বদলের বাংলায় আরও এক পরিবর্তন! সরকার বদল হতেই পাথরের ডিসিআর থেকে রাজস্ব আদায় বীরভূমে। গত সরকারের আমলে গোটা অক্টোবর মাসে এই খাতে যে পরিমাণ টাকা রাজস্ব হিসেবে জমা পড়েছিল, চলতি বছরে একদিনেই তার চেয়ে বেশি অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা পড়েছে। ১১ অক্টোবর পাথরের ডিসিআর থেকে ৩ কোটি ৪৪ লক্ষ টাকারও বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে। নতুন সরকারের এই সাফল্যকে রাজস্ব ফাঁকি রোখার ক্ষেত্রে বড় পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। উচ্ছ্বসিত খোদ রাজ্যের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী তথা সিউড়ির বিধায়ক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ও।
প্রসঙ্গত, বিগত সরকারের আমলে বীরভূম জেলা জুড়ে কার্যত ডিসিআরের নিয়ন্ত্রণ ছিল অনুব্রত মণ্ডল ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের হাতে! যার ফলে প্রাপ্য অর্থের দশ শতাংশও সরকারি কোষাগারে জমা পড়ত না বলে লাগাতার অভিযোগ জানিয়ে এসেছেন বিজেপি নেতারা। সরকার বদল হতেই টুলু মণ্ডলের কীর্তি সামনে এসেছে। বীরভূমজুড়ে তাঁর সমস্ত দুর্নীতি আজ প্রকাশ্যে। বন্ধ সমস্ত বেআইনি কারবার। গ্রেপ্তার করা হয়েছে টুলুর একের পর এক ঘনিষ্ঠকে। এমনকী কড়া হাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে জেলা প্রশাসন। এর ফলে পরিস্থিতির যে পরিবর্তন হয়েছে, সাম্প্রতিক রাজস্ব আদায়ের পরিসংখ্যানকে তারই সাক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরছে রাজ্য সরকার।
সমাজমাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, গত বছরের অক্টোবর মাসে পাথরের ডিসিআর থেকে রাজ্যের রাজস্ব আদায় হয়েছিল প্রায় ৩ কোটি ২৮ লক্ষ টাকা। সেখানে চলতি বছরের ১১ অক্টোবর এক দিনেই আদায় হয়েছে ৩ কোটি ৪৪ লক্ষ ১১ হাজার ৪১০ টাকা। অর্থাৎ, গত বছর গোটা মাসে আদায় হওয়া রাজস্বের অঙ্ককে এ বার এক দিনের সংগ্রহই ছাপিয়ে গিয়েছে।
চলতি বছরের ১ থেকে ১১ অক্টোবর পর্যন্ত বীরভূমে এই খাতে মোট রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ৩২ কোটি ১৭ লক্ষ ৩৮ হাজার ৫৯৫ টাকা ২০ পয়সা। এই সময়ে মোট ৪১ হাজার ৩৩৩টি রসিদ তৈরি হয়েছে। ১০ অক্টোবর যেখানে আদায় হয়েছিল ২ কোটি ৩০ লক্ষ ৬৫ হাজার ২০ টাকা, সেখানে পরের দিনই আদায় এক ধাক্কায় তিন কোটি ৪৪ লক্ষ টাকা ছাড়িয়ে যায়। ৮ অক্টোবরও ৩ কোটি ২৩ লক্ষ ২৩ হাজার ৫০০ টাকা রাজস্ব জমা পড়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী সমাজমাধ্যমে এই সাফল্যের কথা তুলে ধরে জেলা প্রশাসন ও ভূমি দফতরকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। চলতি মাসে পাথরের রাজস্ব থেকে ১০০ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশাও প্রকাশ করেছেন তিনি। অন্যদিকে জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, রাজস্ব ফাঁকির বিরুদ্ধে নতুন সরকারের পদক্ষেপের ফলেই এই পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে।
এখন নজর অক্টোবরের বাকি দিনগুলির দিকে। প্রথম ১১ দিনেই ৩২ কোটি টাকার বেশি আদায়ের পর মাস শেষে ১০০ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয় কি না, সেটাই দেখার।
