পরিবেশবান্ধব বিনিয়োগ, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি ও সুশাসন-ব্যাংক খাতে টেকসই উন্নয়নের আলোচনায় বিষয়গুলো ক্রমেই গুরুত্ব পাচ্ছে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সবুজ অর্থায়ন, নারী উদ্যোক্তাদের ঋণ এবং করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার (ঈঝজ) নানা উদ্যোগের তথ্য প্রকাশ করছে। তবে এসব উদ্যোগ ও টেকসই উন্নয়ন কৌশলে শিশুদের অধিকার কতটা গুরুত্ব পাচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। শিশু অধিকার কেবল শিশুশ্রম প্রতিরোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত শিল্পকারখানা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম শিশুদের জীবন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও নিরাপত্তায় কী প্রভাব ফেলছে, সরবরাহ শৃঙ্খলে শিশুশ্রমের ঝুঁকি কীভাবে শনাক্ত ও মোকাবিলা করা হচ্ছে এবং শিশুদের কল্যাণে সামাজিক বিনিয়োগের বাস্তব ফলাফল কীÑ এসব বিষয়ও এর অন্তর্ভুক্ত। তাই টেকসই ব্যাংকিংয়ের কার্যকারিতা মূল্যায়নে শিশু অধিকার কতটা বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।
ইউনিসেফ ও দ্য সেন্টারের যৌথ গবেষণা গধশরহম ঈযরষফৎবহ ঈড়ঁহঃ: ঝঁংঃধরহধনরষরঃু জবঢ়ড়ৎঃরহম অপৎড়ংং ঊসবৎমরহম অংরধ-তে এশিয়ার ৯টি বাজারের ১ হাজার ৩৯৯টি তালিকাভুক্ত কোম্পানির টেকসই উন্নয়নবিষয়ক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ২০২৬ সালে প্রকাশিত এ গবেষণায় দেখা যায়, প্রায় ৭৪ শতাংশ কোম্পানি মানবাধিকার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অঙ্গীকারের কথা জানিয়েছে। অথচ মাত্র ৫ শতাংশ কোম্পানি শিশুদের স্বতন্ত্র অংশীজন হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং মাত্র ১ শতাংশ তাদের গুরুত্বপূর্ণ টেকসই উন্নয়নসংক্রান্ত ঝুঁকি ও প্রভাব মূল্যায়নে শিশু অধিকার অন্তর্ভুক্ত করেছে। এই পরিসংখ্যান এশিয়ার ৯টি বাজারের সম্মিলিত চিত্র তুলে ধরে; বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোর পৃথক অবস্থান নির্দেশ করে না। তবে করপোরেট টেকসই উন্নয়ন প্রতিবেদনে শিশু অধিকারকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা এতে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
টেকসই ব্যাংকিংয়ে স্বীকৃতি, শিশু অধিকার কোথায়?
বাংলাদেশ ব্যাংকের টেকসই ব্যাংকিং মূল্যায়নে দেশের কয়েকটি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান নিয়মিত স্বীকৃতি পাচ্ছে। ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি, সিটি ব্যাংক পিএলসি ও আইডিএলসি ফাইন্যান্স পিএলসির প্রকাশিত প্রতিবেদনে পরিবেশগত দায়বদ্ধতা, সবুজ অর্থায়ন, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি, করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) এবং সুশাসনসংক্রান্ত বিভিন্ন উদ্যোগের তথ্য রয়েছে। ব্র্যাক ব্যাংকের প্রতিবেদনে টেকসই অর্থায়ন ও পরিবেশগত-জলবায়ু ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, আইডিএলসি ফাইন্যান্সের প্রতিবেদনে সবুজ অর্থায়ন ও পরিবেশগত লক্ষ্য এবং সিটি ব্যাংকের প্রতিবেদনে সামাজিক অন্তর্ভুক্তি, নারী উদ্যোক্তাদের আর্থিক সেবা ও পরিবেশবান্ধব খাতে অর্থায়নের উদ্যোগ তুলে ধরা হয়েছে। তবে এসব কার্যক্রমের তথ্য দিয়ে শিশু অধিকার সুরক্ষায় প্রতিষ্ঠানগুলোর অগ্রগতি সরাসরি নির্ধারণ করা যায় না। এ জন্য দেখতে হবে, ঋণ অনুমোদনের আগে ও পরে গ্রাহক প্রতিষ্ঠানের সামাজিক ঝুঁকি যাচাই করা হয় কি না, সরবরাহ শৃঙ্খলে শিশুশ্রমের ঝুঁকি শনাক্ত ও