Published on
:
2 min read
এই সময়, মেদিনীপুরঃ দুর্গাপুজো এলেই তাঁদের আনন্দের প্রকাশ ঘটে গানের সুরে আর নাচের ছন্দে। গায়ে ঐতিহ্যবাহী পোশাক, মুখে লোকগান আর পায়ের তালে তালে নৃত্য—দুর্গাপুজোর দিনগুলিতে মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে দাঁসাই নৃত্যের মাধ্যমে আনন্দ ছড়িয়ে দেন আদিবাসী সমাজের মানুষজন। তাঁদের এই ঐতিহ্যবাহী লোকনৃত্য উৎসবের আবহে এনে দেয় জঙ্গলমহলের নিজস্ব সংস্কৃতির ছোঁয়া।
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার মেদিনীপুর শহর থেকে শালবনি, পিড়াকাটা, কেশপুর, গোয়ালতোড়, -সহ বিভিন্ন এলাকায় দুর্গাপুজোর সময় চোখে পড়ে দাঁসাই নৃত্যের এই পরিচিত দৃশ্য। দলবদ্ধভাবে ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে, হাতে বাদ্যযন্ত্র নিয়ে গানের তালে তালে নাচতে নাচতে এগিয়ে যান শিল্পীরা। তাঁদের কণ্ঠে ভেসে আসে লোকগানের সুর। 'দে হেলে দে হেলে' গানের ছন্দে তাঁদের নাচ দেখতে ভিড় জমান দর্শনার্থীরা। বিগত কয়েকবছর ধরে পুজোমণ্ডপের সামনে তাঁদের উপস্থিতি হয়ে ওঠছে উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ। তবে মঙ্গল মুর্মু, দেবু সরেন, রামপদ হাঁসদারা বলেন, দাঁসাই নৃত্য শুধুমাত্র আনন্দ প্রকাশের মাধ্যম নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে আদিবাসী সমাজের নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয়, লোকবিশ্বাস এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বয়ে চলা ঐতিহ্য। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের জঙ্গলমহল অঞ্চলে এই নৃত্য ও গান আদিবাসী লোকসংস্কৃতির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ। তাঁদের কথায়- দুর্গাপুজোর সঙ্গে দাঁসাই নৃত্যের সম্পর্ক নিয়েও রয়েছে নানা লোকবিশ্বাস ও সাংস্কৃতিক ব্যাখ্যা। কিছু আদিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রচলিত লোককথা ও বিশ্বাসে দেবী দুর্গার সঙ্গে মহিষাসুরের কাহিনি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। সেই কারণে দুর্গাপুজোর সময় দাঁসাই নৃত্যের মাধ্যমে আদিবাসী সমাজের লোকজন তাঁদের সাংস্কৃতিক পরিচয়, লোকবিশ্বাস এবং নিজস্ব ঐতিহ্যের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তবে দাঁসাই নৃত্যের সঙ্গে দুর্গাপুজোর সম্পর্ক সব আদিবাসী সম্প্রদায়ের কাছে একরকম নয়।
এই নৃত্যে অংশ নেওয়া শিল্পীদের কথায়- ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখার তাগিদ। দুর্গাপুজোর সময় বিভিন্ন মণ্ডপে নাচ-গান করে মানুষের আনন্দে সামিল হওয়ার পাশাপাশি নিজেদের সংস্কৃতিকেও সবার সামনে তুলে ধরার সুযোগ মেলে। নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েরাও যাতে এই নাচ ও গান শিখে নিজেদের ঐতিহ্যকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে, সেই চেষ্টাও করা হয়।
