সংবাদ · সাধারণ
পলাশে বেড়েছে পূজামণ্ডপ, প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরা
১১/১০/২০২৬

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা ঘিরে নরসিংদীর পলাশে মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে প্রতিমা তৈরি ও রং করার শেষ মুহূর্তের কাজ। কদিন পরেই দেবীর গায়ে উঠবে অলঙ্কারের সাজ। গত বছরের তুলনায় এবার উপজেলায় পূজামণ্ডপের সংখ্যা বেড়েছে।উপজেলার ঘোড়াশাল পৌর এলাকার পলাশ বাজারসহ বিভিন্ন মণ্ডপে এখন প্রতিমার মূল কাঠামো ও মাটির রূপদানের কাজ প্রায় শেষ। বাঁশ, কাঠ আর কাঁদা মাটি দিয়ে তৈরি অপূর্ব প্রতিমাগুলো দেখতে মণ্ডপগুলোতে ভিড় করছেন ভক্ত ও দর্শনার্থীরা। একই সঙ্গে কেনাকাটায় জমজমাট হয়ে উঠেছে পলাশের বিভিন্ন মার্কেট ও শপিং মল। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা পোশাক কিনতে স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি নরসিংদী সদর, শেখেরচর ও মাধবদীর বাবুরহাটেও যাচ্ছেন।পলাশ উপজেলায় এবার মোট ৪৬টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে, যা গতবারের চেয়ে ৫টি বেশি। জিনারদী, গজারিয়া, ডাংগা, চরসিন্দুর ও ঘোড়াশাল পৌরসভার বিভিন্ন গ্রামে এই পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে বড় পরিসরে দুর্গাপূজা আয়োজিত হয় রাবান, কুড়াইতলী, বরাবো, বালিয়া, পলাশ বাজার ও ডাঙ্গা মন্দিরে।উৎসব সুষ্ঠু ও শান্তিময় করতে ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ও পূজা উদযাপন ফ্রন্টের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক নিরাপত্তার আশ্বাস দেওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সনাতনী সম্প্রদায়। প্রতিমা তৈরির কারখানাগুলোতেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।পলাশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুব্রত দত্ত জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় সরকারি বিধিমালার কথা জানানো হয়েছে এবং তারা সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পলাশ পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক প্রদীপ চন্দ্র মিত্র বলেন, সরকার ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সহযোগিতায় এবার আরও সুন্দরভাবে উৎসব পালিত হবে।তবে প্রতিমা তৈরির উপকরণের দাম বাড়ায় কিছুটা বিপাকে পড়েছেন কারিগররা। ঘোড়াশালের প্রতিমাশিল্পী জয় কিশোর পাল জানান, ছন, খড়, বাঁশ, কাঠ ও মাটির দাম বাড়লেও পুজারীরা আগের দরদামেই প্রতিমা বানিয়ে নিতে চাচ্ছেন। ফলে লাভের পরিমাণ কমে গেছে।আগামী ১৫ অক্টোবর দেবীর বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে এ বছরের শারদীয় দুর্গোৎসব। ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে মণ্ডপে মণ্ডপে বেজে উঠবে ঢাকঢোল ও কাঁসার শব্দ এবং ২১ অক্টোবর প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এই উৎসব।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