সাদা ফুলের মালায় সাজানো দেয়াল, মেঝেজুড়ে প্রদীপের সারি, মাঝখানে দেবীর প্রতিমা আর চারপাশে ফুলের সুবাস—এমন আয়োজন ঘরের পরিবেশে আনবে পূজার গন্ধ।
এর সঙ্গে আলপনা আঁকা সুতি কাপড়, শীতল পাটি, পিতলের পাত্র আর মাটির সামগ্রী যোগ করলে অন্দর হবে পূজার নিজস্ব এক পরিসর।
প্রতিমা ঘিরেই সাজের আয়োজন
ঘরের পূজার সাজ শুরু হতে পারে দেবীর প্রতিমা বা প্রতিমার ছবি দিয়ে। বাড়িতে পূজার জন্য নির্দিষ্ট জায়গা থাকলে সেখানে কাঠের পিঁড়ি, ছোট মঞ্চ বা নিচু টেবিলের ওপর প্রতিমা রাখা যায়।
জায়গাটি পরিষ্কার করে তার ওপর লাল, সাদা বা হলুদ কাপড় বিছিয়ে নিলে প্রতিমার সৌন্দর্য ফুটে উঠবে।
“প্রতিমার পেছনে সাদা কাপড় দিয়ে দুই পাশে ফুলের মালাও ঝুলিয়ে দেওয়া যেতে পারে। আবার চাইলে প্রতিমার দুই পাশে ছোট মাটির কলস বা রঙিন পাত্রও রাখা যায়”, বলেন অন্দরসজ্জাবিদ গুলশান নাসরিন।
ফ্যাশন ও ইন্টেরিয়র ডিজাইন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রেডিয়েন্ট ইনস্টিটিউট অব ডিজাইন-এর এই প্রতিষ্ঠাতা আরও বলেন, “তবে ছোট ঘরে বড় আয়োজনের প্রয়োজন নেই। বরং প্রতিমাকে কেন্দ্র করে সাজের উপকরণগুলোই এমনভাবে রাখা যেতে পারে, যেন প্রতিটি জিনিস আলাদা করে চোখে পড়ে। পূজার সামগ্রী রাখার জন্য ছোট পিতলের থালা বা কাঠের পিঁড়ি ব্যবহার করা যায়।”
প্রদীপের সাজে আলো ও সুবাস
পূজার সাজে প্রদীপের ব্যবহার মানেই ঐতিহ্য। মাটির, পিতলের, ধাতব ও নকশা করা নানান ধরনের প্রদীপ পাওয়া যায়। সাধারণ মাটির প্রদীপের পাশাপাশি ফুলের নকশা করা প্রদীপ কিংবা রঙিন মাটির ছোট পাত্রও ঘর সাজাতে ব্যবহার করা যেতে পারে।
“বিভিন্ন আকারের প্রদীপ একসঙ্গে সাজালে মেঝেতে আসবে বিন্যাস। প্রতিমার সামনে দুই পাশে সারি করে কিংবা ফুলের মালার চারপাশে গোল করেও প্রদীপ সাজানো যেতে পারে”, বলেন গুলশান নাসরিন।
এছাড়া ফুলের সুবাসযুক্ত সুগন্ধি মোমবাতি ও সুগন্ধি প্রদীপও পাওয়া যায়। গোলাপ, জুঁই, চন্দন কিংবা রজনীগন্ধার ঘ্রাণের প্রদীপ হালকা সুবাস ছড়িয়ে দিতে পারে।
তবে সুগন্ধি প্রদীপ আগুন জ্বালিয়ে ব্যবহার করতে হলে কাপড়, ফুলের মালা ও অন্যান্য দাহ্য উপকরণ থেকে নিরাপদ দূরত্বে রাখা জরুরি।
ঘরে শিশু থাকলে কিংবা আগুন ব্যবহারে ঝুঁকি থাকলে ব্যাটারিচালিত প্রদীপ বা আগুনবিহীন সুগন্ধি উপকরণ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন, এই অন্দরসজ্জাবিদ
তাজা ফুলে ঘরের কোণ
ফুলের সৌন্দর্য ও সুবাস পূজার পরিবেশে আলাদা মাত্রা যোগ করে। গাঁদা, জবা, বেলি, রজনীগন্ধা বা সাদা মৌসুমি ফুল আনা যেতে পারে।
সাদা ফুলের মালা প্রতিমার পেছনে ঝুলিয়ে দিলে শান্ত ও স্নিগ্ধ আবহ আসবে। গাঁদার হলুদ ও কমলা রংয়ে সাজ আনবে উজ্জ্বলতা। জবা কিংবা লাল ফুল ব্যবহার করলে সাদা ও হলুদ ফুলের সঙ্গে বৈপরীত্য তৈরি হবে।
ছোট ঝুড়ি বা পাত্রেও সাজিয়ে রাখা যায় ফুল। প্রতিমার সামনে একটি পাত্রে তাজা ফুল রেখে তার পাশে কয়েকটি ফুলের পাপড়ি ছড়িয়ে দেওয়া যেতে পারে। আবার মেঝেতে আলপনার চারপাশে পাপড়ি দিয়ে নকশা তৈরি করলেও রঙিন লাগবে।
আলপনা আঁকা সুতি ও শীতলপাটি
পূজার জায়গা সাজাতে আলপনা আঁকা সুতি কাপড় বা শীতলপাটি আনবে বাঙালিয়ানা। সাদা কাপড়ে লাল নকশা, পদ্মফুল, শঙ্খ বা পায়ের ছাপের আলপনা- এসবে মিলবে পূজার আবহ।
প্রতিমার সামনে মেঝেতে এমন কাপড় বিছিয়ে রাখা যায়। আবার প্রতিমা রাখার পিঁড়ির ওপর বা ছোট টেবিলের নিচেও আলপনা করা কাপড় ব্যবহার করা যাবে।
মেঝেতে সরাসরি আলপনা আঁকতে না চাইলে এই কাপড় সুবিধাজনক। পূজা শেষ হলে সহজেই গুটিয়ে রাখা যায়, আবার পরের বছরও ব্যবহার করা সম্ভব।
পিতল, মাটি ও কাঠের উপকরণে সাজ
পিতলের ঘণ্টা, আরতির থালা, কলস, ধূপদানি বা ফুলদানি, এই সবকিছুতেই আছে পূজার ভাব।
তাই পুরানো পিতলের সামগ্রী থাকলে সেগুলো পরিষ্কার করে নতুনভাবে সাজে ব্যবহার করা যায়। আবার সাধারণ মাটির পাত্রে রং করে কিংবা ফুলের নকশা এঁকে নিজের মতো সাজিয়ে নেওয়া সম্ভব।
