শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঢাকা মহানগরীতে সর্বাত্মক নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। পূজাকে কেন্দ্র করে গুজব, অপতথ্য ও অপপ্রচার প্রতিরোধে সাইবার মনিটরিং কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট কিংবা উৎসবের পরিবেশ নষ্ট করার যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে বলে জানিয়েছেন- ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। শুক্রবার শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির পরিদর্শন শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
কমিশনার বলেন, এ বছর ঢাকা মহানগরীতে ২৫৭টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি মণ্ডপের গুরুত্ব, ভক্ত ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতি এবং সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় পূজামণ্ডপগুলোকে চারটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপে দিনরাত ২৪ ঘণ্টা পুলিশের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে। তিনি বলেন, পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ পূজামণ্ডপগুলোর প্রবেশপথে আর্চওয়ে স্থাপন করা হয়েছে, যাতে নিরাপত্তা তল্লাশি কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা যায়। নিয়মিত দায়িত্বের অতিরিক্ত হিসেবে পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের মোট ২ হাজার ৭২ জন সদস্য পূজার নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবেন।
পূজার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিএমপি’র বিভিন্ন বিভাগের সদস্যরা সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবেন উল্লেখ করে কমিশনার বলেন, পূজামণ্ডপের আশপাশে নিয়মিত টহল, সন্দেহজনক ব্যক্তি ও বস্তুর ওপর নজরদারি এবং যেকোনো অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সোয়াট, এক্সপ্লোসিভ রিকভারি অ্যান্ড বম্ব ডিসপোজাল টিম, ডগ স্কোয়াড ও ক্রাইম সিন ইউনিট সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে। বিজয়া দশমীর প্রতিমা বিসর্জন উপলক্ষেও বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে বলে জানান- ডিএমপি কমিশনার। তিনি বলেন, ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির থেকে বিসর্জন শোভাযাত্রা শুরু হয়ে ওয়াইজঘাটে গিয়ে শেষ হবে। শোভাযাত্রার পথ, জনসমাগম ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে। সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে শোভাযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখা এবং জনসাধারণের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, ভুলতথ্য ও অপতথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির প্রবণতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, ভুলতথ্য ও অপতথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা দেখা যায়। দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে এ ধরনের অপপ্রচার প্রতিরোধে ডিএমপি’র সাইবার মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। কোনো সন্দেহজনক ঘটনা বা নিরাপত্তাসংক্রান্ত তথ্য চোখে পড়লে তা দ্রুত নিকটস্থ থানা বা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ জানানোর অনুরোধ করেন তিনি।
