Published on
:
2 min read
সাতটি পুকুর থেকে জল নিয়ে আসা হয়। সেই জল দিয়ে মন্দিরের সামনেই তৈরি করা হয় একটি ছোট জলাশয়। বিজয়া দশমীতে সেই জল ও কাদা দিয়ে খেলায় মেতে ওঠেন আট থেকে আশি সকলেই। বহু বছর ধরেই এই রীতি চলে আসছে বাঁকুড়ার জয়পুরের বৈতলে ঝগড়ভঞ্জনী মায়ের পুজোয়। এই প্রথা শুরুর পিছনে রয়েছে এক প্রাচীন ইতিহাস। স্থানীয়দের বিশ্বাস, এই জল-কাদা গায়ে লাগলে ঘটে রোগমুক্তি। ভক্তি ও বিশ্বাসের মেলবন্ধনে আজও সেই খেলায় মেতে উঠলেন গ্রামবাসীরা।
দীর্ঘ বহু বছরের নীতি মেনে এবারও বিজয়া দশমীতে জয়পুরের বৈতল গ্রামে ঝগড়ভঞ্জনী দুর্গা মন্দিরের সামনে ‘কাদা খেলা’ অনুষ্ঠিত হলো। বুধবার মন্দির প্রাঙ্গনে এলাকার নারী-পুরুষ সকলেই জল ছোড়াছুড়িতে অংশগ্রহণ করেন। বিজয়া দশমীর দিন সকলের উপস্থিতিতে জলে নেমে শুরু হয় ‘কাদা খেলা’।
তবে কবে থেকে শুরু হলো এই প্রথা? লোককথা অনুযায়ী, বিষ্ণুপুরের রাজপরিবারের একটা অংশ বর্ধমানের রাজা কিনে নেন। এই নিয়ে শুরু হয় মামলা। বিষ্ণুপুর রাজা দ্বিতীয় রঘুনাথ সিংহ ওই মামলার কাজে বর্ধমান যাওয়ার পথেই ঝগড়াই চণ্ডীর মন্দিরে প্রণাম সেরে বেরিয়ে দেখেন সামনের বিশাল বট গাছের নীচে একটি ছোট্ট মেয়ে একা কাদামাটি নিয়ে খেলা করছে।
সেই ছোট্ট মেয়ের সারা গায়ে কাদা-জল। রাজাকে দেখেই ওই মেয়েটি বলে, ‘আয় খেলবি আয়’। রাজা বলেন, ‘অনেক কাজ, সেই কয়েক ক্রোশ দূরের বর্ধমান যেতে হবে মামলা লড়তে।’
মেয়েটি বলে, ‘মোটে চিন্তা করিস না, মামলায় জিতে যাবি।’
‘যদি জিতে যাই, ফেরার সময়ে খেলা করব তোর সঙ্গে।’ এই বলে রাজা তাঁর নিজ গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হন। ঘটনাচক্রে রাজা সেই মামলায় জিতে যান। ফেরার সময়ে সৈন্য-সামন্ত নিয়ে কাদা খেলেন মন্দির চত্ত্বরে। তখন থেকেই প্রতিবছর বিজয়া দশমীর দিন ঝগড়ভঞ্জনী দুর্গা মন্দিরের সামনে কাদা খেলার প্রচলন চলে আসছে।
স্থানীয়দের বিশ্বাস মন্দির চত্বরে কাদা খেলা শেষে ওই জল বাড়িতে নিয়ে গিয়ে মানুষ ও গৃহপালিত জীবদের শরীরে ছোঁয়ালে রোগমুক্তি সম্ভব। সেই কারণে গ্রামের হাজার হাজার মানুষ এই খেলায় অংশ নেন প্রতি বিজয়া দশমীতে। স্থানীয় বাসিন্দা জ্যোতি সর্দার বলেন, ‘বহু বছর ধরে এটা প্রচলন। এই জল বাড়ি নিয়ে যাচ্ছি। এটা থেকে অনেক রোগ-জ্বালা সেরে যায়। আমরা প্রতিবছরেই আসি এখানে কাদা খেলায় অংশ নিতে।’
