স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান বলেন, নেপাল বাংলাদেশের এক বিশ্বস্ত ও পরীক্ষিত বন্ধু রাষ্ট্র। বাংলাদেশ সবসময় নেপালের পাশে রয়েছে এবং যেকোনো প্রয়োজনে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দেবে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারী সাক্ষাৎ করেছেন। আজ বুধবার সচিবালয়ে মন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় দুদেশের প্রতিনিধি দ্বিপক্ষীয় ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন এবং ভবিষ্যতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরো বাড়ানোর আশ্বাস দেন।
সাক্ষাৎকালে নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারী বলেন, বাংলাদেশ ও নেপালের রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে অনেক মিল রয়েছে এবং উভয় দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি প্রায় একই রকম।
শিক্ষাখাতে সহযোগিতার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে আড়াই হাজারের বেশি নেপালী শিক্ষার্থী চিকিৎসাবিদ্যায় পড়াশোনা করছেন। শিক্ষার এ ক্ষেত্রে সহায়তার সুযোগ আরো সম্প্রসারণ করা সম্ভব। এছাড়া রাষ্ট্রদূত নেপালে সম্প্রতি সংঘটিত ভয়াবহ বন্যার চিত্র তুলে ধরে জানান, বন্যাদুর্গত এলাকাগুলোর পুনর্নির্মাণের জন্য প্রায় ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন। এ প্রেক্ষাপটে তিনি বাংলাদেশের সার্বিক সহযোগিতার আহ্বান জানান।
নেপালের প্রস্তাবের জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান বলেন, নেপাল বাংলাদেশের এক বিশ্বস্ত ও পরীক্ষিত বন্ধু রাষ্ট্র। বাংলাদেশ সবসময় নেপালের পাশে রয়েছে এবং যেকোনো প্রয়োজনে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দেবে।
আঞ্চলিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী দক্ষিণ এশিয়া আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থাকে (সার্ক) পুনরায় সক্রিয় ও পুনরুজ্জীবিত করতে নেপালের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি বলেন, বৈশ্বিক বিভিন্ন ফোরামে বাণিজ্য, জলবায়ু পরিবর্তনসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে আঞ্চলিক দেশগুলো এককভাবে কথা না বলে যদি সম্মিলিতভাবে আওয়াজ তোলে, তবে আরো কার্যকর ও ফলপ্রসূভাবে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জিত হবে।
দুদেশের বাণিজ্য সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী আঞ্চলিক ও দ্বিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধির অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, আঞ্চলিক বাণিজ্য বৃদ্ধি পেলে প্রতিবেশী দেশগুলো তুলনামূলক সুবিধা পাবে, পরিবহন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং পণ্যের সঠিক মূল্য নিশ্চিত হবে। এর ফলে সাধারণ মানুষের প্রকৃত আয় বৃদ্ধি পাবে এবং তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে। একই সঙ্গে, বাণিজ্যের ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে নিজেদের দেশীয় শিল্প ও অর্থনীতিকে সুরক্ষা দেয়া অনেক সহজ হবে।
সাক্ষাৎকালে উভয় পক্ষই দুদেশের মধ্যকার সম্পর্ককে ভবিষ্যতে আরো সুদৃঢ় ও বহুমুখী করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
