জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্য সংশোধনে বড় অগ্রগতি অর্জন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এখন পর্যন্ত জমা পড়া ৬৫ লাখ ৭০ হাজার ৮৪২টি সংশোধন আবেদনের মধ্যে ৬৪ লাখ ৪২ হাজার ৮৩২টি নিষ্পত্তি করেছে সংস্থাটি। তবে বিপুলসংখ্যক আবেদন নিষ্পত্তির পরও অপেক্ষমাণ রয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার ১০টি আবেদন।
অন্যদিকে, বিভিন্ন কারণে বাতিল হয়েছে ১৩ লাখ ৫৫ হাজার ১৫৭টি আবেদন। এনআইডি সংশোধনে এই অগ্রগতির পাশাপাশি নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে আবেদনের যথার্থতা যাচাই, জন্মতারিখ সংশোধনে অনিয়ম প্রতিরোধ এবং জালিয়াতি বন্ধের বিষয়টি। আবেদন নিষ্পত্তিতে নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ, মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের ক্ষমতা বাড়ানো এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে সেবার গতি বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে কমিশন। তবে প্রতি মাসে নতুন করে গড়ে ৮০ হাজার থেকে ৯০ হাজার আবেদন জমা পড়ায় চাপ পুরোপুরি কমছে না।
একই বিষয়ে একাধিকবার আবেদন, সংশোধনের অযোগ্য তথ্য পরিবর্তনের চেষ্টা এবং বয়সের অসংগতির মতো বিষয়গুলোও নিষ্পত্তি কার্যক্রমে বাড়তি চাপ তৈরি করছে। ফলে বিপুলসংখ্যক আবেদন নিষ্পত্তির সাফল্যের পরও ইসির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে অবশিষ্ট আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি এবং ভবিষ্যতে ভুল তথ্য সংশোধনের প্রয়োজন কমিয়ে আনা। ইসির জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্য বিশ্লেষণে এসব চিত্র পাওয়া গেছে।
নিষ্পত্তির অগ্রগতি, অপেক্ষায় এক লাখের বেশি: ইসি কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সাল পর্যন্ত জমা পড়া এনআইডি সংশোধনের আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়েছে। ২০২৫ সালের আবেদনগুলোর নিষ্পত্তিও প্রায় শেষ পর্যায়ে। তবে নতুন আবেদন অব্যাহত থাকায় অপেক্ষমাণ আবেদনের সংখ্যা পুরোপুরি কমিয়ে আনা কঠিন হচ্ছে।
কমিশনের তথ্য বলছে, মোট জমা পড়া আবেদনের মধ্যে ৬৪ লাখ ৪২ হাজার ৮৩২টি নিষ্পত্তি হয়েছে। সেই হিসাবে জমা পড়া আবেদনের প্রায় ৯৮ শতাংশ নিষ্পত্তির আওতায় এসেছে। তবে এই হিসাবের সঙ্গে বাতিল হওয়া আবেদনের পরিসংখ্যান আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। কারণ, আবেদন নিষ্পত্তির মধ্যে অনুমোদন ও প্রত্যাখ্যানসহ বিভিন্ন ধরনের সিদ্ধান্ত থাকতে পারে। অন্যদিকে, ১৩ লাখ ৫৫ হাজার ১৫৭টি আবেদন বাতিল হওয়ার তথ্য থেকে বোঝা যায়, সংশোধনের আবেদন যাচাই-বাছাইও এখন কমিশনের কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তবে বাতিল হওয়া আবেদনের মধ্যে কতটি অযোগ্য, কতটি অসম্পূর্ণ এবং কতটি পুনরাবৃত্ত আবেদন, তার বিস্তারিত বিভাজন পাওয়া গেলে পরিস্থিতি আরো স্পষ্ট হতো। এনআইডির তথ্য সংশোধন নাগরিকের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি সেবা। জন্মতারিখ, নাম, বাবা-মায়ের নাম কিংবা অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্যে ভুল থাকলে সরকারি সেবা গ্রহণ, পাসপোর্ট তৈরি, ব্যাংকিং কার্যক্রমসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই আবেদনের দ্রুত নিষ্পত্তির পাশাপাশি সিদ্ধান্তের নির্ভুলতা নিশ্চিত করাও জরুরি।