মোকাবিলায় কী ব্যবস্থা রয়েছে এবং শিশুদের অধিকার ক্ষুণœ হওয়ার ঘটনা সামনে এলে প্রতিকারমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয় কি না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাসটেইনেবিলিটি রেটিং ২০২৪ অনুযায়ী, ১০টি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক ও দুটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে শীর্ষ টেকসই আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ব্র্যাক ব্যাংক ও সিটি ব্যাংক টানা পঞ্চমবারের মতো শীর্ষ ১০ ব্যাংকের তালিকায় এবং আইডিএলসি ফাইন্যান্স আর্থিক প্রতিষ্ঠান শ্রেণিতে শীর্ষ তালিকায় স্থান পেয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মূল্যায়নে টেকসই অর্থায়ন, সবুজ প্রকল্পে অর্থায়ন, করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা, মূল ব্যাংকিং কার্যক্রমের টেকসই সূচক এবং ব্যাংকিং সেবার আওতাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করা হয়। এসব সূচক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিবেশগত ও সামাজিক কার্যক্রম, আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং সেবার বিস্তৃতি সম্পর্কে ধারণা দেয়। তবে সামগ্রিক টেকসই ব্যাংকিং মূল্যায়নে স্বীকৃতি পাওয়া মানেই শিশু অধিকার সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া নয়। এ ক্ষেত্রে শিশু অধিকারবিষয়ক সুনির্দিষ্ট নীতি, সরবরাহ শৃঙ্খলে নজরদারি, সামাজিক বিনিয়োগের লক্ষ্য এবং তার পরিমাপযোগ্য ফলাফল আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
শিশু অধিকারকে ঋণঝুঁকি মূল্যায়নের অংশ করার তাগিদ
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আরিফুর রহমান খান বলেন, পরিবেশগত, সামাজিক ও সুশাসনবিষয়ক (ইএসজি) কাঠামোর সামাজিক সূচকে শিশু অধিকারকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। টেকসই ব্যাংকিংয়ের মূল্যায়নে পরিবেশগত ঝুঁকি ও সুশাসনের পাশাপাশি ব্যাবসায়িক কার্যক্রম শিশুদের জীবন, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও বিকাশে কী প্রভাব ফেলছে, তা বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। শিশু অধিকারকে শুধু করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার (সিএসআর) কর্মসূচি, শিক্ষাসহায়তা কিংবা ডে-কেয়ার সুবিধার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ব্যাংকের ঋণনীতি, গ্রাহক যাচাই এবং পরিবেশগত ও সামাজিক ঝুঁকি মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে তিনটি বিষয় বিশেষভাবে বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে। প্রথমত, ব্যাংকের অর্থায়ন পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদন ও সরবরাহ শৃঙ্খলে শিশুশ্রম, বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রমের সম্ভাবনা যাচাই করা এবং ঝুঁকি শনাক্ত হলে প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কি না, তা মূল্যায়ন করা। দ্বিতীয়ত, ব্যাংকের নিজস্ব কর্মপরিবেশে মাতৃত্বকালীন ও পিতৃত্বকালীন সুবিধা, বুকের দুধ খাওয়ানোর উপযোগী স্থান এবং মানসম্মত শিশু পরিচর্যার ব্যবস্থা কতটা কার্যকর, তা পর্যালোচনা করা। তৃতীয়ত, সুবিধাবঞ্চিত ও কর্মজীবী শিশুদের জন্য উপযোগী আর্থিক সেবা, ক্ষুদ্র সঞ্চয় হিসাব এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তির সুযোগ কতটা কার্যকরভাবে নিশ্চিত করা হচ্ছে, তা বিবেচনায় নেওয়া। