স্পেন, ফ্রান্স, ইতালি ও পোল্যান্ডসহ একাধিক দেশে ভোটের লড়াইয়ে বাড়তে পারে উগ্র ডানপন্থীদের প্রভাব। জাতীয়তাবাদী শক্তির উত্থানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ঐক্য, প্রতিরক্ষা, অভিবাসননীতি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা পড়তে পারে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে।
ইউরোপে শুরু হতে যাচ্ছে এক গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী অধ্যায়। আগামী এক বছরে মহাদেশটির একাধিক দেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, যার ফলাফল ইউরোপের রাজনৈতিক ভারসাম্য বদলে দিতে পারে। বিশেষ করে স্পেন, ফ্রান্স, ইতালি ও পোল্যান্ডে উগ্র ডানপন্থী এবং জাতীয়তাবাদী দলগুলো ক্ষমতায় এলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ভবিষ্যত পথচলা নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।
বিজ্ঞাপন
ইউরোপের অর্থনীতি, নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে যৌথ সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন থাকলেও দেশগুলোর রাজনীতি পরিচালিত হয় মূলত নিজ নিজ জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে। ফলে সদস্যদেশগুলোর সরকার ভিন্ন রাজনৈতিক আদর্শে পরিচালিত হলে ইইউর অভিন্ন নীতি বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে আগামী নির্বাচনী চক্রে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দেশে ডানপন্থী শক্তির সাফল্য ইউরোপের রাজনৈতিক গতিপথে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
স্পেনে আগাম নির্বাচন, শুরু হচ্ছে রাজনৈতিক পরীক্ষা
ইউরোপের আসন্ন নির্বাচনী পরিস্থিতির প্রথম বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে স্পেনে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ সম্প্রতি আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন। পার্লামেন্টে তার সরকারের আবাসন সংস্কার প্রস্তাব আটকে যাওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত আসে।
রক্ষণশীল পিপলস পার্টি (পিপি), উগ্র ডানপন্থী ভক্স এবং কাতালোনিয়ার স্বাধীনতাপন্থী দল জুন্টসের বিরোধিতায় প্রস্তাবটি বাধার মুখে পড়ে। এর পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক সমর্থন নতুন করে যাচাই করার পথে হাঁটছেন সানচেজ।
আগামী মাসে অনুষ্ঠেয় এই নির্বাচনে সমাজতান্ত্রিক সরকারের সামনে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা অপেক্ষা করছে। জনমত জরিপে রক্ষণশীল পিপি ও তাদের সম্ভাব্য মিত্র ভক্স এগিয়ে রয়েছে।
নির্বাচনে সানচেজ পরাজিত হলে স্পেনে রক্ষণশীল ও উগ্র ডানপন্থীদের সমন্বয়ে সরকার গঠনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এমন ঘটনা ইউরোপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দেশে রাজনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্য পাল্টে দেবে।
সানচেজ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রগতিশীল রাজনীতির একজন পরিচিত মুখ। তার সরকারের পতন হলে ইউরোপের মধ্যপন্থী ও বামপন্থী শক্তিগুলোর জন্যও তা বড় ধাক্কা হতে পারে।
ফ্রান্স, ইতালি ও পোল্যান্ডেও গুরুত্বপূর্ণ লড়াই
স্পেনের পাশাপাশি আগামী এক বছরে ফ্রান্স, ইতালি, পোল্যান্ড, ফিনল্যান্ড, গ্রিস, এস্তোনিয়া ও স্লোভাকিয়ায় নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। এসব নির্বাচনের মধ্যে ফ্রান্স, ইতালি ও পোল্যান্ডের ফলাফল ইউরোপীয় রাজনীতিতে বিশেষ প্রভাব ফেলতে পারে।
ফ্রান্সে উগ্র ডানপন্থী ন্যাশনাল র্যালি দলের নেতা মেরিন লে পেনের প্রেসিডেন্ট হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। মূলধারার বিরোধী দলগুলো ভোটারদের সমর্থন আদায়ে কতটা সফল হয়, তার ওপরও নির্বাচনের গতিপথ নির্ভর করবে।
ইতালিতে প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির নেতৃত্বাধীন সরকার আবারও ক্ষমতায় আসতে পারে। তবে তার রাজনৈতিক জোটে আরও কট্টর ডানপন্থী শক্তির অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে। এতে দেশটির অভ্যন্তরীণ নীতি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্কের ওপর প্রভাব পড়তে পারে।
পোল্যান্ডেও জাতীয়তাবাদী ল অ্যান্ড জাস্টিস পার্টি (পিআইএস) আবার ক্ষমতায় ফেরার চেষ্টা করবে। দলটি ২০১৫ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত দেশটি শাসন করেছে। বর্তমানে দলটির সমর্থনভিত্তিতে পরিবর্তন ঘটছে এবং আরও কট্টর ডানপন্থী কয়েকটি দল তাদের ভোটারদের একটি অংশের সমর্থন পাচ্ছে।
এই দেশগুলোতে ডানপন্থী দলগুলোর সাফল্য শুধু জাতীয় সরকারের পরিবর্তন ঘটাবে না; ইউরোপীয় ইউনিয়নের নীতিনির্ধারণেও নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।
ইউরোপে ডানপন্থীদের উত্থান কেন?
