নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের বেনাপোল পোর্ট থানা এলাকায় নিজের জমিতে বাড়ি নির্মাণ করতে গিয়ে সন্ত্রাসী চক্রের চাঁদা দাবি ও সশস্ত্র হামলার শিকার হয়েছেন মো. হযরত আলী (৬৭) নামে এক প্রবাসফেরত ব্যবসায়ী। ২০ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো ছাড়াও জমি দখল এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আদালতে মামলা দায়ের করলেও আসামিদের অব্যাহত হুমকিতে পরিবার নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেছেন এই ভুক্তভোগী।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বেলা ১২টায় প্রেসক্লাব যশোরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে হযরত আলী ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা এসব চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ও মামলার আরজি সূত্রে জানা যায়, গত ৬ সেপ্টেম্বর সকালে বেনাপোল পোর্ট থানা এলাকায় হযরত আলীর পৈতৃক ও ক্রয়কৃত জমিতে বসতবাড়ি নির্মাণের কাজ চলছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, এসময় ওই এলাকার চিহ্নিত একদল সন্ত্রাসী পিস্তল, রামদা ও দেশীয় ধারালো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা নির্মাণকাজ বন্ধ করে সরাসরি ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সন্ত্রাসীরা কাজ বন্ধ করে দেয় এবং হযরত আলীকে হত্যার উদ্দেশ্যে পিস্তল ও রামদা দিয়ে হামলা চালিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। পরবর্তীতে স্থানীয়রা তাঁদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
হামলার ঘটনার পর সন্ত্রাসী চক্রটি হযরত আলীর পরিবারের জমিজমা জোরপূর্বক দখল করে নেওয়ার হুমকি অব্যাহত রাখে। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে একাধিক অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আসামি করে ‘বেনাপোল পোর্ট আমলি আদালতে’ একটি মামলা দায়ের করেন।
তবে ভুক্তভোগীদের দাবি, আদালতে মামলা দায়েরের পর থেকে আসামীরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছে। মামলা প্রত্যাহার না করলে পরিণতি ভয়াবহ হবে বলে প্রতিনিয়ত মোবাইল ও বিভিন্ন মাধ্যমে পরিবারটিকে হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছে। এতে চরম জীবন ও মল্ল শংকায় দিন কাটাচ্ছেন পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারটি ঘটনার সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা, জড়িত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা এবং পরিবারটির জীবনের সুরক্ষা দিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় জেলা প্রশাসনের দ্রুত ও জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।#
