চাঁদপুর শহরের বাবুরহাট বাজারে জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের যৌথ অভিযানে ১ হাজার ৬৯৬ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিন ব্যবসায়ীকে মোট ১ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
জব্দ করা পলিথিনের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪ লাখ টাকা।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রহমত উল্লাহর নেতৃত্বে অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে প্রসিকিউশন দেন পরিবেশ অধিদপ্তর চাঁদপুর জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক শরমিতা আহমেদ লিয়া।
অভিযানে বাবুরহাট মধ্যবাজারের বাবুরহাট প্লাজার ব্যবসায়ী বশির পাটোয়ারীর কাছ থেকে ১ হাজার ৫৮৩ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ করা হয়। এ অপরাধে তাঁকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া মো. মাহবুবের দোকান থেকে ৪৩ কেজি পলিথিন জব্দ করে ২৫ হাজার টাকা এবং ফখরুদ্দিনের দোকান থেকে ৭০ কেজি পলিথিন জব্দ করে আরও ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযানসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বাবুরহাট প্লাজার দ্বিতীয় তলার একটি বড় গুদামে পলিথিন মজুত করেছিলেন বশির পাটোয়ারী। এর আগেও একই ধরনের অপরাধে তিনি জরিমানার মুখে পড়েছিলেন বলে জানা গেছে।
অভিযানের সময় বশির পাটোয়ারী বলেন, যাঁরা পলিথিন উৎপাদন করেন, তাঁদের জরিমানা করা দরকার। ভবিষ্যতে এ ধরনের ব্যবসা আর করবেন না বলেও তিনি জানান। তবে বারবার জরিমানা হওয়ার পরও কেন একই ব্যবসায় জড়িত ছিলেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জীবিকা নির্বাহের বিষয়টি তুলে ধরেন।
এদিকে বাজারের ব্যবসায়ীরা প্রশ্ন তুলেছেন, এত বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ পলিথিন কীভাবে বাজারে আসছে। তাঁদের মতে, শুধু বিক্রেতা বা মজুতদার নয়, নিষিদ্ধ পলিথিন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকেও চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি। উৎপাদন ও সরবরাহ পর্যায়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া গেলে বাজারে নিষিদ্ধ পলিথিনের প্রবেশ ঠেকানো সম্ভব হবে।
অভিযানে জব্দ করা পলিথিন ট্রাকে করে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় পরিবেশ অধিদপ্তরের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন। ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় চাঁদপুর জেলা পুলিশের একটি দল সহযোগিতা করে।
পরিবেশ অধিদপ্তর চাঁদপুর জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মিজানুর রহমান জানান, নিষিদ্ধ পলিথিনের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
বিআলো/শিলি