ইউরোপে ডানপন্থী রাজনীতির বিস্তার নতুন নয়। গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন দেশে অভিবাসন, জাতীয় পরিচয়, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তার প্রশ্নকে সামনে রেখে এসব দলের জনপ্রিয়তা বেড়েছে।
একই সময়ে প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি ভোটারদের আস্থায় পরিবর্তন এসেছে। অনেক দেশে পুরোনো দলগুলোর প্রতি দীর্ঘদিনের আনুগত্য কমছে, রাজনৈতিক ব্যবস্থায় নতুন দল প্রবেশ করছে এবং ভোটারদের মধ্যে বিভাজন বাড়ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও এই পরিবর্তনে ভূমিকা রাখছে। রাজনৈতিক বার্তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ তৈরি হলেও ভিন্নমত ও আদর্শের মধ্যে মেরুকরণ বাড়ছে। জটিল অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমস্যার সহজ সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ডানপন্থী দলগুলো ভোটারদের একটি অংশের সমর্থন আদায় করতে পারছে।
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, দুর্বল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, সরকারি অর্থের ওপর চাপ এবং অভিবাসন নিয়ে উদ্বেগও প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এসব সমস্যার কার্যকর সমাধান দিতে না পারলে মধ্যপন্থী দলগুলোর সমর্থন আরও কমতে পারে।
তবে ইউরোপের সব দেশেই যে ডানপন্থীদের সমর্থন বাড়ছে, বিষয়টি এমন নয়। নেদারল্যান্ডস, হাঙ্গেরি ও সুইডেনের সাম্প্রতিক নির্বাচনী ঘটনাপ্রবাহে তাদের অগ্রযাত্রা বাধার মুখে পড়ার নজিরও রয়েছে। ফলে আসন্ন নির্বাচনের ফলাফল একদিকে যাওয়ার নিশ্চয়তা নেই।
ইইউর সিদ্ধান্ত গ্রহণে তৈরি হতে পারে অচলাবস্থা
উগ্র ডানপন্থী ও জাতীয়তাবাদী দলগুলো একাধিক বড় দেশে সরকার গঠন করতে পারলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিন্ন নীতি বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
ইইউতে গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য সদস্যদেশগুলোর মধ্যে সমঝোতা প্রয়োজন। সব বিষয়ে একই ধরনের ভোটের নিয়ম প্রযোজ্য না হলেও, কিছু গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সদস্যদেশগুলোর সম্মতি বা বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অপরিহার্য।
স্পেন, ফ্রান্স, ইতালি ও পোল্যান্ডের মতো দেশগুলোতে জাতীয়তাবাদী সরকার একযোগে ক্ষমতায় এলে তারা ইইউর নীতিগত পরিবর্তন ঠেকানোর মতো একটি বাধাদানকারী জোট গড়ে তুলতে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে ইউরোপের আর্থিক সহযোগিতা, জ্বালানি নীতি, প্রতিরক্ষা এবং প্রযুক্তি খাতে আরো গভীর একীভূতকরণের উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। ফলে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় ইউরোপের সম্মিলিত অবস্থান দুর্বল হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
এর প্রভাব শুধু অর্থনৈতিক নীতিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না। ইউক্রেনকে সহায়তা, রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক এবং ইউরোপের নিরাপত্তা কাঠামো নিয়েও সদস্যদেশগুলোর মধ্যে মতবিরোধ বাড়তে পারে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হলো, জাতীয় সরকারের রাজনৈতিক অগ্রাধিকার ভিন্ন হলেও অভিন্ন স্বার্থের বিষয়ে কীভাবে সমঝোতা বজায় রাখা যায়।
মেলোনির রাজনৈতিক অবস্থান কি বদলে যেতে পারে?
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকে প্রায়ই এমন একজন জাতীয়তাবাদী নেতা হিসেবে দেখা হয়, যিনি ক্ষমতায় এসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে তুলনামূলক বাস্তববাদী অবস্থান নিয়েছেন।
ইতালির অর্থনৈতিক নীতি, ইইউর আর্থিক নিয়ম এবং ইউক্রেনকে সমর্থনের মতো বিষয়ে তার সরকারের অবস্থান ইউরোপের অন্য নেতাদের সঙ্গে সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করেছে।
তবে মেলোনির রাজনৈতিক অবস্থানের এই ধরন ইউরোপের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিবেশের ওপরও নির্ভরশীল। তার চারপাশে যদি আরও কট্টর জাতীয়তাবাদী নেতাদের প্রভাব বাড়ে, তাহলে ইতালির সরকারের নীতিতেও পরিবর্তন আসতে পারে।
ফ্রান্সে লে পেন, পোল্যান্ডে জারোস্লাভ কাচিনস্কির নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক শক্তি এবং স্পেনে ভক্সের প্রভাব বাড়লে মেলোনির ওপরও ডানপন্থী অবস্থান আরও জোরালো করার চাপ তৈরি হতে পারে।
অন্যদিকে ইউরোপের কয়েকটি ডানপন্থী দল মেলোনির বর্তমান নীতিকে অতিরিক্ত সমঝোতামূলক বলে সমালোচনা করে। তাদের চাপ সামাল দিতে গিয়ে তিনি আরও কঠোর অবস্থান নেবেন কি না, সেটিও ভবিষ্যতের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
ইউরোপের ঐক্য কি ভাঙনের মুখে?
