‘‘চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত’ বলে কিছু নেই পৃথিবীতে। তবে এই বন্দোবস্তের আয়োজন যে হয় নি, তা কিন্তু নয়। বৃটিশ আমলে আমাদের প্রিয় স্বদেশেও চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের চর্চা দেখছি। ঔপেিনবিশক শাসকরা লোভের সেই মূলা ঝুলিয়েছেন এবং নীতিভ্রষ্ট গাদ্দাররা তা গিলেছেন। কিন্তু ভূমিপুত্ররা তা মেনে নেয় নি। তাদের শানিত প্রতিবাদে ‘চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত’ অস্তাচলে গেছে। ইংরেজ ও জমিদারদের সেই ঘৃণ্য রাজনীতির যুগ শেষ হলেও সেই ঘরানার রাজনীতি এবং সেই রাজনীতির কুশীলবরা এখনো পৃথিবীতে আছেন। শুধু বিদেশে নয়, স্বদেশেও সেই ঘৃণ্য রাজনীতির গণশত্রুরা অবস্থান করছেন। ফলে অতীতের মত বর্তমানেও রাজনীতির অঙ্গনে আমরা ক্ষমতাসীনদের দাঙ্গা-হাঙ্গামা ও অপশাসন লক্ষ্য করছি এবং লক্ষ্য করছি ছাত্র-জনতার মুক্তি আন্দোলনও। জুলুম ও বঞ্চনার দৌরাত্ম্য চললে জনতা তো রুখে দাঁড়াবেই। আর তারুণ্য হবে পদাতিক। সেই চিত্রই আমরা এখন লক্ষ্য করছি স্বদেশে এবং বিদেশে।
সাম্প্রতিক সময়ে বিশবজুড়ে আমরা তরুণ পদাতিকদের উত্থান লক্ষ্য করছি। নতুন এই রাজনৈতিক শক্তিকে অনেকে বলছেন জেনারেশন জি বা ‘জেন-জি’। বাংলাদেশ, নেপাল, পেরু ও মাদাগাস্কারে সরকারের পতন ঘটিয়েছে এই তরুণ পদাতিকরা। এছাড়া ভারতে বর্তমানে সরকারবিরোধী যে তীব্র আন্দোলন চলছে, তার নেতৃত্বেও রয়েছে এই তরুণ পদাতিকরাই। তারা ইতিমধ্যে দেশটির শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগে বাধ্য করেছে। বিশে^র অন্যান্য দেশেও আন্দোলনে উত্তাল এখন জেন-জিরা।
জুলুম, বৈষম্য ও অব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ন্যায়সঙ্গত। ফলে জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি, জ¦ালানির বাড়তি দাম, আবাসন সংকট, বেকারত্ব ও শিক্ষাখাতে অব্যবস্থার বিরুদ্ধে উত্তাল হয়ে উঠেছে ইউরোপ থেকে দক্ষিণ আমেরিকার রাজপথ। সরকারের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছে ফ্রান্স, বেলজিয়াম, পর্তুগাল, ইতালি, আলবেনিয়া, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও আর্জেন্টিনার ছাত্র-জনতা। দেশে দেশে ভিন্ন ভিন্ন দাবিতে আন্দোলন হলেও এর কেন্দ্রে রয়েছে অর্থনৈতিক চাপ, অব্যবস্থা ও সরকারি নীতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ। বিভিন্ন দাবিতে চলা আন্দোলন কোথাও কোথাও রূপ নিচ্ছে সহিংস সংঘর্ষে। এসব আন্দোলনের নেতৃত্বে রয়েছেন কলেজ-বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তথা ‘জেন-জি’ সদস্যরা।
ফ্রান্সের আন্দোলন বিশ^বাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। সরকারের নীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে গত মাসে বিক্ষোভ শুরু হয় ফ্রান্সে। প্রথমে প্যারিসে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবিতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ছোট পরিসরে প্রতিবাদ শুরু করেন। পরে তা আশেপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলন শুরুর পর থেকেই ফ্রান্সের বিভিন্ন স্থানে সহিংস সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। বিক্ষোভের কারণে অনেক এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্লাসও ব্যাহত হয়েছে। গত কয়েক বছরের মধ্যে গত শনিবার ছিল ফ্রান্সে