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিবেশগত ও সামাজিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কাঠামো এবং শিশুদের জন্য বিশেষায়িত আর্থিক অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হতে পারে। তবে নীতিমালায় কোনো বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকাই যথেষ্ট নয়; বাস্তবে তা কতটা অনুসরণ করা হচ্ছে, ঝুঁকি শনাক্ত হলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং শিশুদের জীবনে কী পরিবর্তন আসছে, তারও পরিমাপযোগ্য প্রমাণ থাকা প্রয়োজন। এর জন্য টেকসই ব্যাংকিংয়ের মূল্যায়নে শিশু অধিকারবিষয়ক সুনির্দিষ্ট সূচক, তথ্য প্রকাশের মানদ- এবং জবাবদিহির ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। এতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর টেকসই কার্যক্রমের মূল্যায়ন আরও বাস্তবভিত্তিক হবে এবং শিশু অধিকার সুরক্ষায় করপোরেট খাতের ভূমিকা নিরূপণ সহজ হবে।
ব্যাংকগুলোর টেকসই অর্থায়নে শিশু অধিকার, নীতির বাইরে বাস্তবায়নের প্রশ্ন : ব্র্যাক ব্যাংক, সিটি ব্যাংক ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের টেকসই অর্থায়ন কার্যক্রম পর্যালোচনায় একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে আসে পরিবেশগত ও সামাজিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় শিশু অধিকার কতটা সুনির্দিষ্টভাবে বিবেচিত হচ্ছে? সবুজ অর্থায়ন, নারী উদ্যোক্তাদের ঋণ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসার প্রসার কিংবা সামাজিক দায়বদ্ধতার কর্মসূচি টেকসই উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু এসব উদ্যোগের পাশাপাশি অর্থায়ন পাওয়া প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে শিশুশ্রমের ঝুঁকি, শিশুদের নিরাপত্তা এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে অধিকার লঙ্ঘনের আশঙ্কা কীভাবে মোকাবিলা করা হচ্ছে, তারও স্পষ্ট প্রমাণ থাকা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর নীতিমালায় শিশু অধিকারবিষয়ক অঙ্গীকারের উল্লেখের পাশাপাশি বাস্তব প্রয়োগের তথ্য প্রকাশ গুরুত্বপূর্ণ। ঋণ অনুমোদনের আগে ঝুঁকি যাচাই, ঝুঁঁকিপূর্ণ খাত বা প্রতিষ্ঠানের ওপর বাড়তি নজরদারি, অভিযোগ গ্রহণ, সংশোধনমূলক ব্যবস্থা এবং পরবর্তী তদারকির তথ্য প্রকাশ করা হলে দায়িত্বশীল অর্থায়নের কার্যকারিতা মূল্যায়ন সহজ হবে। একই সঙ্গে শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কল্যাণে সামাজিক বিনিয়োগের পরিমাণের পাশাপাশি প্রকৃত উপকারভোগী ও দীর্ঘমেয়াদি ফল তুলে ধরা প্রয়োজন।
তবে এ ধরনের মূল্যায়নের জন্য শুধু ব্যাংকের নিজস্ব প্রতিবেদন যথেষ্ট নয়; নীতিমালা, বাস্তবায়নের নথি, সংশ্লিষ্ট অংশীজনের বক্তব্য এবং যাচাইযোগ্য ফলও বিবেচনায় নিতে হবে। শিশু অধিকারকে টেকসই ব্যাংকিংয়ের মূল্যায়নে কার্যকরভাবে যুক্ত করতে হলে সুনির্দিষ্ট সূচক, নিয়মিত তথ্য প্রকাশ এবং জবাবদিহির ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। এতে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর টেকসই উন্নয়নের অঙ্গীকারের সঙ্গে শিশুদের অধিকার সুরক্ষার বাস্তব অগ্রগতির তুলনা করা সম্ভব হবে।
