শনিবার ইতালির একাধিক শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। দেশটির সংবাদ সংস্থা আনসার তথ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশকে বিভিন্ন স্থানে কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করতে হয়েছে।
ফ্রান্সের পর এবার বিক্ষোভ ও সহিংসতায় উত্তাল হয়ে উঠেছে ইতালি। দেশটির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাজধানী রোমসহ তুরিন ও বোলোনিয়ায় কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এদিকে সহিংসতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইতালির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাত্তেও পিয়ান্তেদোসি।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) দেশটির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ চলাকালে এসব সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি ঘিরে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে কর্তৃপক্ষ।
একই সঙ্গে গত সপ্তাহান্তে বিক্ষোভের সময় সংঘটিত সহিংসতার তদন্তের অংশ হিসেবে মিলানসহ ২২টি শহরের দেড় শতাধিক স্থানে তল্লাশি চালানো হয়েছে।
বার্তা সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার ইতালির একাধিক শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। দেশটির সংবাদ সংস্থা আনসার তথ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশকে বিভিন্ন স্থানে কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করতে হয়েছে।
তুরিনে বিক্ষোভ চলাকালে একপর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ পুলিশকে লক্ষ্য করে বোতল ও আতশবাজি ছুড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে পুলিশ।
রাজধানী রোমেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়। মিছিল চলার সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে বোতল ছোড়ার ঘটনা ঘটে। এরপর বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এদিকে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে গত সপ্তাহান্তে সংঘটিত সহিংসতার ঘটনায় তদন্ত জোরদার করেছে ইতালির কর্তৃপক্ষ। এরই অংশ হিসেবে মিলান, পার্শ্ববর্তী শহর মনজা এবং আরও ২০টি শহরে দেড় শতাধিক স্থানে তল্লাশি চালানো হয়েছে।
ইতালির সংবাদ সংস্থা আনসার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশের সদস্যদের হুমকি দেওয়া, তাদের ওপর হামলার পরিকল্পনা, যানবাহনের ক্ষতিসাধন এবং বিভিন্ন ভবনে আগুন দেওয়ার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তদন্তের সঙ্গে এসব তল্লাশির সম্পর্ক রয়েছে।
তদন্তের আওতায় সহিংসতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে কর্তৃপক্ষ। গত সপ্তাহান্তের অস্থিরতার ঘটনায় কারা জড়িত ছিলেন এবং সহিংসতার পরিকল্পনা কীভাবে করা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করার কথা জানিয়েছেন ইতালির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাত্তেও পিয়ান্তেদোসি। তিনি বলেন, যেসব শহরকে নিরাপত্তার দিক থেকে বিশেষভাবে সংবেদনশীল বলে বিবেচনা করা হচ্ছে, সেখানে অতিরিক্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সহিংস কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষ কঠোর পদক্ষেপ নেবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলার মতো ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সরকারের অবস্থান কঠোর বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