সবচেয়ে সহিংস রাত। বছরের পর বছর ধরে তৈরি করা সরকারি ভবনগুলোতে দেওয়া হয়েছে আগুন। রোববার সকালে ঘুম থেকে উঠে নাগরিকরা রাস্তায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ভাঙা কাঁচ এবং আগুনে পুড়ে যাওয়া সরকারি ভবনের দৃশ্য দেখতে পান। এসব ঘটনায় সারাদেশে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, এদিন ১৪০টি শহরে বিক্ষোভ করেছেন আন্দোলনকারীরা। আটক করা হয়েছে দুই হাজার বিক্ষোভকারীকে। এ সময় আহত হয়েছেন আইনশৃংখলা রক্ষা বাহিনীর প্রায় ৫০০ সদস্য। একজন বিক্ষোভকারী নিহত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ সংবাদমাধ্যম ফ্রান্স ২৪-কে জানিয়েছেন, চলমান বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষ। তাদের মধ্যে শুধু প্যারিসেই রাজপথে নেমেছেন এক লাখ ১০ হাজার মানুষ। তবে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই আন্দোলনে প্রায় আট লাখ মানুষ অংশ নিয়েছে। এদিকে দুই বিশ^যুদ্ধে অক্ষত থাকা ফ্রান্সের ঐতিহাসিক লিমোজ শহরের টাউন হল ভবনটি বিক্ষোভকারীদের দেওয়া আগুনে পুড়ে প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে। শনিবার রাতে গণবিক্ষোভের সময় একদল মুখোশধারী ১৪৩ বছরের পুরনো এই ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাটিতে অগ্নিসংযোগ করে। প্যারিসের ১৯ বছর বয়সি বিক্ষোভকারী লোলা বলেন, আমরা লড়াই করছি। কারণ, জীবনযাত্রার খরচ অসহনীয় হয়ে উঠেছে, জ¦ালানির দাম অনেক বেশি। সারাদেশে উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এসব প্রতিবাদের পাশাপাশি আরো শিক্ষক ও শিক্ষার ভালো পরিবেশ চাইতে গিয়ে সহিংস হামলা এবং আঘাতের শিকার হচ্ছেন। এতে আন্দোলন আরো বেগবান হচ্ছে। পরিস্থিতি এমন পার্যায়ে পৌঁছেছে যে, সরকারকে বিভিন্ন শহরে কারফিউ জারি করতে হয়েছে।
শুধু ফ্রান্সে নয়, পৃথিবীর বহু দেশেই ছাত্র-জনতা এখন রাজপথের লড়াকু পদাতিক। এ প্রসঙ্গে বিশেষভাবে উল্লেখ করতে হয় যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের কথা। ওয়াশিংটন থেকে এএফপি পরিবেশিত খবরে বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিক্ষোভ হয়েছে। ‘নো কিংস’- আন্দোলনকারীরা গত শনিবার প্রায় তিন হাজার কর্মসূচির মাধ্যমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এবার বড় বড় সমাবেশের বদলে ছোট ছোট কর্মসূচির মাধ্যমে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর ওপর গুরুত্ব দেন তারা। আগামী ৩ নবেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে আগাম ভোট দিতে মানুষকে উৎসাহিত করাই ছিল এই কৌশলের মূল লক্ষ্য। ‘নো কিংস’ আন্দোলনকারীরা এমন এক সময়ে এই কর্মসূচি দিয়েছে, যখন ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে জ¦ালানির দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। ফলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার পারদ তলানিতে নেমেছে। তাই আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শনিবার ওয়াশিংটন থেকে নিউইয়র্ক এবং লস অ্যাঞ্জেলেসসহ বড়-ছোট বহু শহরে ‘নো কিংস’ বিক্ষোভকারীরা রাজপথে নামেন। কোথাও গাড়ির বহর নিয়ে হর্ন বাজিয়ে, কোথাও সঙ্গীতানুষ্ঠান করে, কোথাও বা গণজমায়েতের মাধ্যমে কর্মসূচি পালন করা হয়। ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো ‘নো কিংস’ কর্মসূচি হলো। ট্রাম্প গত বছরের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পর ‘নো কিংস’ আন্দোলন শুরু হয়। আন্দোলনকারীরা মনে করেন, ট্রাম্প নিজেকে আইনের ঊর্ধ্বে তথা রাজা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছেন, যা মার্কিন সংবিধানের পরিপন্থী। তাই তাঁরা বলছেন, আমাদের কোনো রাজা নেই। ফলে বলা চলে, ‘নো কিংস’ আন্দোলন বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। নো কিংস আন্দোলনকারীরা এবার তাদের কর্মসূচি শুধু ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশের মধ্যে সীমিত রাখেন নি। ভোটারদের নিবন্ধন ও ভোট দেয়ার পদ্ধতি সম্পর্কে সচেতন করারও চেষ্টা করেছেন তাঁরা। বিশেষ করে আগাম ভোট শুরু হয়েছে যেসব এলাকায়, সেখানে অংশগ্রহণ বাড়ানোও তাদের একটি লক্ষ্য। ওয়াশিংটনের ক্যাপিটাল ভবনের কাছে ছাতা হাতে দাঁড়িয়েছিলেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সাবিন কার্লসন। তাঁর ছাতায় লেখা ছিল- ভোট, ক্ষমতা, জনগণ। ৬৬ বছর বয়সি এই ডেমোক্রেট বলেন, ক্ষোভ প্রকাশ করা ভালো, অভিযোগও অনেক, কিন্তু সবচেয়ে জরুরি কাজ ভোট দেয়া। কার্লসনের মতে, ভোটারদের জানতে হবে কোথায় এবং কীভাবে ভোট দিতে হয়, তাঁদের নিবন্ধন ঠিক আছে কিনা। ভুল ভোটকেন্দ্রে গিয়ে যেন কেউ সমস্যায় না পড়েন, সে বিষয়েও সচেতনতা প্রয়োজন। এসব বিষয় থেকে উপলব্ধি করা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের জনমনে ট্রাম্পবিরোধী মনোভাবের শিকড় কতটা গভীরে।
ভারতের বিষয়টিও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে ‘রেজিম চেঞ্জ’ আলোচনা বেশ তুঙ্গে। প্রশ্ন উঠেছে, মোদি কি শঙ্কিত? জাতীয় পর্যায়ের পরীক্ষায় অনিয়মের জেরে চলতি বছরের জুন-জুলাইয়ে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবিতে ভারতজুড়ে শুরু হয়েছিল আন্দোলন। শুরুতে শক্তির জোরে ওই আন্দোলন দমানোর চেষ্টা করেছিল ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। কিন্তু তুমুল আন্দোলনের মুখে শেষ পর্যন্ত বিক্ষোভকারীদের দাবি মেনে পদত্যাগে বাধ্য হন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। এই আন্দোলনের রেশ কাটতে না কাটতেই ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে এ মর্মে খবর প্রকাশিত হয় যে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমার তাঁর দুই সহকর্মীর আপত্তি সত্ত্বেও একা বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। উল্লেখ্য, এর আগে ভারতীয় নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বিপুল সংখ্যক নাগরিকের নাম বাদ দেয়। বিতর্কিত এই কৌশলের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গসহ বিভিন্ন প্রদেশের প্রাদেশিক নির্বাচনে বিজেপি জয়লাভ করে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমন কর্মকা-ে ক্ষমতাসীন দলটির বিরুদ্ধে মানুষের মনে সৃষ্টি হয় ক্ষোভ। আর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবর সেই ক্ষোভের মাত্রা আরো বাড়িয়ে দেয়। ফলে সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে পুরো দেশে। ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) পরিচালিত এ বিক্ষোভে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীসহ আরো অনেকে জানিয়েছেন সমর্থন।
