Published on
:
2 min read
এই সময়: দুর্গাপুজোর ভিড়ে শিশুদের হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা আটকাতে এই প্রথম বার খুদেদের জন্য ‘কিউআর কোড বেস্ড রিস্টব্যান্ড’–এর ব্যবস্থা করেছে কলকাতা পুলিশ। রিস্টব্যান্ডে থাকা কিউআর কোডটি স্ক্যান করলেই পাওয়া যাবে সেই শিশুর মা–বাবার নাম, বাড়ির ঠিকানা ও অভিভাবকদের মোবাইল ফোনের নম্বর-সহ যাবতীয় জরুরি তথ্য। তা ছাড়া, বৃহস্পতিবার পঞ্চমীতে রাস্তায় নামল কলকাতা পুলিশের ‘বন্ধু কলকাতা’ নামে গাড়ি। মণ্ডপে ভিড়ের মধ্যে বাড়ির লোকদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া কোনও শিশু বা প্রবীণের পাশে দাঁড়াবে ‘বন্ধু কলকাতা’। পঞ্চমীর বিকেলে কলকাতা পুলিশের সদর দপ্তর লালবাজারে ‘বন্ধু কলকাতা’র ১০টি গাড়ির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ। এ দিন বিকেলেই কলকাতা পুলিশের ১০টি ডিভিশনে ওই গাড়িগুলি ঘুরতে শুরু করেছে।
এতদিন পুজোর সময়ে খুদেদের গলায় আইডি কার্ড ঝোলানোর ব্যবস্থা করা হতো কলকাতা পুলিশের তরফে। এ বার সেই জায়গায় আনা হলো কিউআর কোড সমেত রিস্টব্যান্ড। সিপি বলেন, ‘পুজোর ভিড়ে কোনও শিশু হারিয়ে গেলে তার রিস্টব্যান্ডে থাকা কিউআর কোড স্ক্যান করেই পুলিশ বা সাধারণ মানুষ দ্রুত তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন।’ এ দিন এই প্রকল্পেরও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করে সিপি অজয় নন্দ জানান, বিশেষ রিস্টব্যান্ডগুলি পুলিশ–কিয়স্ক থেকে দেওয়া হবে। তবে কিছু ব্যান্ড বিলি করা হয়েছে কমিউনিটি পুলিশিং–এর তরফেও। পুলিশ সূত্রের খবর, লালবাজার কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকবে এই কিউআর কোড সিস্টেম। হারিয়ে যাওয়া কোনও শিশুর তথ্য মুহূর্তের মধ্যে কন্ট্রোল রুমে চলে যাবে এবং দ্রুত পদক্ষেপ করা হবে।
গাড়িতে লেখা থাকছে বিশেষ হেল্পলাইন নম্বরEi Samay
‘বন্ধু কলকাতা’র প্রতিটি গাড়িতে থাকবেন এক জন সাব-ইন্সপেক্টর বা অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইন্সপেক্টর, এক জন কনস্টেবল, এক জন মহিলা কনস্টেবল এবং স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার এক জন কর্মী। গাড়িগুলি বিকেল ৪টে থেকে পরদিন ভোর পর্যন্ত শহর জুড়ে ঘুরবে। গাড়ি সাজানো থাকবে রঙিন বেলুন দিয়ে, গাড়িতে থাকবে চিপ্স ও চকোলেট। উদ্ধার হওয়া শিশুদের ভয় কাটাতে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে এ সব। বাড়ির লোকদের থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া শিশু ও প্রবীণদের খোঁজ করতে পুলিশের ওই গাড়িগুলি বিভিন্ন মণ্ডপ ও সংলগ্ন জায়গায় ঘুরবে। উদ্ধার করার পরে ওই শিশু ও প্রবীণদের নিয়ে যাওয়া হবে কাছের থানায়। শিশুদের রাখা হবে থানার চাইল্ড–ফ্রেন্ডলি রুমে, তাদের দেখভাল করবেন মহিলা পুলিশকর্মীরা।
