ইরানে আবারও সামরিক হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সামরিক সরঞ্জাম, নৌবহর ও সেনা মোতায়েনের পাশাপাশি ইসরাইলি বাহিনীকে উচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখায় নতুন করে হামলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার সময় নিয়ে কথা বলেছেন তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাক।
তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ক্রমবর্ধমান হুমকির মধ্যে চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে ইরানে হামলা হতে পারে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) পডকাস্ট উপস্থাপক মারিও নওফালের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ব্যারাক বলেন, ‘এই সপ্তাহের শেষ দিকে হামলা হতে পারে কি? অবশ্যই।’
সিরিয়াবিষয়ক দায়িত্বে থাকা টম ব্যারাক উপসাগরীয় অঞ্চল সফরের সময় সাক্ষাৎকারটি দেন। তবে ইরানবিষয়ক বিষয়ে তাঁর সরাসরি কোনো দায়িত্ব নেই।
ব্যারাক বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান পরিষ্কার। তিনি একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী এবং আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। এ বিষয়ে কয়েক মাস ধরে আলোচনা চলছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে আগামী মঙ্গলবারের নির্বাচন সামনে রেখে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরানের ধর্মীয় শাসনব্যবস্থার পতন ঘটানোর অঙ্গীকার বারবার করেছেন। গত বছর ইরানের বিরুদ্ধে দুটি বড় ধরনের বোমা হামলা চালানোর পরও তিনি একই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।
দীর্ঘদিন ধরে কূটনৈতিক আলোচনা অচলাবস্থায় থাকায় ট্রাম্পও ইরানে নতুন করে হামলার বিষয়ে আগ্রহের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে এর আগে তিনি জানিয়েছিলেন, আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা চালানো হবে না।
নেতানিয়াহুর বক্তব্যের বিপরীতে ব্যারাক বলেন, ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রের শাসনব্যবস্থার পতন ঘটানো যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য নয়। ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের মধ্য দিয়ে পশ্চিমাপন্থি শাহের শাসনের অবসান হওয়ার পর থেকে ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের প্রতিপক্ষ হিসেবে পরিচিত।
ব্যারাক বলেন, ‘আপনারা যদি বিশ্ব, আমাদের মিত্র এবং উপসাগরীয় অঞ্চলকে হুমকি দিতে থাকেন, তাহলে এর পরিণতি ভোগ করতে হবে। তবে সেই পরিণতি শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন হবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট স্পষ্টভাবে বলেছেন, তিনি শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনে আগ্রহী নন।’
ব্যারাকের ভাষায়, ‘শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সব সময়ই একটি সমস্যা থাকে। আর তা হলো, পরিবর্তনের পরের দিন কী ঘটবে?’
এমএমটি
-20261024053953.jpg&w=1440&q=75)