দুর্গাপূজার ছুটিতে কক্সবাজারে ৮ লাখ পর্যটক সমাগমের প্রত্যাশা : যাত্রীদের চাপ সামলাতে বিশেষ ট্রেন
বিশেষ প্রতিবেদক :: শারদীয় দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা পাঁচ দিনের অবকাশকে কেন্দ্র করে দেশের প্রধান পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজারে পর্যটকদের আগমন বাড়তে শুরু করেছে। আগামী ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত ছুটিতে আট লাখের বেশি পর্যটকের সমাগম হতে পারে বলে আশা করছেন পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
ইতোমধ্যে শহরের হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টের প্রায় ৮০ শতাংশ কক্ষ অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে। পর্যটকদের বাড়তি চাপ সামাল দিতে আবাসন, পরিবহন, নিরাপত্তা ও বিনোদনসেবায় প্রস্তুতি নিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
শুক্রবার বিকেলে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা, লাবণী ও কলাতলী পয়েন্ট ঘুরে দেখা যায়, পর্যটকদের পদচারণে মুখর হয়ে উঠেছে সৈকত। কেউ ঘোড়ার পিঠে চড়ে ঘুরছেন, কেউ বিচ বাইক কিংবা জেটস্কিতে সমুদ্রের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন।
আবার কেউ পরিবার-পরিজন ও প্রিয়জনের সঙ্গে সাগরের ঢেউয়ে মেতে উঠেছেন আনন্দে। সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে ছবি তোলা, সমুদ্রের সৌন্দর্য উপভোগ ও অবসর কাটাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন পর্যটকেরা।
দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ছুটি এবং সাপ্তাহিক অবকাশ মিলিয়ে টানা পাঁচ দিনের ছুটিতে পর্যটকদের বড় একটি অংশ কক্সবাজার ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন। এ কারণে পর্যটন খাতের ব্যবসায়ীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে বাড়তি আশাবাদ।
পর্যটকদের চাহিদা বিবেচনায় হোটেল-রিসোর্টে কক্ষ বুকিং, পরিবহনব্যবস্থা এবং পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে সেবার প্রস্তুতি জোরদার করা হচ্ছে।
সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে কথা হয় পর্যটক মিহির কুমার ও বেবি দাশের সঙ্গে। তাঁরা বলেন, পূজার ছুটিতে কক্সবাজারে আসার পরিকল্পনা আগে থেকেই ছিল। এ জন্য অফিস থেকে আগাম ছুটিও নিয়েছেন। এখানে এসে তাঁদের বেশ ভালো লাগছে।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও উৎসবের ছুটিতে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ তাঁদের ভ্রমণকে আনন্দময় করে তুলেছে।
কক্সবাজার হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, ইতোমধ্যে পর্যটকদের আগমন শুরু হয়েছে। ভালো মানের হোটেল ও রিসোর্টের বেশির ভাগ কক্ষ অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, দুর্গাপূজার ছুটিতে আট লাখের বেশি পর্যটক কক্সবাজারে আসবেন। পর্যটকদের এই সম্ভাব্য চাপকে কেন্দ্র করে আবাসন খাতের ব্যবসায়ীরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
এদিকে পর্যটকদের যাতায়াত সহজ করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। দুর্গাপূজার ছুটিতে কক্সবাজারমুখী যাত্রীদের বাড়তি চাপ সামাল দিতে ২০, ২৩ ও ২৪ অক্টোবর বিশেষ ট্রেন পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কক্সবাজার রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন ম্যানেজার জয়নাল আবেদীন বিশেষ ট্রেন পরিচালনার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, টানা ছুটিতে কক্সবাজারগামী যাত্রীর চাপ অনেক বেশি থাকে। সেই চাপ সামাল দিতেই বিশেষ ট্রেন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
পর্যটকের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সৈকত ও আশপাশের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা, যানবাহন চলাচল এবং সেবার মান নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পর্যটকদের স্বাচ্ছন্দ্য বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি হোটেল, রিসোর্ট, পরিবহন ও পর্যটনসেবার সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক এম এ মান্নান বলেন, পর্যটন মৌসুমকে সামনে রেখে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। দুর্গাপূজার ছুটিতে পর্যটকের চাপ বাড়বে। তাঁদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হবে।
সব মিলিয়ে দুর্গাপূজার টানা ছুটিকে ঘিরে কক্সবাজারের পর্যটন খাতে বাড়তি কর্মচাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। পর্যটকদের প্রত্যাশিত আগমন বাস্তবে রূপ নিলে আবাসন, পরিবহন, রেস্তোরাঁ, স্থানীয় যানবাহন ও সৈকত কেন্দ্রিক বিভিন্ন সেবার সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীরা উপকৃত হতে পারেন।
তবে বিপুলসংখ্যক পর্যটকের ভ্রমণ নির্বিঘ্ন করতে সেবার মান, নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করাই হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
