শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলা ও সখীপুর থানা ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পর নেতাদের পদত্যাগের হিড়িক পড়েছে। কমিটিতে যথাযথ মূল্যায়ন না করার অভিযোগ তুলে এ পর্যন্ত নড়িয়া উপজেলা ছাত্রদলের পাঁচ এবং সখীপুর থানা ছাত্রদলের দুই নেতা পদত্যাগপত্র দিয়েছেন।
পদত্যাগকারীরা হলেন- নড়িয়া উপজেলা ছাত্রদলের সহসাধারণ সম্পাদক মো. মাসুম মোল্লা, সহসাধারণ সম্পাদক রাকিব মল্লিক, ৭ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. চুন্নু মাদবর, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম রোকন ও সহসাংগঠনিক সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ। এছাড়া সখীপুর থানা ছাত্রদলের ২ নম্বর সহসভাপতি মানিক মোল্লা ও ২ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফারহান আহমেদ শাওন পদত্যাগপত্র দিয়েছেন।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক এইচএম জাকির ও সদস্য সচিব সোহেল তালুকদারের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে নড়িয়া উপজেলা ছাত্রদলের ৯৬ সদস্যের এবং সখিপুর থানা ছাত্রদলের ৮১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়।
কমিটি ঘোষণার পর থেকেই পদবঞ্চিত ও প্রত্যাশিত পদ না পাওয়া নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা এবং দলের দুঃসময়ে মামলা-হামলার শিকার হওয়া নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি এমন অভিযোগ তুলে কয়েকজন নেতা পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।
তারা জানান, তারা জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব বরাবর পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত তাদের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়নি বলে দাবি করেন তারা।
পদত্যাগ করা নড়িয়া উপজেলা ছাত্রদলের সহসাধারণ সম্পাদক মো. মাসুম মোল্লা বলেন, ‘আমরা বিগত দিনে মামলা-হামলার শিকার হয়ে ছাত্রদলের রাজনীতি করেছি। আজ দলের সুসময়ের কমিটিতে আমাদের মতো অনেক ত্যাগী নেতাকর্মীকে মূল্যায়ন করা হয়নি। তাই আমি আজ থেকে ছাত্রদলের রাজনীতি থেকে পদত্যাগ করলাম।’
তবে পদত্যাগের বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন নড়িয়া উপজেলা ছাত্রদলের নবনির্বাচিত সভাপতি ইমরান পঞ্চায়েত। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন নড়িয়া উপজেলায় ছাত্রদলের কমিটি ছিল না। তাই বিভিন্ন পদে একাধিক নেতাকর্মী প্রত্যাশী ছিলেন। সবাইকে তাদের কাঙ্ক্ষিত পদ দেওয়া সম্ভব হয়নি। এ কারণে হয়তো কেউ কেউ মন খারাপের বিষয়টি ফেসবুকে পোস্ট করেছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘তাদের পদত্যাগপত্র আমরা গ্রহণ করিনি। তাদের সঙ্গে আমাদের কথা হচ্ছে। আশা করছি, তারা আমাদের সঙ্গেই ছাত্রদলের রাজনীতিতে থাকবেন।’
জেলা ছাত্রদলের আহবায়ক এইচএম জাকির বলেন, ‘আমাদের কাছে এখনো কোন পদত্যাগপত্র আসেনি কেউ ফেসবুকে পোস্ট করে থাকলেও বিষয়টি আমার নজরে আসেনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘ছাত্রদল একটি বৃহৎ সংগঠন। একটি বড় সংগঠনের কমিটি করতে গেলে এক পদে একাধিক প্রতিদ্বন্দ্বী থাকে। তাই সবাইকে সব পদ দেওয়া যায় না। আমরা চেষ্টা করছি বিষয়টি সমাধান করার।’
