Published on
:
3 min read
এই সময়: সন্তানের উচ্চতা বাড়বে, স্মৃতিশক্তি উন্নত হবে, মজবুত হবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা—শিশুখাদ্য ও পুষ্টি–পানীয়র প্যাকেট কিংবা বিজ্ঞাপনে এমন প্রতিশ্রুতি অভিভাবকদের সহজেই আকর্ষণ করে। তবে এই দাবিগুলির পিছনে কতটা নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ রয়েছে? শিশুর পুষ্টি নিয়ে সেই প্রশ্নেই এ বার একাধিক বিখ্যাত সংস্থার জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপনের দাবির সত্যতা যাচাইয়ে নেমেছে কেন্দ্রীয় খাদ্যসুরক্ষা ও মান নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ড অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (ফ্যাসাই)। অন্তত আধ ডজন ব্র্যান্ডকে নোটিস পাঠানোর কথা সংস্থার এক্স হ্যান্ডলে বৃহস্পতিবার পোস্ট করেছে ফ্যসাই।
পণ্যের সঙ্গে নজর কেড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার ভূমিকাও। তাই ফ্যাসাইয়ের স্ক্যানারে শুধুমাত্র বেবিফুড ও হেলথ ড্রিঙ্কই নয়, আতসকাচের নীচে এসেছে বিভিন্ন শিশুখাদ্যের প্রচারে সামাজিক মাধ্যমের ভূমিকাও। বিশেষ করে বেশ কয়েকটি ইনফ্লুয়েন্সার পেজের পোস্ট। যদিও কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যকর্তারা জানাচ্ছেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার নোটিস মানেই সংশ্লিষ্ট পণ্যের দাবি মিথ্যা প্রমাণিত হওয়া নয়। বরং দাবিগুলির পক্ষে বৈজ্ঞানিক তথ্য ও বিধি মেনে চলার ব্যাখ্যা চেয়েছে সংস্থা।
বহুজাতিক একটি নিউট্রাসিউটিক্যাল সংস্থার বিখ্যাত দু’টি বেবিফুডের কয়েকটি দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। একটি পণ্যে থাকা হুই প্রোটিন সহজে হজম হয় বলে পণ্যের প্যাকেট বা বিজ্ঞাপনে যে দাবি করা হয়েছে, তার পক্ষে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ চাওয়া হয়েছে। দুধ থেকে পনির তৈরির সময়ে যে তরল অংশ আলাদা হয়, তার মধ্যে থাকা প্রোটিনকে হুই প্রোটিন বলে। এটি উচ্চমানের প্রোটিনের একটি উৎস। আর একটি পণ্যের ক্ষেত্রে ‘৫ এইচএমওস হেল্পস সাপোর্ট নর্মাল ইমিউন সিস্টেম’ দাবিটির বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এইচএমওস বলতে ‘হিউম্যান মিল্ক অলিগো–স্যাকারাইড’ দাবি করা হয়। নিয়ন্ত্রক সংস্থার বক্তব্য, শিশুর ইমিউনিটি বৃদ্ধি ও বেবিফুডের সহজপাচ্যতার পক্ষেও প্রমাণ চাওয়া হয়েছে।
