ঘিওর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ভর দুপুরে হাসপাতালের ফটকে চার কিশোরের অপেক্ষা। কিছুক্ষণ পর আরও দুই কিশোর ফল, ডাব, রুটি ও কলা নিয়ে সেখানে পৌঁছায়। জানা গেল, তারা ছয় বন্ধু স্কুল ছুটির পর অসুস্থ সহপাঠীকে দেখতে তারা হাসপাতালে এসেছে। টিফিনের টাকা সাশ্রয় করার পাশাপাশি তিন বন্ধু অভিভাবকের কাছ থেকে টাকা চেয়ে নিয়েছে। সেই টাকা দিয়ে খাবার কিনে অসুস্থ বন্ধুর কাছে যাচ্ছে তারা।
ফল আর পথ্য নিয়ে যখন হাসপাতালের তৃতীয় তলায় বন্ধু আসিফের শয্যার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল তারা, তখন আশেপাশের শয্যাগুলোতে থাকা রোগীর স্বজনদের দৃষ্টি ছিল তাদের দিকে। লক্ষ্মী এই কিশোরদের জন্য তাঁদের চোখে ঝরে পড়ছিল মমতা।
আর বন্ধুদের দেখে অসুস্থ আসিফের চোখে মুখে যে আনন্দের ঝিলিক দেখা দিল, তা ও অপার্থিব।
আসিফের বন্ধু আমান জানায়, গত কয়েকদিন ধরেই আসিফ স্কুলে যাচ্ছিল না। খবর নিয়ে যখন জানতে পারে, সে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি, তখন তাদের খুব মন খারাপ হয়। তাই সবাই মিলে ঠিক করে, ওকে দেখতে যাবে। আর সেজন্যই অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের অনুমতি নিয়ে বন্ধুর কাছে এসেছে তারা।
কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা জানান, আসিফের শারীরিক অবস্থা আগের তুলনায় ভালো। সবকিছু ঠিক থাকলে আরও দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হতে পারে।
হাসপাতালের গেটের অদূরে ব্যবসায়ী জামাল উদ্দিন বলেন, ‘ছোট্ট এই দৃশ্য স্কুলজীবনের সহপাঠীদের সঙ্গে কাটানো দিনের স্মৃতি ফিরিয়ে আনল। জীবনের অনেক সম্পর্কের মধ্যে স্কুলজীবনের বন্ধুত্বের টান আলাদা।’
আসিফ হোসেন ঘিওর উপজেলার পয়লা ইউনিয়নের তেরশ্রী কালি নারায়ণ ইনস্টিটিউটের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চার দিন ধরে সে ঘিওর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। তাকে দেখতেই হাসপাতালে গিয়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে ছয় বন্ধু পলাশ হাসান, রাহাত আল হাসান, আমান হক, সুকান্ত ঘোষ, বাদল ও মাধব বিশ্বাস।
এই বন্ধুত্বে ধর্ম কোন বাধা সৃষ্টি করেনি। আর্থ-সামাজিক অবস্থাও এখানে তুচ্ছ। বন্ধুত্ব মানে যে ভালোবাসার পাশাপাশি দায়িত্ব পালন, সবাই মিলে ভালো কিছু করার এক দুর্বার আকাঙক্ষা, তা-ই যেন বুঝিয়ে দিল এই কিশোর দল।