‘ঘ’ ক্যাটাগরিতে প্রায় ৭০ হাজার আবেদন অপেক্ষমাণ: ইসির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ‘ঘ’ ক্যাটাগরিতে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে ৬৮ হাজার ২৬৯টি আবেদন। ২০২৫ সালের একই ক্যাটাগরিতে অপেক্ষমাণ রয়েছে আরো ৯৮৩টি আবেদন। সব মিলিয়ে এই ক্যাটাগরিতে ঝুলে আছে ৬৯ হাজার ২৫২টি আবেদন। অঞ্চলভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ঢাকা অঞ্চলে অপেক্ষমাণ আবেদন ১০ হাজার ৬১৫টি। ফরিদপুরে ৫ হাজার ১৪০টি, খুলনায় ৫ হাজার ৮৭১টি, ময়মনসিংহে ৮ হাজার ৩৩২টি এবং রংপুরে ৪ হাজার ৪৭৭টি আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।
এ ছাড়া সিলেটে ৬ হাজার ৪৬৯টি, রাজশাহীতে ৬ হাজার ৮৭৫টি, বরিশালে ৪ হাজার ২২৬টি, চট্টগ্রামে ৬ হাজার ৬৮৮টি এবং কুমিল্লায় ১০ হাজার ৫৫৯টি আবেদন অপেক্ষমাণ রয়েছে। এই হিসাব অনুযায়ী, ঢাকা ও কুমিল্লা অঞ্চলে অপেক্ষমাণ আবেদনের চাপ তুলনামূলক বেশি। তবে শুধু অঞ্চলভিত্তিক সংখ্যা দিয়ে নিষ্পত্তিতে ধীরগতির কারণ নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে কতজন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন, কী ধরনের আবেদন বেশি জমা পড়ছে এবং কোন পর্যায়ে আবেদন আটকে আছে, সেসব তথ্যও গুরুত্বপূর্ণ। কর্মকর্তাদের ওপর নিয়মিত নজরদারি, অঞ্চলভিত্তিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ এবং দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা আবেদনগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া গেলে অপেক্ষমাণ আবেদনের চাপ কমানো সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নির্দিষ্ট সময়সীমা, কমানো হচ্ছে প্রশাসনিক জটিলতা: এনআইডি সংশোধন কার্যক্রমে গতি আনতে আবেদন নিষ্পত্তির জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন। পাশাপাশি উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে নিষ্পত্তির সুযোগ বাড়ানো হয়েছে। সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট এবং সংশ্লিষ্ট পরিচালকরা নিয়মিতভাবে কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছেন। ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, আবেদন নিষ্পত্তির মূল লক্ষ্য হচ্ছে নির্ভুলভাবে কাজ করা।
এমনভাবে ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে, যাতে পরবর্তী সময়ে সংশোধনের প্রয়োজন না পড়ে। তিনি জানান, অতীতে অযৌক্তিক আবেদন সব ক্ষেত্রে যথাযথভাবে যাচাই করা হয়নি। এখন যুক্তিসংগত নয়, এমন আবেদন বাতিল করা হচ্ছে এবং প্রতিটি আবেদন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। গত বছর বিশেষ কর্মসূচির মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
আখতার আহমেদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংশোধনের জন্য জমা পড়া কিছু আবেদনের ক্ষেত্রে বাস্তবে সংশোধনের প্রয়োজন নেই। আবার বিদেশে অবস্থানরত ভোটারদের কিছু আবেদনে স্থানীয় প্রতিনিধিদের মাধ্যমে দেওয়া তথ্যের অসংগতি পাওয়া যাচ্ছে। যাচাই-বাছাইয়ের পর এসব আবেদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। এতে একদিকে অপ্রয়োজনীয় আবেদন কমানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে প্রকৃত সংশোধন প্রত্যাশীদের আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব হচ্ছে। তবে অযোগ্য আবেদন চিহ্নিত করার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও যুক্তিসংগত সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে বৈধ আবেদনকারীরা হয়রানির শিকার না হন।
