আজকাল ওয়েবডেস্ক: নাগপুরে স্বামীকে খুনের ঘটনার প্রায় দেড় মাস পর অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন পলাতক স্ত্রী। রবিবার থানে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে শনিবার থানের ডক্টর বাবাসাহেব আম্বেদকর রোড এলাকা থেকে ২৯ বছর বয়সী দীপালি ওরফে বালী বিজয় সালুংকে নামের ওই মহিলাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে স্বামীর সঙ্গে অশান্তি চরমে পৌঁছাতেই এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ঘটে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নাগপুরের অজনি এলাকার বাসিন্দা পেশায় অটোচালক গৌরব রাগড়ে (২৭)-র সঙ্গে প্রায় আট মাস আগে ভালোবেসে ভিন্ন জাতিতে বিয়ে হয়েছিল দীপালির। তবে দাম্পত্য জীবন বেশিদিন সুখের হয়নি। হৃষীকেশ খোড়ে নামের এক যুবকের সঙ্গে স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমের কথা জানতে পারার পরেই দুজনের মধ্যে প্রায়ই অশান্তি শুরু হয়। এর জেরেই একপর্যায়ে স্বামীর বাড়ি ছেড়ে আলাদা থাকতে শুরু করেন দীপালি।
গত ২০ অগাস্ট বিকেলে পরিস্থিতি সামাল দিতে ও বিরোধ মেটাতে নরেন্দ্র নগরের সুন্দরবন লেআউটে যান গৌরব। সেখানে তখন হৃষীকেশ তার দুই সঙ্গীকে নিয়ে মদ্যপান করছিল। বিকেল পাঁচটা নাগাদ দুজনের মধ্যে তীব্র বচসা শুরু হয়। নিহতের বাবার অভিযোগ, সেই সময় দীপালির প্ররোচনাতেই হৃষীকেশ ও তার সঙ্গীরা ধারালো ছুরি দিয়ে গৌরবের ওপর হামলা চালায়। নরেন্দ্র নগরের একটি নালার ব্রিজের কাছে এলোপাথাড়ি ছুরির আঘাতে গুরুতর আহত হন তিনি। রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর থেকেই নাগপুর ছেড়ে পালিয়ে থানেতে আত্মগোপন করেছিলেন দীপালি। থানে ক্রাইম ব্রাঞ্চের অ্যান্টি-এক্সটর্শন সেলের সিনিয়র পুলিশ ইন্সপেক্টর শৈলেশ সালভি জানান, জেরার মুখে ওই মহিলা নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন। ধৃত মহিলাকে ইতিমধ্যেই নাগপুরের বেলতারোদি থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তবে এই ঘটনায় জড়িত মূল অভিযুক্ত হৃষীকেশ ও তার সঙ্গীদের সন্ধানে এখনও তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।