নীতিমালার পাশাপাশি প্রয়োজন পরিমাপযোগ্য ফল : গবেষণা সংস্থা চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের রিসার্চ ফেলো ও অর্থনীতি বিশ্লেষক এম হেলাল আহমেদ জনি বলেন, শিশু অধিকার সুরক্ষায় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা মূল্যায়নের জন্য নীতিমালা ও অঙ্গীকারের পাশাপাশি বাস্তবায়নের পরিমাপযোগ্য সূচক থাকা জরুরি। ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে শিশুশ্রমের ঝুঁকি যাচাই করা হয়েছে কি না, কতটি ক্ষেত্রে ঝুঁকি শনাক্ত হয়েছে, শনাক্ত হওয়ার পর কী ধরনের সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তী তদারকিতে কী অগ্রগতি পাওয়া গেছেÑ এসব তথ্য নিয়মিত প্রকাশ করা হলে দায়িত্বশীল অর্থায়নের কার্যকারিতা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। একই সঙ্গে শিশু অধিকারবিষয়ক অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তির ব্যবস্থা এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে নজরদারির পরিধিও মূল্যায়নের আওতায় আনা প্রয়োজন। সামাজিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও শুধু অর্থ ব্যয় বা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা দিয়ে সাফল্য নির্ধারণ করা যথেষ্ট নয়। শিশুদের শিক্ষা অব্যাহত রাখা, স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া, নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা কিংবা আর্থিক সেবায় প্রবেশাধিকারের ক্ষেত্রে কী পরিবর্তন এসেছে, তা যাচাইয়ের ব্যবস্থা থাকা দরকার। এ জন্য কর্মসূচি শুরুর আগের অবস্থা ও পরবর্তী ফলের তুলনা, উপকারভোগীদের অভিজ্ঞতা এবং প্রয়োজনে স্বাধীন মূল্যায়ন গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
ব্র্যাক ব্যাংক, আইডিএলসি ফাইন্যান্স ও সিটি ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানের জন্য শিশু অধিকারবিষয়ক সুনির্দিষ্ট সূচক ও তথ্য প্রকাশের ব্যবস্থা গড়ে তোলা টেকসই অর্থায়নের সামাজিক দিককে আরও স্পষ্ট করতে পারে। তবে এসব সূচক বর্তমানে প্রতিষ্ঠানগুলোর বাধ্যতামূলক নীতিমালায় রয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট নথি থেকে যাচাই করা প্রয়োজন। নীতিমালা, বাস্তব প্রয়োগ ও ফলের মধ্যে যোগসূত্র প্রতিষ্ঠিত হলে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি বাড়বে এবং শিশু অধিকার সুরক্ষায় করপোরেট খাতের অবদান আরও নির্ভরযোগ্যভাবে মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে।
সামাজিক বিনিয়োগের সাফল্য পরিমাপে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি জরুরি
স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শিশুকেন্দ্রিক সামাজিক বিনিয়োগের প্রকৃত কার্যকারিতা নিরূপণে বরাদ্দ, কার্যক্রম ও ফলাফলের মধ্যে স্পষ্ট যোগসূত্র থাকা প্রয়োজন। কোন প্রকল্পে কত টাকা ব্যয় হয়েছে বা কতজন শিশু সহায়তা পেয়েছে, তা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য; তবে এর পাশাপাশি শিশুদের শিক্ষা অব্যাহত রাখা, চিকিৎসাসেবা পাওয়া, পুষ্টির উন্নতি, নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘমেয়াদে জীবনমানের পরিবর্তন ঘটেছে কি না, তা মূল্যায়ন করাও জরুরি। এ জন্য প্রকল্পভিত্তিক তথ্য প্রকাশ, উপকারভোগীদের অভিজ্ঞতা যাচাই এবং নিয়মিত ফল মূল্যায়নের ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত শিশু, প্রতিবন্ধী শিশু, পথশিশু ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে বসবাসকারী শিশুদের ক্ষেত্রে সহায়তা কতটা প্রয়োজনভিত্তিক এবং টেকসই, তা বিবেচনায় নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে সামাজিক বিনিয়োগের তথ্য প্রকাশে প্রকল্পের মেয়াদ, অর্থের উৎস, বাস্তবায়নকারী সংস্থা, উপকারভোগীর সংজ্ঞা এবং ফল পরিমাপের পদ্ধতি স্পষ্ট করা দরকার। এতে একই শিশুকে একাধিক কর্মসূচিতে গণনা করার ঝুঁকি কমবে এবং প্রকৃত উপকারভোগীর সংখ্যা ও অর্জিত ফল সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য ধারণা পাওয়া যাবে।