
স্টাফ রিপোর্টার : টানা পাঁচ দিনের পূজা-অর্চনা ও নানা ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে গতকাল বুধবার প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। শান্তিপূর্ণভাবে বিসর্জন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নগরের চাঁদনীঘাটে সুরমা নদীর তীরে বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে শুরু হয় প্রতিমা বিসর্জন।
গত শুক্রবার মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হয় শারদীয় দুর্গাপূজা। ষষ্ঠীতে দেবীর বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এরপর শনিবার ও রবিবার মহাসপ্তমী, সোমবার মহাষ্টমী ও মঙ্গলবার মহানবমীর পূজা অনুষ্ঠিত হয়। গতকাল বিজয়া দশমীতে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান শেষে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে পাঁচ দিনের এ উৎসব।
বিজয়া দশমী উপলক্ষে সকাল থেকেই বিভিন্ন মণ্ডপ ও মন্দিরে চলে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা। পূজা, অঞ্জলি ও অন্যান্য আচার পালনের পর ভক্তরা দেবী দুর্গাকে বিদায় জানাবেন। প্রতিমা বিসর্জনকে ঘিরে নগরের বিভিন্ন সড়কে শোভাযাত্রা বের হওয়ার কথা রয়েছে। ঢাক-ঢোল, কাঁসর-ঘণ্টার বাদ্য আর ভক্তদের উলুধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠবে বিসর্জনস্থল। আনন্দের উৎসব শেষে দেবীর বিদায়ে ভক্তদের মধ্যে বিরাজ করবে বিষাদের আবহ।
পঞ্জিকামতে, এবার দেবী দুর্গা ঘোড়ায় চড়ে মর্ত্যে এসেছেন এবং নৌকায় চড়ে বিদায় নেবেন।
এবার সিলেট জেলা ও মহানগর মিলিয়ে ৬৩৬টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে সিলেট মহানগরে ১৬২টি এবং জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ৪৭৪টি মণ্ডপ রয়েছে। মহানগরের মণ্ডপগুলোর মধ্যে ১৪৬টি সর্বজনীন ও ১৬টি পারিবারিক। অন্যদিকে, জেলা পর্যায়ে ৪৪৮টি সর্বজনীন এবং ২৬টি পারিবারিক মণ্ডপে পূজার আয়োজন করা হয়েছে।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মৃত্যুঞ্জয় ধর ভোলা জানান, নগরের চাঁদনীঘাটে মূল মঞ্চ থেকে বিকেল সাড়ে ৩টায় প্রতিমা বিসর্জন শুরু হবে। পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ থেকে প্রতিমা নিয়ে বিসর্জনস্থলে আসবেন ভক্তরা। রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত বিসর্জন কার্যক্রম চলার কথা রয়েছে।
দুর্গোৎসব নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং পূজা উদযাপন সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রতিমা বিসর্জন ঘিরে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্টদের তৎপর থাকার কথা রয়েছে।
দেবী দুর্গার বিদায়ের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব। তবে ভক্তদের প্রার্থনা, অশুভ শক্তির বিনাশ, মানুষের জীবনে শান্তি ও সমৃদ্ধি এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় হোক। সেই প্রত্যাশা নিয়েই দেবীকে বিদায় জানাবেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। আবারও একটি বছরের অপেক্ষা—আগামী শরতে দেবী দুর্গার আগমনের।