আর একটি সংস্থার বিখ্যাত ও জনপ্রিয় হেলথ ড্রিঙ্কও রয়েছে যাচাইয়ের আওতায়। পণ্যের লেবেল ও অনলাইন তালিকায় ‘২এক্স ফাস্টার গ্রোথ’, ‘সাপোর্টস কনসেনট্রেশন অ্যান্ড মেমরি’ এবং ‘প্রো ইমিউনিটি প্লাস ৩৪ ভাইটাল নিউট্রিয়েন্টস’-এর মতো দাবির সমর্থনেও নথি তলব করেছে ফ্যাসাই। ওই পণ্যের বিজ্ঞাপনে দাবি ‘গ্রো টলার, ফাস্টার। ক্লিনিক্যালি প্রুভেন ২এক্স গ্রোথ’ দাবির বৈজ্ঞানিক ভিত্তি জানতে চাওয়ার পাশাপাশি ‘গ্রোথ কামস ইন ৪ ফ্লেভার্স’ বিজ্ঞাপনের বক্তব্যটিও ২০১৮–র খাদ্য সুরক্ষা ও মান (বিজ্ঞাপন ও দাবি) বিধির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ফ্যাসাই।
শুধু পণ্যের প্যাকেট বা বিজ্ঞাপন নয়, নজরে এসেছে ইনস্টাগ্রামে বেবিফুডের প্রচারও। ইনফ্লুয়েন্সার ইরা ফাতিমার একটি রিলে ‘টপ ৫’ শিশুখাদ্যের তালিকায় থাকা পাঁচটি পণ্যের প্রচারে সুষম পুষ্টি, উন্নত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, মস্তিষ্কের বিকাশ ও সহজে হজমের মতো সুবিধার কথা জানানো হয়েছিল। এই ঘটনায় ইরার পাশাপাশি ওই পাঁচটি বেবিফুড পণ্যের নির্মাতা সংস্থাকেও নোটিস দেওয়া হয়েছে। ১৯৯২ –এর ইনফ্যান্ট মিল্ক সাবস্টিটিউটস আইন ও ২০০৩–এর সংশোধনী এবং ২০২০–র শিশু-পুষ্টি সংক্রান্ত বিধি লঙ্ঘিত হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফ্যাসাই।
নেসলে ইন্ডিয়ার ল্যাক্টোজেন প্রো ১ ও ন্যান এক্সেলা প্রো স্টেজ ১, জাইডাস ওয়েলনেসের কমপ্ল্যান, অ্যাবট হেলথকেয়ারের সিমিল্যাক অ্যাডভান্স ১, নিউট্রিশিয়া ইন্টারন্যাশনালের অ্যাপটামিল প্রিমিয়াম ১ এবং মিড জনসন নিউট্রিশন ইন্ডিয়ার এনফামিল এ+ স্টেজ ১-সহ বেশ কিছু শিশুখাদ্যের পুষ্টিগুণ, সহজপাচ্যতা, বৃদ্ধি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সংক্রান্ত দাবির বৈজ্ঞানিক ভিত্তি যাচাই করতে নোটিস দিয়েছে ফ্যাসাই।
ওই নোটিস প্রসঙ্গে নেসলে ইন্ডিয়ার মুখপাত্র বলেন, ‘পণ্যের লেবেল সংক্রান্ত বিষয়ে গত ১৮ সেপ্টেম্বরের পোস্টে যে বিষয়গুলি তুলে ধরা হয়েছিল, ফ্যাসাইয়ের সাম্প্রতিক পোস্টেও সেগুলিই ফের উল্লেখ করা হয়েছে। এই বিষয়ে আমরা ইতিমধ্যেই ফ্যাসাইয়ের কাছে বিস্তারিত জবাব জমা দিয়েছি।’
অ্যাবটের তরফে এক মুখপাত্র বলেছেন, ‘ফ্যাসাইয়ের নোটিসে উল্লেখিত সামাজিক মাধ্যমের বিষয়বস্তু তৈরিতে বা তার প্রচারে অ্যাবটের কোনও ভূমিকা ছিল না। সংস্থার অজান্তে, অনুমতি ছাড়াই তৃতীয় পক্ষ ওই বিষয়বস্তু তৈরি ও প্রকাশ করে। সংশ্লিষ্ট বিষয়বস্তু নির্মাতার সঙ্গে অ্যাবটের কোনও সম্পর্কও নেই। নিয়ন্ত্রক সংস্থার নোটিস পাওয়ার পরেই বিষয়টি আমাদের নজরে আসে। এ বিষয়ে যাবতীয় তথ্য ফ্যাসাইকে জানানো হয়েছে। ওই বিষয়বস্তুতে উত্থাপিত কোনও দাবি বা বক্তব্যকে অ্যাবট সমর্থন করে না। ভারতে দায়িত্বশীল ভাবে তথ্য পরিবেশন এবং সমস্ত প্রযোজ্য আইন ও বিধি মেনে চলতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
এ নিয়ে বাকি সংস্থাদের প্রতিক্রিয়ার জন্যও চেষ্টা করা হয়েছে লাগাতার। তবে তা পাওয়া যায়নি।