জন্মতারিখ সংশোধনে বাড়তি নজরদারি: এনআইডিতে জন্মতারিখ সংশোধন অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। এ ক্ষেত্রে অনিয়ম হলে ব্যক্তির বয়স, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অন্যান্য নথির সঙ্গে অসংগতি তৈরি হতে পারে। এ কারণে জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদনে অনলাইনে যাচাইযোগ্য শিক্ষাসনদকে গুরুত্ব দিয়ে নজরদারি জোরদার করেছে নির্বাচন কমিশন। সম্প্রতি এ বিষয়ে সব আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাকে চিঠি দিয়েছে ইসি। গত ১৩ আগস্ট জারি করা পরিপত্র অনুযায়ী, অনলাইনে যাচাইযোগ্য জেএসসি, মাধ্যমিক বা সমমানের শিক্ষাসনদের ভিত্তিতে জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন ‘ক’ ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত করে সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা নির্বাচন কর্মকর্তা নিষ্পত্তি করতে পারবেন।
তবে এ ক্ষেত্রে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ প্রযোজ্য নয়। নির্দেশনায় আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাদের অধীনস্থ কর্মকর্তাদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি দৈবচয়নের ভিত্তিতে প্রতি মাসে প্রত্যেক নিষ্পত্তিকারী কর্মকর্তার অন্তত তিনটি আবেদন যাচাই করে প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত ১৩ থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সময়ের প্রতিবেদন ২১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পাঠাতে বলা হয়েছিল।
পরবর্তী সময়ে প্রতি মাসের প্রতিবেদন পরের মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য হচ্ছে জন্মতারিখ সংশোধনের সিদ্ধান্তের যথার্থতা যাচাই এবং কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা। বিশেষ করে শিক্ষাসনদ ও এনআইডির তথ্যের মধ্যে অসংগতি থাকলে তা যাচাইয়ের মাধ্যমে অনিয়মের সুযোগ কমানো সম্ভব হবে। তবে নজরদারির কার্যকারিতা নির্ভর করবে নির্দেশনা বাস্তবায়ন, যাচাইয়ের ফলাফলের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর।
বয়সের অসংগতি, বাতিল হচ্ছে অযোগ্য আবেদন: অপেক্ষমাণ আবেদন ও বাতিলের কারণ ব্যাখ্যা করে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক (অপারেশন্স) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, অনেক আবেদন রয়েছে, যেগুলো সংশোধনযোগ্য নয়। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, বয়স সংশোধনের ক্ষেত্রে কখনো দেখা যায়, বাবা ও সন্তানের বয়সের ব্যবধান মাত্র ১০ বছর। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে সংশোধনের পর দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভোটার হওয়ার সময় বয়স ১৮ বছরের কম ছিল। এ ধরনের অসংগতি থাকলে আবেদন বাতিল করা হয়।
সাইফুল ইসলাম আরো বলেন, কোনো আবেদন একটি ক্যাটাগরিতে বাতিল হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অন্য ক্যাটাগরিতে আবার আবেদন করেন। এতে একই ধরনের আবেদনের পুনরাবৃত্তি ঘটে এবং অপেক্ষমাণ আবেদনের সংখ্যা বেশি বলে মনে হতে পারে। অর্থাৎ, অপেক্ষমাণ আবেদনের সবগুলোই যে একই ধরনের প্রশাসনিক জটিলতা বা কর্মকর্তাদের নিষ্ক্রিয়তার কারণে আটকে আছে, তা নয়। কিছু আবেদন যাচাইয়ের অপেক্ষায় থাকতে পারে, আবার কিছু আবেদন তথ্যগত অসংগতির কারণে সিদ্ধান্তের পর্যায়ে পৌঁছাতে সময় নিতে পারে।
তবে আবেদন বাতিলের ক্ষেত্রে কী কী কারণ সবচেয়ে বেশি কাজ করছে, কতটি আবেদন পুনরায় জমা পড়ছে এবং আবেদনকারীরা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কী ধরনের প্রতিকার পাচ্ছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হলে সেবার মান মূল্যায়ন সহজ হতো। পরিচালক জানান, অপেক্ষমাণ আবেদন নিষ্পত্তিতে নিয়মিত বৈঠক করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের চিঠি দেওয়া হচ্ছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সেবার মানসিকতা ও দায়িত্ববোধের পাশাপাশি নিয়মিত তদারকিও নিষ্পত্তির অগ্রগতিতে ভূমিকা রেখেছে।
