আজকাল ওয়েবডেস্ক: স্ত্রী নিখোঁজ। তাঁকে নাকি বাড়ির সামনে থেকে তুলে নিয়ে গিয়েছেন আমেরিকার অভিবাসন দপ্তরের আধিকারিকরা! পুলিশের জেরায় এমনটাই দাবি করেছিলেন স্বামী। কিন্তু তদন্ত এগোতেই বদলে গিয়েছে ছবি। শেষ পর্যন্ত স্ত্রীর পোড়া দেহ উদ্ধার এবং একাধিক অসঙ্গতির সূত্রে স্ত্রীকে খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হল ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক ব্যক্তিকে। ঘটনাটি ঘটেছে আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ার।
জানা গিয়েছে, অভিযুক্তের নাম গুরিন্দর গিল। বয়স ২৮ বছর। তাঁর স্ত্রী জেসমিন গিলের বয়স ৩০। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, গত ৩০ সেপ্টেম্বর স্যাক্রামেন্টোর বাড়িতে শেষবার দেখা গিয়েছিল জেসমিনকে। এর চার দিন পর, ৪ অক্টোবর তাঁর এক আত্মীয় নিখোঁজের অভিযোগ দায়ের করেন। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশকে গুরিন্দর জানিয়েছিলেন, বাড়ির সামনে ডাকবাক্স থেকে চিঠি সংগ্রহ করার সময় জেসমিনকে তুলে নিয়ে যান আমেরিকার অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা আইসিই-র আধিকারিকরা। অবৈধ অভিবাসন-সহ নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে তদন্ত ও আটক করার ক্ষমতা রয়েছে এই কেন্দ্রীয় সংস্থার। কিন্তু গুরিন্দরের দাবির সত্যতা যাচাই করতে তদন্তকারীরা আইসিই-র সঙ্গে যোগাযোগ করলে সংস্থাটি জানায়, ওই ঠিকানায় কোনও অভিযান চালানো হয়নি।
অন্যদিকে, ১ অক্টোবর ক্যালিফোর্নিয়ার এল ডোরাডো কাউন্টিতে পোড়া মানবদেহের অবশেষ উদ্ধার হয়েছিল। পরে পরীক্ষা করে তা জেসমিনের দেহাবশেষ বলে শনাক্ত করা হয়। তদন্তে গুরিন্দরের বয়ানে একাধিক অসঙ্গতি খুঁজে পান গোয়েন্দারা। পাশাপাশি জানা যায়, তাঁদের মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদ এবং সন্তানের হেফাজত নিয়ে বিবাদ চলছিল।
স্যাক্রামেন্টো কাউন্টি শেরিফের দপ্তরের বিবৃতি অনুযায়ী, তদন্তের ভিত্তিতে গুরিন্দরের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। ১৪ অক্টোবর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তিনি স্যাক্রামেন্টো কাউন্টি জেলে বন্দি রয়েছেন।
জেসমিন ছিলেন পেশায় নার্স। মাত্র আট মাসের এক পুত্রসন্তান রয়েছে তাঁর। পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, জেসমিন নিজের ও সন্তানের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে বিবাহবিচ্ছেদের কথা ভাবছিলেন। জেসমিনের দেহ ভারতে ফিরিয়ে আনার জন্য পরিবারের সদস্যরা অর্থ সংগ্রহ করতে শুরু করেছেন।
