শামীম আহমেদ টিটো: ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ভক্তি ও নানা আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে যশোরে শারদীয় দুর্গাপূজার মহাষ্টমী উদযাপিত হয়েছে। রোববার (১৮ অক্টোবর) যশোর রামকৃষ্ণ আশ্রম ও মিশনে কুমারী পূজা ও সন্ধিপূজাকে কেন্দ্র করে ভক্তদের ব্যাপক সমাগম ঘটে।
সকাল ৫টায় মহাষ্টমী পূজা এবং সকাল সাড়ে ৯টায় কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়। এ বছর যশোরের বেজপাড়া এলাকার সোহাগ পাঠক ও মল্লিকা পাঠকের পাঁচ বছর বয়সী কন্যা, প্লে-শ্রেণির শিক্ষার্থী সোহানী পাঠককে শাস্ত্রমতে ‘সুভগা’ রূপে পূজা করা হয়।
কুমারী পূজা শেষে ভক্তরা দেবীর চরণে অঞ্জলি প্রদান করেন। এ সময় তাঁরা সন্তানদের মঙ্গল, শান্তি ও বিশ্বমানবতার কল্যাণ কামনায় প্রার্থনা করেন।
অন্যদিকে, অষ্টমী ও নবমী তিথির সন্ধিক্ষণে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী সন্ধিপূজা অনুষ্ঠিত হয়। বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুসারে সন্ধ্যা ৬টা ১৩ মিনিট থেকে ৭টা ১ মিনিট পর্যন্ত ৪৮ মিনিটের এই বিশেষ পূজা সম্পন্ন হয়। পরে অসুর শক্তির বিনাশের প্রতীক হিসেবে চালকুমড়ো, ইক্ষু ও পাকা কলা দিয়ে প্রতীকী বলি দেওয়া হয়।
পুরোহিতদের মতে, অষ্টমী ও নবমীর সন্ধিক্ষণে দেবী চামুণ্ডা রূপে চণ্ড ও মুণ্ড নামে দুই অসুরকে বধ করেছিলেন। এ কারণে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে সন্ধিপূজার বিশেষ ধর্মীয় তাৎপর্য রয়েছে।
যশোর রামকৃষ্ণ আশ্রম ও মিশনে পূজার পুরোহিতের দায়িত্ব পালন করেন প্রণয় চক্রবর্তী। তন্ত্রধারী পুরোহিত ছিলেন শক্তিপ্রসাদ গাঙ্গুলী। সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন আশ্রমের অধ্যক্ষ স্বামী জ্ঞানপ্রকাশানন্দ ও সহসম্পাদক স্বামী আত্মবিভানন্দ।
এদিকে, আজ সোমবার (১৯ অক্টোবর) মহানবমী। যশোর রামকৃষ্ণ আশ্রম ও মিশনে সকাল সাড়ে ৬টায় মহানবমীর বিহিত পূজা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এদিন শাস্ত্রীয় রীতি অনুযায়ী ১০৮টি পদ্মফুল দিয়ে দেবী দুর্গার পূজা করা হবে।
আগামীকাল মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিজয়া দশমী। সকাল সাড়ে ৬টায় দশমী কল্পারম্ভের মধ্য দিয়ে দিনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুযায়ী, সকাল ৮টা ৫২ মিনিটের মধ্যে দশমীর পূজা সমাপন ও দর্পণ বিসর্জনের কথা রয়েছে। পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতায় প্রতিমা নিরঞ্জন ও শান্তিজল সিঞ্চনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে ছয় দিনব্যাপী শারদীয় দুর্গোৎসব।
মহানবমী ও বিজয়া দশমী উপলক্ষে যশোরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও ভক্তদের সমাগম অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