জালিয়াতি প্রতিরোধে প্রযুক্তিগত উদ্যোগ: এনআইডি-সংক্রান্ত জালিয়াতি প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। জালিয়াতির অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে সোপর্দ করা হচ্ছে। কমিশনের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ইসি সচিব আখতার আহমেদ।
তিনি বলেন, জালিয়াতির বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যমে প্রচার চালানো হচ্ছে। তবে শুধু অভিযোগ পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে জালিয়াতির ঘটনা ঘটার আগেই তা প্রতিরোধের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে একটি প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা চালুর সম্ভাবনাও যাচাই করা হচ্ছে। ইসি সচিবের আশা, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা চালু করা গেলে এনআইডি-সংক্রান্ত জালিয়াতির ঘটনা আরো কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
এদিকে সাধারণ মানুষকে প্রতারক চক্রের প্রলোভনে পা না দিতে সতর্ক করছে এনআইডি বিভাগ। এ বিষয়ে হেল্পডেস্ক থেকেও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম। এনআইডির তথ্য সংশোধনকে কেন্দ্র করে প্রতারণা ও জালিয়াতির ঝুঁকি থাকায় নাগরিকদেরও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। বিশেষ করে দ্রুত সংশোধন করিয়ে দেওয়ার নামে অর্থ দাবি করা হলে কিংবা অননুমোদিত ব্যক্তির কাছে ব্যক্তিগত তথ্য ও নথি হস্তান্তরের আগে যাচাই করা জরুরি। প্রযুক্তিগত উদ্যোগ কার্যকর হলে সন্দেহজনক আবেদন শনাক্ত করা, তথ্যের অসংগতি যাচাই এবং একই ধরনের পুনরাবৃত্ত আবেদন চিহ্নিত করার সুযোগ বাড়তে পারে। তবে এ ধরনের ব্যবস্থা চালুর ক্ষেত্রে তথ্যের নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং বৈধ আবেদনকারীদের অধিকার সুরক্ষার বিষয়টিও সমান গুরুত্ব পাওয়া প্রয়োজন।
নির্ভুল নিবন্ধনই দীর্ঘমেয়াদি সমাধান এনআইডি সংশোধনে ৬৪ লাখের বেশি আবেদন নিষ্পত্তি নির্বাচন কমিশনের জন্য বড় অগ্রগতি। কিন্তু প্রতি মাসে নতুন করে ৮০ হাজার থেকে ৯০ হাজার আবেদন জমা পড়ার বাস্তবতায় শুধু নিষ্পত্তির গতি বাড়িয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
সংশোধনের প্রয়োজন কেন তৈরি হচ্ছে, নিবন্ধনের সময় কী ধরনের ভুল বেশি হচ্ছে এবং নাগরিকদের দেওয়া তথ্য যাচাইয়ে কোথায় ঘাটতি থাকছে, তা চিহ্নিত করা জরুরি। নিবন্ধনের শুরুতেই তথ্য যাচাই জোরদার করা গেলে পরবর্তী সময়ে সংশোধনের জন্য আবেদন করার প্রয়োজন কমবে। একই সঙ্গে আবেদন গ্রহণ থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে নির্ধারিত সময়সীমা অনুসরণ, আবেদনকারীদের সিদ্ধান্তের কারণ জানানো এবং দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষমাণ আবেদনগুলোর অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। যেসব আবেদন বাতিল হচ্ছে, সেগুলোর কারণও যথাসম্ভব স্পষ্টভাবে জানাতে হবে, যাতে আবেদনকারীরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে পারেন।
তবে বিপুলসংখ্যক আবেদন নিষ্পত্তির পর নির্বাচন কমিশনের সামনে এখন দুটি বড় কাজ। প্রথমত, অপেক্ষমাণ আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করা। দ্বিতীয়ত, ভুল তথ্য, অযৌক্তিক সংশোধনের আবেদন এবং জালিয়াতির ঝুঁকি কমিয়ে একটি নির্ভুল ও নির্ভরযোগ্য জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন ব্যবস্থা গড়ে তোলা। নাগরিকদের ভোগান্তি কমানোর পাশাপাশি তথ্যের নির্ভুলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারলেই এই অগ্রগতি স্থায়ী সাফল্যে রূপ নেবে।
বিআলো/অর্নব