যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের নাম পরিবর্তন করে নিউ আমেরিকা রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এটি তার রাজনৈতিক এজেন্ডার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ভৌগোলিক নাম পরিবর্তনের প্রচেষ্টার সর্বশেষ উদাহরণ। তবে এই অঙ্গরাজ্যের নাম বদলের ক্ষমতা ট্রাম্পের আছে কি না, তা নিয়ে চলছে আলোচনা।
কানসাসে এক নির্বাচনি জনসভায় অংশ নেওয়ার আগে স্থানীয় সময় সোমবার (১৯ অক্টোবর) ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে এমন প্রস্তাব দেন তিনি।
ওই পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘নিউ মেক্সিকোর উচিত অবিলম্বে তাদের নাম পরিবর্তন করে ‘নিউ আমেরিকা’ রাখা। আমরা মেক্সিকো নই, আমরা হলাম যুক্তরাষ্ট্র।’
২০২৪ সালের নির্বাচনে নিউ মেক্সিকোতে ৬ পয়েন্টের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিলেন ট্রাম্প। তার এই মন্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসে নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখা নিয়ে উদ্বিগ্ন রিপাবলিকানরা।
জনমত জরিপে ভোটাররা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট দেশের সবচেয়ে জরুরি সমস্যাগুলোর দিকে যথেষ্ট মনোযোগ দিচ্ছেন না।
ট্রাম্প কোনো প্রমাণ ছাড়াই দাবি করেছেন, নাম পরিবর্তনের ফলে ‘বাড়ির মূল্য ও আয় বাড়বে’। এ ছাড়া তিনি নির্বাচনে কারচুপির বিষয়ে তার ভিত্তিহীন দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন, ‘হয়তো নিউ মেক্সিকো যে কারচুপিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য পরিচিত, সেগুলোও আবার সুষ্ঠু হয়ে উঠবে!’
ট্রাম্প এর আগেও নিউ মেক্সিকোর নাম পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়েছিলেন, যদিও তখন তিনি এতটা জোরালো ছিলেন না। সেপ্টেম্বরে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অঙ্গরাজ্যটির একটি মানচিত্র পোস্ট করেছিলেন, যেখানে ‘মেক্সিকো’ শব্দটি কেটে নিচে ‘আমেরিকা’ লেখা ছিল—এই ছবিটি হোয়াইট হাউসের এক্স অ্যাকাউন্ট থেকেও পুনরায় পোস্ট করা হয়েছিল।
এটি ট্রাম্পের নাম পরিবর্তনের সর্বশেষ উদ্যোগ। কানাডার সঙ্গে চলমান বাণিজ্য যুদ্ধের অংশ হিসেবে, আগস্ট মাসে তিনি লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তন করে ‘লেক আমেরিকা’ রাখার জন্য একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছিলেন। গত বছর তিনি একইভাবে ‘গালফ অব মেক্সিকোর’ নাম পরিবর্তন করে ‘গালফ অব আমেরিকা’ রাখার পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। এ ছাড়া তিনি ‘স্ট্রেট অব হরমুজের’ নাম বদলে ‘ট্রাম্প স্ট্রেট’ রাখার প্রস্তাবও দিয়েছেন।
যদিও ‘জিওগ্রাফিক নেমস ইনফরমেশন সিস্টেমের’ অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন ভৌগোলিক স্থান যেমন জলাশয়ের নাম পরিবর্তনের ক্ষমতা রয়েছে ট্রাম্পের, তবে কোনো অঙ্গরাজ্যের নাম আইনত পরিবর্তন করার সাংবিধানিক ক্ষমতা তার নেই। এ ধরনের পরিবর্তনের প্রক্রিয়া সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের ভেতর থেকেই আসতে হবে।
‘ব্যুরো অব ইন্ডিয়ান অ্যাফেয়ার্সের’ তথ্য অনুযায়ী, নিউ মেক্সিকো নামটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার অনেক আগে, ১৬ শতক থেকেই প্রচলিত। নিউ মেক্সিকোর ডেমোক্র্যাটিক গভর্নর মিশেল লুজান গ্রিশাম সোমবার সন্ধ্যায় ট্রাম্পের মন্তব্য নাকচ করে দিয়েছেন।
এক্স বার্তায় তিনি লিখেছেন, আমি আবারও বলছি, যুক্তরাষ্ট্রের অস্তিত্বের অনেক আগে থেকেই নিউ মেক্সিকো ‘নিউ মেক্সিকো’ হিসেবে ছিল এবং চিরকাল তা ‘নিউ মেক্সিকো’ থাকবে।
নিউ মেক্সিকোর সিনেটর বেন রে লুজান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, অঙ্গরাজ্যটির নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে প্রজন্মের পর প্রজন্মের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সমৃদ্ধ ঐতিহ্য; যা আজও আমাদের পরিচয় গড়ে দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা নিউ মেক্সিকোর বাসিন্দা। আমরা আমাদের নাম নিয়ে গর্বিত, আমাদের আবাসস্থল নিয়ে গর্বিত—আর আমরা এই দুটোকেই ধরে রাখব। ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার অনেক পরেও, আমরা ‘নিউ মেক্সিকো’ হিসেবেই টিকে থাকব। সূত্র: সিএনএন