সিইসির পদত্যাগের দাবির মধ্যেই ভারতে সরকার পরিবর্তনের আলাপ সামনে এসেছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন মহল থেকে গণতন্ত্রের স্বার্থে রেজিম পরিবর্তনের কথা উত্থাপন করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার ভারতের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ নয়াদিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে সিইসির পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন প্রকৃতপক্ষেই ‘ক্ষমতাসীনদের বদলের লড়াইয়ে’ পরিবর্তিত হয়েছে। এদিকে কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংসহ বিজেপির জ্যেষ্ঠ নেতারা অভিযোগ করছেন, বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় বিশৃঙ্খলা করছেন। তারা বাংলাদেশের মতো করে উত্তেজনা সৃষ্টি করে ক্ষমতা দখলের ষড়যন্ত্র করছেন। অবশ্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এখনো এ বিষয়ে তেমন কোনো মন্তব্য করেন নি। তবে ক্ষমতাসীন মহল থেকে অভিযোগের জেরে উপলব্ধি করা যায়, চলমান আন্দোলন নিয়ে সরকার আসলেই শঙ্কায় রয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ওয়্যারে শনিবার প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে বলা হয়, বিরোধী দলে থাকার সময় বিজেপিও বিভিন্ন সময় ক্ষমতাসীনদের বদলের আওয়াজ তুলেছিল। সেটি কোনো সংবিধানবিরোধী কাজ ছিল না। ঠিক তেমনিভাবেই মোদিকে ক্ষমতাচ্যুত করার দাবিও সংবিধান ও গণতন্ত্রের পরিপন্থী নয়। বিজেপি প্রধান নিতিন নবিন দাবি করেছেন, ভারতকে অস্থিতিশীলতায় ফেলতে ‘রেজিম চেঞ্জ’ (ক্ষমতাসীনদের বদল) পরিভাষাটি ব্যবহৃত হচ্ছে। এটি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ। কিন্তু ওয়্যারের বিশ্লেষণে বলা হয়, রাষ্ট্র ও সরকার সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। ভোটারদের নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকার নির্দিষ্ট সময়ের জন্য রাষ্ট্র পরিচালনা করতে পারে। ভোটার চাইলে সরকার বদল করতে পারে। বিজেপিকে ক্ষমতাচ্যুত করা শুধু সরকারের পরিবর্তন, এর সঙ্গে রাষ্ট্রের সম্পর্ক নেই। এদিকে কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা পি চিদম্বরম ‘রেজিম চেঞ্জ’ পরিভাষার সমর্থন করে বলেন, ‘গণতন্ত্রের জন্য এটি স্বাভাবিক একটি বিষয়। গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চার ভিত্তিতেই তারা সরকার পরিবর্তন করতে চান।’ কিন্তু সমস্যা হলো, যারা ক্ষমতায় থাকেন তাঁরা বিষয়টি জানলেও স্বীকার করতে চান না। সরকারের লোকজন রাষ্ট্র ও সরকারকে এক করে দেখাতে চান এবং রেজিম চেঞ্জের আন্দোলনকে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ বলে চালিয়ে দিতে চান। এভাবেই ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করার কৌশল অবলম্বন করেন তাঁরা। এমন ভ্রষ্ট আচরণের কারণে রাষ্ট্রের নাগরিকরা ক্ষুব্ধ হন। সরকারের অব্যবস্থা, দারিদ্র্য এবং জুলুম-নির্যাতনের কারণে জনগণের ক্ষোভের মাত্রা আরো বেড়ে যায়। তখন চলে আসে রেজিম চেঞ্জের প্রশ্ন। রেজিম চেঞ্জ কোনো নতুন বিষয় নয়। এখন দেশে দেশে সরকার বিরোধী যে বিক্ষোভ, রেজিম চেঞ্জের যে আওয়াজ, তা ইতিহাসের ধারাবাহিকতা মাত্র। কিন্তু ‘দাম্ভিক কিংস’ বা ‘স্বৈরশাসকরা তা মানতে চান না। ফলে প্রয়োজন হয় গণঅভ্যুত্থান কিংবা বিপ্লবের। সাম্প্রতিক সময়েও আমরা এমন দৃশ্য লক্ষ্য করেছি আমাদের আপন ভূগোলে।
