‘পরশু তো ষষ্ঠী! আপনার কাজ পরশুর মধ্যে হয়ে শেষ হয়ে যাবে?’ চতুর্থীর সকাল থেকে সমাজমাধ্যমে ট্রেন্ডিং ‘জয় বাবা ফেলুনাথ’-এর বিখ্যাত ডায়লগ। আর সেই ট্রেন্ডই বলে দিচ্ছে, মা আসছে। তবে ষষ্ঠীর জন্যে কে আর অপেক্ষা করে? মহালয়ার পর থেকেই প্যান্ডেলমুখী পুজোপ্রেমীরা। গত কয়েক বছরে শহরের পুজোকে পাল্লা দিচ্ছে জেলার পুজোগুলিও। যার মধ্যে অন্যতম হাওড়ার শানপুরের পুজো। এলাকার অন্যতম প্রাচীন পুজো এটি। কিন্তু বেশ কিছু বছর আগে থেকেই থিমের জোয়ারে গা ভাসিয়েছে এই পুজোও। এবার শানপুর বারোয়ারির থিম ‘আদিযোগী’। যাকে ‘দিব্যদর্শন’ও বলা হয়। শুধু তাই নয়, দর্শকদের জন্য থাকছে বিশেষ লেজার শো।
কোয়েম্বাটুর এবং কর্নাটকের চিক্কাবাল্লাপুরে পাহাড় ঘেরা পরিমণ্ডলের মাঝে রয়েছে আদিযোগী মূর্তি। যার উচ্চতা প্রায় ১১০ ফুট। শিবের এই মূর্তি দেখতে গোটা দেশ তো বটেই, বিদেশ থেকেও বহু মানুষ আসেন। বিশেষ করে সুবিশাল এই মূর্তিকে ঘিরে যে লেজার এবং সাউন্ড শো দেখা যায়, তা মুগ্ধ করে মানুষকে। সেটাকেই এবার হাওড়ার শানপুর বারোয়ারীর পুজো মণ্ডপে তুলে ধরতে চাইছেন পুজো উদ্যোক্তারা। পুজো কমিটির যুগ্ম সম্পাদক বাপ্পা কোলে ও লিটু বাগ বলেন, “মণ্ডপের মাথায় থাকছে বিশাল শিবের মূর্তি। তার সঙ্গেই থাকছে লেজার শো। যেখানে আদিযোগীর ইতিহাস ও যোগবিদ্যার প্রসারের গল্প এই শো’য়ের মাধ্যমে মূর্তির গায়ে ফুটিয়ে তোলা হবে।”
উদ্যোক্তাদের কথায়, লেজার শো এমনভাবে উপস্থাপন করা হবে, যা একঝলকে দেখলেই মনে হবে মূর্তিটি যেন নিজেই জীবন্ত হয়ে কথা বলছে! বাপ্পা কোলে বলছেন, রাতের এই লেজার শো’টি চাক্ষুষ করার জন্য শানপুর বারোয়ারীর পুজো মণ্ডপে মানুষকে আসতেই হবে। তাঁর কথায়, সন্ধ্যার পর থেকে বিশেষ এই লেজার শো শুরু হবে পুজো মণ্ডপে। প্যান্ডেলের সমস্ত আলো বন্ধ করে দেখানো হবে শো’টি। উদ্যোক্তাদের কথায়, রোমাঞ্চকর পরিমণ্ডলে এই লেজার শো দর্শকদের একেবারে চমকে দেবে। আর সেই চমকের অপেক্ষাতেই এখন থেকে লাইনে ভিড় জমাচ্ছেন দর্শনার্থীরা।
