সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের করা ৮ উইকেটে ২৭১ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৩৩ দশমিক ৪ ওভারে মাত্র ১৭২ রানেই গুটিয়ে যায় টাইগারদের ইনিংস। প্রতিপক্ষের দুই ব্যাটার ক্রেইগ আরভিন ও ব্রেন্ডন টেলরের সম্মিলিত রানের (১৭৪) সমান স্কোরও তুলতে পারেনি পুরো বাংলাদেশ দল। এই জয়ে জিম্বাবুয়ের পূর্ণাঙ্গ ওয়ানডে অধিনায়ক হিসেবে প্রথম জয়ের স্বাদ পেলেন অলরাউন্ডার সিকান্দার রাজা। আগামী বুধবার নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে আফগানিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।
এর আগে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে দলীয় মাত্র ২৪ রানেই টপ অর্ডারের তিন ব্যাটারকে হারিয়ে বিপদে পড়েছিল জিম্বাবুয়ে। তবে চতুর্থ উইকেটে অভিজ্ঞ ক্রেইগ আরভিন ও ব্রেন্ডন টেলর ১৫০ রানের বিশাল জুটি গড়ে দলকে লড়াইয়ে ফেরান। আরভিন ৯৩ এবং টেলর ৮১ রান করে দলের বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন, যার সুবাদে নির্ধারিত ওভারে ২৭১ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর পায় তারা। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে তাসকিন আহমেদ তিনটি এবং শরিফুল ইসলাম ও সাইফ হাসান দুটি করে উইকেট শিকার করেন।
জবাবে ২৭২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ইতিবাচক সূচনা পেয়েছিল বাংলাদেশ। তবে দলীয় ৪৭ রানের মাথায় ১৭ বলে ৯ রান করে ব্লেসিং মুজারাবানির বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন অপর ওপেনার সৌম্য সরকার। তানজিদ ব্যক্তিগত ফিফটির খুব কাছে গিয়েও নিয়ামহুরির বলে ক্যাচ তুলে দেন। সাজঘরে ফেরার আগে ৩৮ বলে ৯টি চার ও একটি ছক্কায় ৪৬ রান করেন তিনি, যা ছিল ইনিংসে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ। পাওয়ারপ্লেতে ২ উইকেটে ৬৬ রান তোলা বাংলাদেশ দ্রুতই তৃতীয় উইকেট হারায়, যখন নাজমুল হোসেন শান্ত ৯ বলে মাত্র চার রান করে প্যাভিলিয়নে ফেরেন।
দলীয় ৬৮ রানে তিন উইকেট হারানোর পর ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয় ও সাইফ হাসান ইনিংস মেরামতের চেষ্টা করেন। তবে তাঁদের ২৯ রানের জুটি ভাঙেন জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক সিকান্দার রাজা; আম্পায়ার শুরুতে আউট না দিলেও রিভিউ নিয়ে ২১ বলে ১৩ রান করা হৃদয়কে বিদায় করেন তিনি। এরপরই ঘটে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়। স্পিনার ওয়েলিংটন মাসাকাদজার টানা দুই ওভারে বিদায় নেন মোসাদ্দেক হোসেন ও সাইফ হাসান। ১২৩ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়া বাংলাদেশকে আরও বিপদে ফেলে ব্র্যাড ইভান্সের জোড়া আঘাত, যাতে উইকেট হারান নুরুল হাসান সোহান ও শরিফুল ইসলাম।
অষ্টম উইকেটে তাসকিন আহমেদ ও রিশাদ হোসেন ৩২ রানের জুটি গড়ে হারের ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করেন। এর মধ্যে নিয়ামহুরির এক ওভারে চারটি চার হাঁকিয়ে গ্যালারি মাতান রিশাদ। তবে ৩৩ বলে ২৩ রান করা রিশাদকে ফিরিয়ে নিজের শততম ওয়ানডে উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন সিকান্দার রাজা। শেষ দিকে মুস্তাফিজুর রহমানের একটি ছক্কা ও তাসকিনের চারে স্কোর কিছুটা বাড়লেও ১৭২ রানেই শেষ হয় বাংলাদেশের ইনিংস। জিম্বাবুয়ের হয়ে বল হাতে ৬ দশমিক ৪ ওভারে ৪৫ রান দিয়ে সর্বোচ্চ চারটি উইকেট লাভ করেন পেসার ব্র্যাড ইভান্স।
