খুলনা গেজেট অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ৫:৪৫ অপরাহ্ণ
ভারতের গ্রেটার নয়ডায় নুডলস খেয়ে এক পরিবারের পাঁচ সদস্যের মৃত্যুর ঘটনায় রহস্যের জট খুলেছে। সম্পত্তি নিয়ে বিবাদের ফলেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে বলে সন্দেহ করছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। রবিবার (১৮ অক্টোবর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে এ তথ্য জানিয়েছে পুলিশের একটি সূত্র।
গত শনিবার স্থানীয় সময় সকাল ৮টা নাগাদ নাগলা শ্রী পদম গ্রামের একটি কক্ষ থেকে মহেশ (৩৭), তার স্ত্রী ললিতা (৩৫), সাত বছরের মেয়ে মিষ্টি এবং দুই ছেলে লাড্ডু (১১) ও সাক্ষাতের (৩) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় একটি স্থানীয় মেলা থেকে রাত ১০টার দিকে বাড়ি ফিরে পরিবারটি রাতের খাবার হিসেবে নুডুলস খেয়েছিল। ফলে প্রাথমিকভাবে এটিকে খাদ্য বিষক্রিয়ার ঘটনা বলে মনে করা হয়েছিল।
তবে পুলিশের সূত্র জানিয়েছে, মহেশ নিজেই সম্ভবত নুডুলসে বিষ মিশিয়েছিলেন। মহেশের মোবাইল ফোন থেকে একটি অডিও নোটও উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রের বরাতে এনডিটিভি জানায়, ওই অডিওতে নিজের এই পরিণতি ও মৃত্যুর জন্য দুই বোন এবং এক ভগ্নিপতিকে দায়ী করেছেন মহেশ।
এদিকে মহেশের ভাইয়ের স্ত্রী নীরজ এনডিটিভিকে জানান, পারিবারিক সম্পত্তি বণ্টন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা বিরোধের কারণেই পরিবারটিতে তীব্র মানসিক চাপ তৈরি হয়েছিল।তার স্বামীর মৃত্যুর পর তাকে ঘর থেকে বের করে দেয়া হয়েছিল। তবে মহেশ তাকে আশ্বাস দিয়েছিলেন যে পরবর্তীতে পুরো পরিবার আবার একসঙ্গেই থাকবে।
দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী খাদ্য নিরাপত্তা কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, এটি কোনও সাধারণ খাদ্য বিষক্রিয়া নয়, বরং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিষ প্রয়োগ বা বিষপানের ঘটনা বলেই মনে হচ্ছে।
খাদ্য নিরাপত্তা কর্মকর্তা ওপি সিং জানান, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া খাবারের প্যাকেট ও অন্যান্য সামগ্রী পরীক্ষা করে দেখেছেন তারা। তবে এসবে মেয়াদোত্তীর্ণ কিছু পাওয়া যায়নি। নিহতদের কারোর মধ্যেই বমি বা ডায়রিয়ার মতো খাদ্য বিষক্রিয়ার সাধারণ উপসর্গ দেখা যাওয়ার কোনও তথ্য মেলেনি। স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্যের বরাত দিয়ে ওপি সিং জানান, উদ্ধারকাজের সময় এক শিশুর মুখ দিয়ে ফেনা বের হতে দেখা গিয়েছিল।
খুলনা গেজেট/এএজে
