রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে কর্মরত এক কারারক্ষীর বিরুদ্ধে চাকরি দেওয়ার নামে ১৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, পাওনা টাকা ফেরত চাওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবারকে মারধরের চেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত ওই কারারক্ষীর নাম মো. শাকিল মিয়া (৩৫)। তিনি বর্তমানে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে কর্মরত আছেন (কারারক্ষী নং-০০৭৫৪)।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগী মোছা. স্নিগ্ধা পারভীন (৩৩) বাদী হয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরপিএমপি) কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, কারারক্ষী শাকিল মিয়ার সঙ্গে রংপুর মহানগরীর ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের সর্দারপাড়ার বাসিন্দা মোছা. স্নিগ্ধা পারভীনের পূর্বপরিচয় ছিল। সেই সুবাদে ২০২৩ সালে শাকিল মিয়া স্নিগ্ধা পারভীনের ভাগিনা মো. ডলার (২৪)-কে কারারক্ষী পদে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখান। সরল বিশ্বাসে ভাগিনার ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে ২০২৩ সালের বিভিন্ন সময়ে স্নিগ্ধা পারভীন নগদ ১৪ লাখ টাকা কারারক্ষী শাকিলের হাতে তুলে দেন।
টাকা নেওয়ার পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও ডলারের চাকরি দিতে ব্যর্থ হন শাকিল। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী পরিবার টাকা ফেরত চাইলে শাকিল ‘আজ দেব, কাল দেব’ বলে দীর্ঘদিন ধরে কালক্ষেপণ করতে থাকেন এবং বিভিন্ন অজুহাতে সময় নষ্ট করেন।
সর্বশেষ গত ২১ অক্টোবর (বুধবার) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার সময় কোতোয়ালী থানাধীন কেল্লাবন্দ মেডিনোভা ক্লিনিকের পেছনে কারারক্ষী শাকিলের ভাড়া বাসার সামনে ভুক্তভোগী স্নিগ্ধা পারভীন টাকা ফেরত চান। এতে কারারক্ষী শাকিল চরম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং বলেন, ‘কোনো টাকা ফেরত দিতে পারব না, যা পারিস কর।’ একপর্যায়ে টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ করলে শাকিল ভুক্তভোগীদের ওপর চড়াও হন এবং মারধর করার জন্য তেড়ে আসেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনাস্থলে কেল্লাবন্দ এলাকার জনৈক সামছুল ইসলামের বাড়ির গেটের সামনে এই হট্টগোল সৃষ্টি হয়। ঘটনার সময় স্থানীয় বাসিন্দা এবং বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘বাংলা টিভি’র সাংবাদিক মো. রিফাত হোসেন বাধনসহ বেশ কয়েকজন এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাংবাদিক রিফাত হোসেন বাধন বলেন, ‘ঘটনাটি সত্য। চাকরি দেওয়ার নামে টাকা নিয়ে উল্টো ভুক্তভোগীদের সঙ্গে অত্যন্ত খারাপ আচরণ এবং মারধরের চেষ্টা করা হয়েছে। আমরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করি।’
ভুক্তভোগী স্নিগ্ধা পারভীন বলেন, ‘বিবাদী সরকারি চাকরিজীবী হয়েও আমাদের সরলতার সুযোগ নিয়ে এতগুলো টাকা আত্মসাৎ করেছে। এখন টাকা ফেরত চাইলে গুন্ডাদের মতো আচরণ করছে। আমরা পারিবারিকভাবে আলোচনার পর আজ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার ও টাকা ফেরত চাই।’
এ বিষয়ে কারারক্ষী শাকিল আহমেদকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন। টাকা নেওয়ার ভিডিও প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করলে তিনি কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে রংপুর বিভাগের ডিআইজি প্রিজনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ পেলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে বিষয়টি আমরা খতিয়ে…