ইউরোপীয় ইউনিয়ন কয়েক দশক ধরে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, অভিন্ন বাজার এবং রাজনৈতিক সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী আঞ্চলিক কাঠামো গড়ে তুলেছে। কিন্তু জাতীয়তাবাদী রাজনীতির উত্থান এই কাঠামোর ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
যদি একাধিক বড় দেশে একই সময়ে জাতীয়তাবাদী সরকার ক্ষমতায় আসে, তাহলে ইইউর নীতিগত অগ্রগতি ধীর হয়ে যেতে পারে। সদস্যদেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতার পরিবর্তে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রবণতা বাড়লে ইউনিয়নের কার্যকারিতাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এমন পরিবর্তন শুধু ইইউর সম্প্রসারণ বা নতুন নীতি গ্রহণের গতি কমাবে না; বরং ইউনিয়নটির মূল উদ্দেশ্য ও কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলতে পারে। বিশেষ করে আগামী সাত বছরের বাজেট নিয়ে সমঝোতা না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
তবে নির্বাচনে ডানপন্থীদের সাফল্য মানেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের অবসান—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। বরং নির্বাচনী ফলাফল, দলগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক এবং ক্ষমতায় যাওয়ার পর তাদের বাস্তব নীতির ওপর নির্ভর করবে ইউরোপের ভবিষ্যৎ।
ব্রেক্সিটের পর ইউরোপের দিকে ফিরছে যুক্তরাজ্য?
ইউরোপের রাজনৈতিক ঐক্য যখন নতুন চাপের মুখে, তখন যুক্তরাজ্যের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্পর্ক পুনর্বিবেচনার আলোচনা নতুন তাৎপর্য পাচ্ছে। ২০১৬ সালের গণভোটের পর যুক্তরাজ্য ইইউ থেকে বেরিয়ে যায়। কিন্তু গত এক দশকে ব্রেক্সিটের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে দেশটিতে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
যুক্তরাজ্যে এখন ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার বিষয়ে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ব্রেক্সিটের ক্ষতিকর দিকগুলো স্বীকার করে ইউরোপীয় ইউনিয়নে পুনরায় যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করছেন।
তবে ইইউতে পুনরায় যোগ দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাজ্যের কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা নিবন্ধে বলা হয়নি। আপাতত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠন এবং সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা।
এখানে একটি বড় বৈপরীত্য দেখা যাচ্ছে: ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভেতরে জাতীয়তাবাদী রাজনীতি ঐক্যকে দুর্বল করার আশঙ্কা তৈরি করছে, অন্যদিকে ইউনিয়নের বাইরে থাকা যুক্তরাজ্যের একাংশ আবার সেই ঐক্যের মূল্য উপলব্ধি করছে।
আগামী এক বছরই হতে পারে ইউরোপের জন্য নির্ধারক
আসন্ন নির্বাচনগুলো ইউরোপের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হতে যাচ্ছে। স্পেনের আগাম ভোট দিয়ে শুরু হওয়া এই নির্বাচনী পর্বে ফ্রান্স, ইতালি ও পোল্যান্ডের ফলাফল বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হবে।
ডানপন্থী দলগুলো ক্ষমতা ধরে রাখতে বা নতুন দেশে সরকার গঠন করতে পারলে অভিবাসন, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, অর্থনীতি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় ইউরোপের নীতিগত অবস্থান বদলে যেতে পারে। বিপরীতে, মধ্যপন্থী ও বামপন্থী দলগুলো সমর্থন ধরে রাখতে পারলে সেই পরিবর্তনের গতি সীমিত হতে পারে।
সব মিলিয়ে ইউরোপের সামনে এখন দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জ—একদিকে জাতীয় পর্যায়ে ভোটারদের অসন্তোষ ও রাজনৈতিক মেরুকরণ মোকাবিলা, অন্যদিকে মহাদেশীয় পর্যায়ে ঐক্য ও সহযোগিতা বজায় রাখা। আসন্ন নির্বাচনের ফলাফলই নির্ধারণ করবে, ইউরোপ আরও সমন্বিত রাজনৈতিক কাঠামোর দিকে এগোবে, নাকি জাতীয়তাবাদী রাজনীতির চাপে তার অভিন্ন নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়া আরো দুর্বল হয়ে পড়বে।
