বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ ও পূজার বোনাসের দাবিতে বান্দরবানে সিভিল সার্জন কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে জেলা সদর হাসপাতালের একদল কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে। তাদের দাবি, দ্রুত বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ না করা হলে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল থেকে জেলা সদর হাসপাতালের জরুরি ও সাধারণ চিকিৎসাসেবা বন্ধ করে দেয়া হবে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে বান্দরবান সিভিল সার্জন কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সকালে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিজ নিজ কক্ষে দাপ্তরিক কাজ করছিলেন। এ সময় জেলা সদর হাসপাতালের প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক সুভাষ দাশের নেতৃত্বে একদল কর্মচারী কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। পরে তারা বিভিন্ন কক্ষের দরজায় বাইরে থেকে তালা ঝুলিয়ে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, সদর হাসপাতালের নার্সসহ বিভিন্ন দপ্তরে কর্মরত কর্মচারীরা সেখানে উপস্থিত হন। সিভিল সার্জনকে কার্যালয়ে না পেয়ে তারা হট্টগোল করেন। বকেয়া বেতনের ফাইলে স্বাক্ষর না হলে মঙ্গলবার থেকে হাসপাতালের সব ধরনের চিকিৎসাসেবা বন্ধের হুঁশিয়ারিও দেন তারা।
এদিকে, কয়েকজন নারী কর্মচারী তালা খুলে দেয়ার অনুরোধ জানালেও আন্দোলনকারীরা তাদের সঙ্গে অবমাননাকর আচরণ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার তথ্য ও ছবি সংগ্রহ করতে গেলে পেশাগত দায়িত্ব পালনরত সংবাদকর্মীদের ওপরও সুভাষ দাশ চড়াও হন বলে অভিযোগ রয়েছে।
আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয়া হিসাবরক্ষক সুভাষ দাশ সাংবাদিকদের বলেন, গত দুই মাস ধরে তাদের বেতন-ভাতা বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বারবার ডেপুটি সিভিল সার্জনকে তাগিদ দেয়া হলেও সমাধান হয়নি।
তিনি বলেন, সামনে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। বেতন-বোনাস না পাওয়ায় পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে তাদের। সোমবারের মধ্যে বেতনের ফাইলে স্বাক্ষর না হলে মঙ্গলবার সকাল থেকে হাসপাতালের জরুরি ও সাধারণ চিকিৎসাসেবা বন্ধ থাকবে।
এ বিষয়ে সিভিল সার্জন ডা. শাহীন চৌধুরী বলেন, সিভিল সার্জনের যোগদানসংক্রান্ত প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক জটিলতার কারণে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন আটকে রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।
