বামেদের বুকস্টল নিয়ে আইনি জটিলতা ও হাজার বিতর্কের মাঝেই শারদোৎসব উপলক্ষে বীরভূম জেলাজুড়ে একসঙ্গে ২২টি বুকস্টলের উদ্বোধন করল জেলা সিপিএম নেতৃত্ব। শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ‘প্রগতিশীল সাহিত্যের বুক স্টল’ উদ্বোধনের পর দেখা গেল, স্টলগুলিতে মার্ক্স-লেনিনের বইয়ের পাশাপাশি স্বামী বিবেকানন্দ ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের লেখা বইয়েরও প্রচুর সম্ভার। রাজনৈতিক মতাদর্শের গণ্ডি পেরিয়ে ভারতের বিভিন্ন মনীষীর লেখা ও তাঁদের নিয়ে প্রকাশিত বইকে পাঠকের সামনে তুলে ধরার এই উদ্যোগ নজর কেড়েছে।
বুক স্টলের অনুমতি নিয়ে বিতর্ক প্রসঙ্গে গৌতম ঘোষ বলেন, “বইয়ের স্টল করার জন্য হাই কোর্ট পর্যন্ত যেতে হচ্ছে। এর থেকেই বোঝা যাচ্ছে, ওরা চায় না মানুষ বই পড়ুক। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, স্বামী বিবেকানন্দ-সহ নানা বই রয়েছে। মানুষ জানুক আসল ইতিহাস।”
এছাড়া আজ আরও একটি অনুষ্ঠানও পালন করেন বীরভূমের কমরেডরা। ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর বঙ্গভঙ্গের প্রতিবাদে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রাখিবন্ধন কর্মসূচির ডাক দিয়েছিলেন। তার স্মরণে এদিন পথে নামেন সিপিএম কর্মীরা। পথচলতি মানুষকে রাখি পরিয়ে দিনটি উদযাপন করেন তাঁরা। তবে সিপিএমের এই বুক স্টলগুলিতে শুধু মার্ক্স, লেনিন কিংবা ভগৎ সিংয়ের বই নয়, বেশি করে জায়গা পেয়েছে স্বামী বিবেকানন্দ ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের বইও। রাজনৈতিক মতাদর্শের গণ্ডি পেরিয়ে বিভিন্ন মনীষীর লেখা ও তাঁদের নিয়ে প্রকাশিত বইকে পাঠকের সামনে তুলে ধরার এই উদ্যোগে নজর কেড়েছে বইয়ের বৈচিত্র্য।
শুক্রবার বোলপুরে একটি বুক স্টলের উদ্বোধন করেন সিপিএমের বীরভূম জেলা সম্পাদক গৌতম ঘোষ। স্টলে রয়েছে ভ্লাদিমির লেনিন, কার্ল মার্ক্স, ভগৎ সিং, চে গুয়েভারা ও নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জীবন ও আদর্শ সংক্রান্ত বই। পাশাপাশি রাখা হয়েছে স্বামী বিবেকানন্দ এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে নিয়ে প্রকাশিত বইও।
এদিন বঙ্গভঙ্গ ও রাখিবন্ধন উৎসব স্মরণে বোলপুরের রাস্তায় পথচলতি মানুষের হাতে রাখি পরিয়ে দেন সিপিএম কর্মীরা। বুক স্টলের অনুমতি নিয়ে বিতর্ক প্রসঙ্গে গৌতম ঘোষ বলেন, “বইয়ের স্টল করার জন্য হাই কোর্ট পর্যন্ত যেতে হচ্ছে। এর থেকেই বোঝা যাচ্ছে, ওরা চায় না মানুষ বই পড়ুক। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, স্বামী বিবেকানন্দ-সহ নানা বই রয়েছে। মানুষ জানুক আসল ইতিহাস।” পুজোর কয়েকটা দিন এই বুক স্টলগুলিতে ভালো সাড়া মিলবে বলেও আশাবাদী সিপিএম।
