Published on
:
2 min read
চোরবাগান সর্বজনীনে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর প্রাথমিক ময়নাতদন্ত রিপোর্ট সামনে এল। রবিবার সন্ধ্যায় সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, বুকের উপরে প্রচণ্ড চাপ পড়ায় দমবন্ধ হয়ে প্রাণ হারান অধিকাংশ দর্শনার্থীর। তবে এখনও সম্পূর্ণ ময়নাতদন্তের রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসেনি। সেটা এলেই ১৯ জনের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যাবে।
প্রাথমিক ময়নাতদন্ত রিপোর্ট তৈরি করেছেন কলকাতা পুলিশ মর্গের চিকিৎসকরা। সেখানে বুকের উপর প্রচণ্ড চাপ পড়ে শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণেই অধিকাংশের মৃত্যু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। চিকিৎসার পরিভাষায় একে বলা হয় ‘ট্রমাটিক অ্যাসফিক্সিয়া ডিউ টু চেস্ট কম্প্রেশন’। অর্থাৎ ভিড়ের কারণে বুকের উপরে এমন ভাবে চাপ পড়েছিল যে ফুসফুস স্বাভাবিক ছন্দে প্রসারিত হতে পারেনি। ফলে দমবন্ধ হয়ে যায়। তাতেই মৃত্যু হয় বলে প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে।
কয়েক জনের শরীরে গুরুতর অভ্যন্তরীণ আঘাতের চিহ্ন মিলেছে বলেও ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। জানা গিয়েছে, প্রচণ্ড ধাক্কা ও চাপের কারণে ফুসফুস, পাকস্থলী, লিভার, প্যানক্রিয়াস এবং মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছিল। কোনও কোনও ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ অঙ্গ ফেটে যাওয়া এবং রক্তক্ষরণেরও উল্লেখ রয়েছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিভাষায়, এই ধরনের আঘাতকে ‘ভিসেরাল রাপচার অ্যান্ড হেমারেজ’ বলা হয়।
প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ভিড়ের চাপে তৈরি হওয়া শারীরিক আঘাতই এই মৃত্যুগুলির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। তবে সম্পূর্ণ ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত ১৯ জনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা। পাশাপাশি খতিয়ে দেখতে হবে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা সংক্রান্ত অন্যান্য তথ্যও। তবেই নিশ্চিত হতে পারবেন চিকিৎসকরা।
উল্লেখ্য, পুলিশ ও চোরবাগান সর্বজনীন সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার সন্ধ্যায় ঝেঁপে বৃষ্টি হচ্ছিল। রাস্তায় ছিল তীব্র যানজট। সেই সময়ে আচমকাই হুড়োহুড়ি শুরু হয়। বৃষ্টি থেকে বাঁচতে অনেকেই মণ্ডপের ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। তখন পদপিষ্টের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে সূত্র মারফত জানা গিয়েছে। ঘটনায় ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত ২৫ জন। মৃতদের পরিবারপিছু একজনকে সরকারি চাকরি ও ২৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করেছেন তিনি। পাশাপাশি আহতদের ৫ লক্ষ টাকা করে দেবে রাজ্য সরকার।
