নিরাপত্তা হুমকি ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণের আওতায় ৬০ হাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা স্বেচ্ছাসেবক গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে ভারত সরকার। দেশটির স্বাধীনতা দিবসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভাষণে দেওয়া পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আগামী মাস থেকে এ কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার।
ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও দেশটির সেনাবাহিনীর যৌথ উদ্যোগে প্রথমবারের মতো এ ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে। প্রথম ধাপে ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ৬০০ জন বেসামরিক প্রতিরক্ষা প্রশিক্ষককে তিন দিনের প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে এ প্রশিক্ষণ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
পরবর্তী সময়ে প্রত্যেক প্রশিক্ষক ১০০ জন করে স্বেচ্ছাসেবককে প্রশিক্ষণ দেবেন। এভাবে মোট ৬০ হাজার স্বেচ্ছাসেবককে প্রশিক্ষণের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। কর্মসূচিতে অংশ নেবে জম্মু ও কাশ্মীর, পাঞ্জাব, রাজস্থান, গুজরাট, দিল্লি, মেঘালয়, সিকিম, আসাম, উত্তর প্রদেশ, কেরালা, কর্ণাটক ও তামিলনাড়ু।
গত স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী মোদি আধুনিক ব্যবস্থা, প্রযুক্তি ও সমসাময়িক প্রস্তুতিসক্ষমতাসম্পন্ন একটি কার্যকর বেসামরিক প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। উদীয়মান নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এ উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেন তিনি।
সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন অগ্নিনির্বাপণ পরিষেবা, বেসামরিক প্রতিরক্ষা ও হোম গার্ডস অধিদপ্তর ভারতীয় সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে পরীক্ষামূলক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।
প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে তিনটি প্রধান বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে। প্রথমত, আধুনিক ও হাইব্রিড যুদ্ধ, ড্রোনসংক্রান্ত ঝুঁকি এবং বিমান হামলার সতর্কসংকেত সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা হবে।
দ্বিতীয়ত, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষা, অগ্নিনিরাপত্তা, রাসায়নিক, জৈবিক, তেজস্ক্রিয় ও পারমাণবিক ঝুঁকি মোকাবিলা, হতাহতদের ব্যবস্থাপনা এবং অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রমের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
তৃতীয়ত, জরুরি যোগাযোগব্যবস্থা, সাইবার নিরাপত্তার মৌলিক অনুশীলন, ডিজিটাল ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা, বেসামরিক ও সামরিক বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় এবং জরুরি পরিস্থিতি পরিচালনার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
এ উদ্যোগের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো প্রশিক্ষক তৈরির মাধ্যমে প্রশিক্ষণের পরিধি বাড়ানো। নির্ধারিত কাঠামোয় প্রশিক্ষিত ৬০০ জন প্রশিক্ষক পরবর্তী সময়ে আরও স্বেচ্ছাসেবককে প্রশিক্ষণ দেবেন। এর মাধ্যমে দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানোই ভারত সরকারের লক্ষ্য।
সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া
