সিলেট ভয়েস ডেস্ক · ২০ অক্টোবর, ২০২৬ ৭:২৭ অপরাহ্ন
স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতিকে ‘মাদার অব অল দুর্নীতি’ (সব দুর্নীতির জননী) আখ্যা দিয়েছেন মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান। তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্য খাত পুরোপুরি কলাপস। এমনভাবে টাকা চুরির সিস্টেম করা, কারও কোনো কন্ট্রোল নাই।’
সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া পৌরশহরের মেরিনা স্কয়ারের দ্বিতীয় তলায় মেরিনা ইয়াসমিন চৌধুরী ফিজিওথেরাপি সেন্টারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
এম নাসের রহমান বলেন, স্বাস্থ্য খাতে হাজার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও দুর্নীতির কারণে সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা পাচ্ছে না। একই সঙ্গে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে টেন্ডার ছাড়াই ১ কোটি ২০ লাখ টাকা উত্তোলনের অভিযোগও তুলেছেন তিনি।
তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট আমল থেকে শুরু করে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও স্বাস্থ্য খাতে ব্যাপক লুটপাট হয়েছে। বাজেটে বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হলেও সেই অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হচ্ছে না।
স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দের অর্থ কীভাবে অপচয় ও আত্মসাৎ হচ্ছে, তার উদাহরণ দিতে গিয়ে নাসের রহমান বলেন, ‘থানা হেলথ কমপ্লেক্সগুলো খুবই জরাজীর্ণ অবস্থায় আছে। আমরা যদি হেলথ সেক্টর নিয়ে কথা বলি—বাজেটে যদি ৬০ হাজার কোটি টাকা দেন, এটি আমি একটা এক্সাম্পল বলতেছি। তাহলে প্রথমেই ১০ হাজার কোটি টাকা চুরি, আরও টেন পারসেন্ট ১০ হাজার কোটি টাকা মাইনাস করেন। থাকল কতো? ৪০ হাজার কোটি টাকা। এই ৪০ হাজার কোটি টাকার মধ্যেও চুরি করে ফাইনালি হয়তো ২০/২৫ হাজার কোটি টাকা এই জনগণের জন্য যায়। আর বাকিটা সব বিভিন্ন কার্যপ্রতিনিধি আছেন, তাঁদের পকেটে চলে যায়।’
মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করে সংসদ সদস্য বলেন, সেখানে টেন্ডার ছাড়াই ১ কোটি ২০ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ পেয়েছেন। এ ঘটনায় হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) জড়িত বলে দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে নাসের রহমান বলেন, ‘আমি গত সপ্তাহে মৌলভীবাজারের আড়াইশ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের একটা দিবালোকে চুরি হাতেনাতে ধরেছি। ১ কোটি ২০ লাখ টাকার। তত্ত্বাবধায়ক এবং আরএমও মিলে টেন্ডার ছাড়া এক কোটি বিশ লাখ টাকা উঠিয়ে নিয়ে চলে গেছে। এটির তদন্তে তিনটা কমিটি আসছে। দুদক আসছে। তো এই হলো আমাদের হেলথ অবস্থা। কোথায় কী করবেন।’
তিনি জানান, এ ঘটনায় তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনও (দুদক) বিষয়টি তদন্ত করছে।
নাসের রহমান বলেন, শুধু বাজেটে বরাদ্দ বাড়িয়ে স্বাস্থ্য খাতের সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। বরাদ্দ করা অর্থ যাতে যথাযথভাবে জনগণের চিকিৎসাসেবায় ব্যয় হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর জরাজীর্ণ অবস্থাও এ খাতের ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন তৈরির কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি পুরা রিপোর্ট তৈরি করতেছি বাংলাদেশের হেলথ সেক্টরের যে মাদার অব অল দুর্নীতির যে কারবারি চলতেছে হেলথ সেক্টরে। হরিলুট।’
গুগলে আমাদের খবর পেতে
