চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম নিজ কার্যালয়ে ২২ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ রয়েছেন।
সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রশাসনিক ভবনের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ১০টা পর্যন্ত উপাচার্যসহ ভবনের ভেতরে আটকে থাকা ব্যক্তিরা বের হতে পারেননি।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, চলমান অচলাবস্থার মধ্যে সোমবার সকাল পৌনে ৮টার দিকে প্রশাসনিক ভবন-২-এর তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন উপাচার্য। এরপর তিনি নিজ কার্যালয়ে যান। সকাল ৯টার দিকে ছাত্রদলপন্থি বর্তমান ও সাবেক আট থেকে ১০ জন শিক্ষার্থী নতুন উপাচার্যের সঙ্গে তার কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করেন। পরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা নতুন উপাচার্যকে দুপুর ১২টার মধ্যে ভবন ছাড়ার সময় বেঁধে দেন। নির্ধারিত সময়ে তিনি বের না হওয়ায় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ভবনের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন তারা।
উপাচার্যের সঙ্গে চুয়েট শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদ ও তার সহযোগীরা এবং কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীও ভবনের ভেতরে আটকা পড়েন। সবশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১০ থেকে ১১ জন উপাচার্যের সঙ্গে ভবনের ভেতরে অবরুদ্ধ রয়েছেন।
গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্যের পদ থেকে সরিয়ে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগের পর ২৪ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে যোগদানপত্র পাঠিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। তবে, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে এত দিন সরাসরি ক্যাম্পাসে যেতে পারেননি নতুন উপাচার্য।
নতুন উপাচার্য নিয়োগের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করছেন। একই দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছেন। তাদের দাবি, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহাল করতে হবে।
এদিকে, ১১ ও ১২ অক্টোবরের জন্য যন্ত্রকৌশল বিভাগের শিক্ষক মো. আরাফাত রহমানকে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এ সিদ্ধান্তেরও প্রতিবাদ জানান আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। চলমান আন্দোলনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
