রাজ্য বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান নির্বাচনেও পালাবদল। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে চেয়ারম্যান পদে থাকা তৃণমূলপন্থী আইনজীবী তথা বজবজের তৃণমূল বিধায়ক অশোক দেবকে হারিয়ে এ বার ওই পদে নির্বাচিত হলেন বিজেপিপন্থী আইনজীবী সমীর পাল। সোমবারের নির্বাচনে সমীর পেয়েছেন ১৮টি ভোট। অশোকের ঝুলিতে গিয়েছে ৮টি ভোট। ফলে ১০ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন সমীর। সোমবার সন্ধ্যায় পূর্ত দফতরের তাঁবুতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জয়ী সকল আইনজীবীদের শুভেচ্ছা জানান।
২০১৬ সাল থেকে টানা এক দশক রাজ্য বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান পদে ছিলেন অশোক। দীর্ঘদিনের সেই দায়িত্বের পর এ বার নির্বাচনে তাঁর পরাজয় তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। বার কাউন্সিলের সদস্যদের একাংশের দাবি, তৃণমূলপন্থী আইনজীবীদের একাংশের ‘ক্রস ভোটিং’-এর ফলেই অশোকের পরাজয় হয়েছে। যদিও এ নিয়ে তৃণমূলপন্থী আইনজীবীদের তরফে প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও মেলেনি।
চেয়ারম্যান নির্বাচনের পাশাপাশি এ দিন বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান এবং সর্বভারতীয় বার কাউন্সিলে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিনিধি নির্বাচনও হয়। ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিজেপিপন্থী আইনজীবী অজয় চৌবে জয়ী হয়েছেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বামপন্থী আইনজীবী মিহির বন্দ্যোপাধ্যায়। অজয় ১৭-৯ ভোটে জয় পেয়েছেন বলে বিজেপির তরফে জানানো হয়েছে।
অন্য দিকে, বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ায় পশ্চিমবঙ্গের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন অরুণ সরকার। তিনি তৃণমূলপন্থী আইনজীবী হিসেবে পরিচিত। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ তৃণমূলপন্থী আইনজীবী আনসার আলি মণ্ডল। অরুণ ১৭-৯ ভোটে জয়ী হয়েছেন। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিতদের অভিনন্দন জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, গত রবিবার সল্টলেকের সেচ দফতরের বাংলোয় কয়েকজন প্রার্থীর সঙ্গে বৈঠক করে তাঁদের সমর্থনের কথা জানিয়েছিলেন তিনি। সোমবারের ফলাফলে তাঁর মনোনীত প্রার্থীরা তৃণমূলের প্রার্থীদের হারিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অশোক দেবকে সামনে রেখে নির্বাচনে গিয়েছিলেন। কিন্তু সমীর পাল ১৮-৮ ভোটে জয় পেয়েছেন। ভাইস চেয়ারম্যান পদেও আমাদের প্রার্থী অজয় চৌবে ১৭-৯ ভোটে জিতেছেন।’’ তাঁর বক্তব্য, প্রতীক না থাকলেও চেয়ারম্যান পদে জয়ী আইনজীবী সমীর পালের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক পরিচয় রয়েছে এবং তিনি বিজেপির কর্মী এবং শুভানুধ্যায়ীও বটে। নবনির্বাচিত বার কাউন্সিলের সঙ্গে পুজোর ছুটির পর বৈঠক করে রাজ্যের আইনজীবীদের পরিকাঠামোগত সমস্যাগুলি নিয়ে পরিকল্পনা করার কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, রাজ্যের কয়েক হাজার আইনজীবী যে ভাবে সরকার এবং বিজেপির প্রতি আস্থা রেখেছেন, তার জন্য তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞ। আইন ও বিচার দফতরের পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর সঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বিরাজ বিশ্বাসও এই কাজে যুক্ত থাকবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। চেয়ারম্যান পদে জয়ী সমীর বলেন, ‘‘আমরা যে এই অসাধ্য সাধন করতে পেরেছি, তা ভাবতে পেরেই ভাল লাগছে। এই লড়াইয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সাহায্য পেয়েছিলাম। তিনি কিন্তু সব কৃতিত্বই আমাদের আইনজীবীদের দিয়েছেন।’’
