন্য প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
ভুক্তভোগী লিলি রানী আক্ষেপ করে বলেন, “দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে পেটে পাথর বেঁধে কলেজে কাজ করে গেছি এই আশায় যে একদিন চাকরি হবে। কিন্তু বিনা বেতনে বছরের পর বছর খেটেও আজ আমার ভাগ্যে স্থায়ী চাকরি জোটেনি। টাকার কাছে আমার পরিশ্রম হেরে গেল।”
অন্যদিকে, সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাজী ওসমান গনি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ তোফাজ্জল হোসেন। তিনি দাবি করেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি। সরকারি বিধি ও প্রচলিত নিয়ম মেনেই স্বচ্ছতার সঙ্গে পরীক্ষা ও নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে।
এমএ
