মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) যশোর সদরের বাহাদুরপুর সার্বজনীন পূজা মন্দিরে দুর্গাপূজা পরিদর্শন ও শুভেচ্ছা বিনিময়কালে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, একাত্তর ও চব্বিশের পরাজিত শক্তি দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট করতে চায়। তারা চায় না এ দেশের মানুষ শান্তিতে বসবাস করুক। এই পরাজিত শক্তির অপতৎপরতা রুখতে এবং সমাজকে অস্থিতিশীলতার হাত থেকে রক্ষা করতে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে প্রতিমন্ত্রী যশোর সদরের অন্তত ২০টি গ্রামের পূজা মন্দির পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি প্রতিটি মন্দিরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন। প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, ধর্মীয় বা রাজনৈতিক পরিচয়ে কাউকে দুর্বল কিংবা সবল মনে করার কোনো অবকাশ নেই। যশোরের মাটিতে একজন মুসলিমের সন্তানের যেমন অধিকার রয়েছে, একজন সনাতন ধর্মাবলম্বীর সন্তানেরও ঠিক একই অধিকার রয়েছে। মানুষকে মানুষ হিসেবে বিবেচনা করাই বর্তমান সরকারের মূল দর্শন।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বিএনপি কখনো হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টিতে বিশ্বাস করে না। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ অনুসরণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কোনো বৈষম্য ছাড়াই দেশের মসজিদ, মন্দির, কবরস্থান ও শ্মশানের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের মূল চেতনা ছিল একটি বৈষম্যহীন মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা, আর সেই লক্ষ্যেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।
মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি পুনর্ব্যক্ত করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নতুন বাংলাদেশে কোনো মাদক ব্যবসায়ী বা সন্ত্রাসীর স্থান হবে না। অপরাধীদের রাজনৈতিক বা পারিবারিক পরিচয় কোনোভাবেই আমলে নেওয়া হবে না; যে কোনো মূল্যে তাদের নির্মূল করাই সরকারের লক্ষ্য। একই সঙ্গে তিনি ধর্মকে পুঁজি করে কেউ যাতে মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সকলকে সজাগ দৃষ্টি রাখার অনুরোধ জানান।
যশোরের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পাশাপাশি করোনারি কেয়ার ইউনিটের উন্নয়ন কাজ দ্রুত শেষ করা হবে, যাতে স্থানীয়রা উন্নত চিকিৎসা সেবা পান। এছাড়া দীর্ঘদিনের পরিত্যক্ত সুইমিং পুল সংস্কারসহ স্টেডিয়ামের আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পরিদর্শনকালে জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম, সাবেক সহসভাপতি গোলাম রেজা দুলু, সদর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি অধ্যাপক আব্দার হোসেন খান, সাধারণ সম্পাদক আনজুরুল হক খোকন, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট যশোর জেলা শাখার সদস্যসচিব নির্মল কুমার বিটসহ স্থানীয় বিএনপি ও পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
