স্নায়ুযুদ্ধের সময়কার হুমকির চেয়েও বিস্তৃত এক ছায়াযুদ্ধের মুখে রয়েছে জার্মানি বলে সতর্ক করেছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডোব্রিন্ট। সোমবার (১২ অক্টোবর) বার্লিনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জার্মানির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা বিএফভির সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।
বিএফভির সংবাদ সম্মেলনে ডোব্রিন্ট বলেন, ‘আজ আমরা যে ছায়াযুদ্ধ প্রত্যক্ষ করছি, তার লক্ষ্য স্নায়ুযুদ্ধের সময় দেখা যেকোনো কিছুর চেয়েও অনেক বেশি বিস্তৃত।’
রাশিয়া ইউরোপজুড়ে নাশকতা, সাইবার হামলা ও অন্যান্য প্রচলিত যুদ্ধের বাইরের তৎপরতা চালিয়ে ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন দুর্বল করার চেষ্টা করছে বলে কয়েক মাস ধরে সতর্ক করে আসছেন পশ্চিমা দেশগুলোর কর্মকর্তারা। তবে রাশিয়া এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং এর পেছনে রুশবিরোধী মনোভাবকে দায়ী করেছে।
রাশিয়ার নাম সরাসরি উল্লেখ না করে ডোব্রিন্ট বলেন, ‘এর স্পষ্ট লক্ষ্য আমাদের অস্থিতিশীল করা এবং আমাদের ভিত থেকে অস্থিতিশীল করে দেওয়া।’
তার এ বক্তব্যের সঙ্গে চলতি মাসে জার্মানির বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা বিএন্ডবিএনডির প্রধানের দেওয়া সতর্কবার্তার মিল রয়েছে। ওই কর্মকর্তা বলেছিলেন, জার্মানি মস্কোর সঙ্গে সহিংস সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
জার্মানির প্রতিবেশী দেশ চেক প্রজাতন্ত্রের নিরাপত্তা সংস্থাও সোমবার সতর্ক করে বলেছে, ইউক্রেনকে সমর্থন দেওয়া ন্যাটোর সদস্যদেশগুলোতে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে আরও ঝুঁকিপূর্ণ ও বড় ধরনের অভিযান চালাতে পারে রাশিয়া।
গত আগস্টে জার্মানির একটি বিমানবন্দরে বিস্ফোরক বহনকারী ড্রোন দিয়ে হামলার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর দেশটির গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ক্ষমতা বাড়ানোর দাবি আরও জোরালো হয়েছে। কর্তৃপক্ষ ওই ঘটনার জন্য রাশিয়াকে দায়ী করেছিল।
সোমবার বিএফভির প্রধান সিনান সেলেন বলেন, রাশিয়া তাদের হাইব্রিড অভিযানে প্রায় সব ধরনের কৌশল ব্যবহার করছে। এর মধ্যে রয়েছে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার, তথ্যের বিকৃতি, নাশকতা এবং জার্মানির ভেতরে হত্যার ষড়যন্ত্র।
তিনি বলেন, ‘এটি এমন একটি বাস্তবতা, যার মোকাবিলা আমাদের করতেই হবে।’
লাইপজিগের ড্রোন-সংক্রান্ত ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সেলেন বলেন, একই ধরনের আরও তৎপরতা ঘটতে পারে বলে তিনি মনে করছেন। ক্রেমলিন অবশ্য ঘটনাটিকে সাজানো বলে দাবি করেছে।
গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ক্ষমতা বাড়াতে জার্মান সরকারের একটি সংস্কার বিল বর্তমানে সংসদীয় কমিটিগুলোতে পর্যালোচনাধীন। সেপ্টেম্বরে বিলটির প্রথম পাঠ সম্পন্ন হয়েছে। এতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে সক্রিয় প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতাসহ আরও বিস্তৃত ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
ডোব্রিন্ট বলেন, ‘গোয়েন্দা সংস্থা ও সক্ষমতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে জার্মানি দ্বিতীয় বা তৃতীয় সারির কোনো খেলোয়াড় হতে পারে না। আমরা যেসব চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছি, তাতে আমাদের সামনের সারিতেই থাকতে হবে।’
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর, নাৎসি শাসনের স্মৃতি তখনো তাজা থাকাকালে জার্মানির গোয়েন্দা সংস্থাগুলো গড়ে তোলা হয়। ঐতিহাসিক কারণে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো মিত্রদেশগুলোর তুলনায় জার্মানির গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ক্ষমতা ঐতিহ্যগতভাবে বেশি সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।
সূত্র : রয়টার্স
