Published on
:
1 min read
রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার কারণে ভারত ও চিনের উপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্ক চাপানোর যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, আপাতত তাতে বিরতি দিলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রাশিয়া সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক কার্যকরের ক্ষেত্রে ছাড় দিয়ে নতুন নির্দেশ জারি করেছেন তিনি। এর ফলে ভারতের রপ্তানি বাণিজ্যের উপর সম্ভাব্য চাপ আপাতত কমলো। তবে ভবিষ্যতে এই পদক্ষেপ আবার কার্যকর করার ক্ষমতা ওয়াশিংটনের হাতে থাকছে।
কী ছিল আইনে?
গত মাসে ‘লিন্ডসে ও গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট, ২০২৬’ আইনে সই করেছিলেন ট্রাম্প। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষিতে মস্কোর আর্থিক শক্তি কমানোই এই আইনের অন্যতম লক্ষ্য। এর আওতায় রাশিয়ার জ্বালানি কেনে, এমন দেশগুলির উপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপানোর সুযোগ রাখা হয়েছিল। সেই তালিকায় ভারত, চিনের মতো রাশিয়ার তেলের বড় ক্রেতারাও ছিল।
শুক্রবার জারি করা নির্দেশে ট্রাম্প জানান, এই মুহূর্তে ওই আইনের আওতায় থাকা বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞা, বিধিনিষেধ ও শুল্ক কার্যকর করা থেকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে। তাঁর যুক্তি, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই সিদ্ধান্ত আমেরিকার জাতীয় স্বার্থের পক্ষে। তবে এই ছাড় স্থায়ী নয়। প্রয়োজনে পরে শুল্ক ও নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হতে পারে।
ভারতের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?
ভারত বিশ্বের অন্যতম বড় রুশ অপরিশোধিত তেলের ক্রেতা। তুলনায় কম দামে রাশিয়া থেকে তেল কেনা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আমদানি খরচ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কিন্তু আমেরিকা যদি ভারতীয় পণ্যের উপর অতিরিক্ত ১০০ শতাংশ শুল্ক চাপাত, তা হলে মার্কিন বাজারে ভারতীয় রপ্তানিকারীদের খরচ বেড়ে যেত। প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কাও তৈরি হতো।
তাই ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে ভারত আপাতত স্বস্তি পেলেও বাণিজ্য নিয়ে অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটেনি। রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের জ্বালানি বাণিজ্য এবং আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কের উপর আগামী দিনের মার্কিন সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়তে পারে।
