জাতীয়: যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার চেষ্টার ঘটনায় কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। এই ধরনের অপতৎপরতা কোনোভাবেই বিনা চ্যালেঞ্জে যেতে দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর ২০২৬) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে ডা. জাহেদ উর রহমান বিমানবন্দরে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটিকে ‘আওয়ামী সন্ত্রাস’ হিসেবে চিহ্নিত করেন। তিনি বলেন, “সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে যাওয়ার পর রাষ্ট্রের দায়িত্ব নিয়েছিলেন বলেই তাঁর ওপর তাঁদের এত ক্ষোভ। বিমানবন্দরে যা ঘটেছে তা অত্যন্ত গর্হিত অপরাধ। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে এবং কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সম্প্রতি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর পাশাপাশি বিশিষ্ট অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনকেও একই কায়দায় হেনস্তা করার চেষ্টা করা হয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “প্রতিশোধের উদ্দেশ্যে নয়, বরং দেশে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে ফেরত চায় ঢাকা। যেকোনো জাতীয় পুনর্মিলনের প্রথম শর্তই হলো—গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের নিরপেক্ষ বিচার সম্পন্ন করা।”
আওয়ামী লীগের সঙ্গে জাতীয় পুনর্মিলনের সম্ভাবনা সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ উর রহমান সরাসরি তা নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, “প্রকাশ্যে সহিংসতা ও সন্ত্রাসে উস্কানি দেওয়ার চেষ্টা করা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সরকারের পক্ষ থেকে পুনর্মিলনের উদ্যোগ নেওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। বিগত দুই বছরের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এই দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে কোনো ধরনের ক্ষমা প্রার্থনা বা অনুতাপের লক্ষণ নেই। অনুতাপের বদলে তারা পদে পদে নানা সংকট তৈরি ও হুমকি দেওয়ার অপচেষ্টা করে যাচ্ছে। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে পুনর্মিলনের ন্যূনতম কোনো সুযোগ তিনি দেখছেন না।”
