লক্ষ্মী হলেন সম্পদ-সমৃদ্ধির দেবী। প্রতিটি পরিবারে সারা বছর তাঁর আরাধনা হয়। পাঁচালি পড়ে চলে ধনদেবীর পুজো। আবহমানকাল থেকে বাড়ির মা-ঠাকুমা-বৌমারা প্রতি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় লক্ষ্মীর পাঁচালি পড়েন। যুগ যুগ ধরে ‘দোলপূর্ণিমার নিশি নির্মল আকাশ’ বা ‘শরৎপূর্ণিমা নিশি নির্মল গগন’ উচ্চারণের মাধ্যমে পরিবারের সুখ-শ্রীবৃদ্ধি কামনা করা হয়। এমনকি কোজাগরী পূর্ণিমায় পুরোহিত পুজো করে যাওয়ার পরেও বাড়ির মহিলারা দেবীর সামনে বসে পাঁচালি পড়েন। তবে যেমন-তেমন করে পড়লে চলবে না কিন্তু। নির্দিষ্ট দিকে মুখ করে বসে পাঁচালি পাঠ করলে তবেই মিলবে সুফল।
কোন দিকে মুখ করে লক্ষ্মীর পাঁচালি পড়া উচিত?
সব সময়ে স্নান সেরে পরিষ্কার ও ধোয়া পোশাক পরে পাঁচালি পড়তে হয়। খালি মেঝে বা মাটিতে বসে নয়, পাঁচালি পড়বে হবে কুশ বা কম্বলের আসনে বসে। পাঁচালি পড়ার সময়ে মুখ থাকতে হবে পূর্ব অথবা উত্তর দিকে।
সূর্যোদয় হয় পূর্ব দিকে। তাই পূর্ব দিক অত্যন্ত শুভ। পূর্ব দিকে মুখ করে পাঁচালি পড়লে কাঙ্খিত ফল লাভ হয়। মানসিক শান্তি মেলে ও আধ্যাত্মিক চেতনার উন্নতি হয়। পূর্ণ হয় মনোবাঞ্ছা। অন্য দিকে, বাস্তুশাস্ত্র মতে উত্তর দিক হল ধনসম্পদের অধিপতি কুবেরের দিক। মনে করা হয়, উত্তর দিকে তাঁর অবস্থান। ফলে উত্তর দিকে মুখ করে বসে পাঁচালি পড়লে ধন-সম্পদ লাভ হয়। আর্থিক সাফল্য আসে।
গৃহের উত্তর-পূর্ব কোণ অর্থাৎ ঈশান কোণ হল আদৰ্শ দেবস্থান। দেবদেবীর মূর্তি, প্রতিমা, বিগ্রহ সব সময়ে এমন ভাবে প্রতিষ্ঠা করা হয়, যাতে পুজো করার সময়ে ভক্ত, সাধক বা পুরোহিতের মুখ সব সময়ে পূর্ব বা উত্তর দিকে থাকে। পূর্ব বা উত্তর দিকে মুখ করে পুজো করলে ঈশ্বর তুষ্ট হন। পুজোর ফল মেলে। একই কথা খাটে লক্ষ্মীর পাঁচালির ক্ষেত্রেও। উত্তর বা পূর্ব দিকে মুখ করে বসে পাঁচালি পড়লে দেবী প্রসন্না হন। ফল দান করেন।
এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।
