Published on
:
1 min read
এই সময়, আসানসোল: যাঁদের সারা বছর কাটে চার দেওয়ালের ভিতরেই, ষষ্ঠীর সূর্যোদয় যেন তাঁদের জন্য নিয়ে এল মুক্ত বাতাসের বার্তা। সমাজের মূলস্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন আসানসোল ইসমাইলের ‘স্ব-শক্তি শক্তি সদন হোম'-এর অনাথ ও নিগৃহীত মহিলা আবাসিকদের জন্য শুক্রবারের সকালটি ছিল একেবারে অন্যরকম। নিরাপত্তার কারণে পুজোর বাকি দিনগুলিতে আর বাইরে বেরোনোর সুযোগ মিলবে না, তাই ষষ্ঠীর এই একটি দিনেই মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে সারাবছরের সব আনন্দ সুদে-আসলে উশুল করে নিলেন তাঁরা।
এ দিন ধর্ম-বর্ণ-ভাষার ভেদাভেদ ভুলে তাঁরা একসঙ্গে মেতে উঠল শারদোৎসবে। রবীন্দ্রনগর, রাধানগর, এবি টাইপ, কল্যাণপুর, আপনা গার্ডেন হয়ে ট্র্যাফিক কলোনি পর্যন্ত আসানসোল, বার্নপুর ও কল্যাণপুরের একাধিক পুজো মণ্ডপ ঘুরে আলো, প্রতিমা আর মানুষের ঢল উপভোগ করলেন তাঁরা। ট্র্যাফিক কলোনিতে তাঁদের উষ্ণ অভ্যর্থনাও জানানো হয়। গত ১০ বছর ধরে এই উদ্যোগের নেপথ্যে রয়েছেন আসানসোল ইস্টার্ন রেলওয়ে হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষক তথা ‘ইওর অর্গানাইজ়েশন হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশন’-এর সম্পাদক ও সমাজকর্মী বিশ্বনাথ মিত্র। তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়েই পরিক্রমার জন্য বিনামূল্যে মিনিবাসের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন প্রাক্তন পুর পারিষদ গুরুদাস চট্টোপাধ্যায়। আমেরিকা থেকে প্রবাসী বাঙালি পল উপাধ্যায় আবাসিকদের জন্য জলযোগ ও আনুষঙ্গিক খরচের অর্থ পাঠিয়েছেন।
সারাদিন ধরে পথচলায় আবাসিকদের কড়া নজরদারিতে আগলে রাখেন হোমের সুপারিনটেনডেন্ট সেরিনা মণ্ডল এবং রেল স্কুলের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষিকা রঞ্জনা মুন্সী। দিনশেষে নৈশভোজের প্যাকেট হাতে যখন তাঁরা হোমে ফিরছিলেন, তখন তাঁদের চোখেমুখে ছিল একরাশ তৃপ্তি আর আনন্দের স্মৃতি।
